সোমবার , ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রধান সংবাদ যুক্তরাজ্য ভাঙার নজিরবিহীন উদ্যোগ, কার্ডিফে তিন দেশের ফার্স্ট মিনিস্টারের ঐতিহাসিক বৈঠক
যুক্তরাজ্য ভাঙার নজিরবিহীন উদ্যোগ, কার্ডিফে তিন দেশের ফার্স্ট মিনিস্টারের ঐতিহাসিক বৈঠক

যুক্তরাজ্য থেকে পৃথক হওয়ার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক নেতৃত্ব। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফের সেন্ট ডেভিডস হোটেলে এক নজি…

মুরগি কাটার সময় পেটে পাওয়া ডিম কি খাওয়া উচিত?
মুরগি কাটার সময় পেটে পাওয়া ডিম কি খাওয়া উচিত? ১ দিন

মুরগি কাটার সময় অনেক সময় সেটির পেটে এক বা একাধিক ডিম পাওয়া যায়। কেউ এই ডিম সানন্দে রান্না করে খান, আবার অনেকে জীবাণু বা স্বাস্থ্যঝুঁকোর আশঙ্কায় ফেলে দেন ডাস্টবিনে। তবে সঠিক নিয়ম মেনে পেটের ডিম খাওয়া পুরোপুরি নিরাপদ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

কুমিল্লার ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. মেহেদী হাসান জানান, মুরগির পেট থেকে বের করার সময় যদি ডিমটি খোলস বা পাতলা আবরণের ভেতরে অক্ষত অবস্থায় থাকে, তবে তা খাওয়া যাবে। তবে বের করার সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, যাতে পেটের ভেতরের নাড়িভুঁড়ির বর্জ্য বা পিত্তথলির রস ডিমে না লাগে। যদি ডিম ফেটে যায় বা বর্জ্য দিয়ে দূষিত হয়ে দুর্গন্ধ বের হয়, তবে তা না খাওয়া ভালো।

ডিমটি রান্নার ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম মানতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, ডিম ধোয়ার প্রয়োজন নেই; খালি চোখে দৃশ্যমান ময়লা থাকলে টিস্যু দিয়ে মুছে নিতে হবে। ফ্রিজে না রেখে তখনই ভালোভাবে সেদ্ধ করে বা রান্না করে নেওয়া নিরাপদ। হালকা সেদ্ধ না করে কাটার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে যে ডিমের ভেতরটা পুরোপুরি জমাট বেঁধেছে। অপরিপক্ব বা কাঁচা থাকলে সালমোনেলা জাতীয় ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে, যা ফুড পয়েন্টনিংয়ের কারণ হতে পারে।

পুষ্টিগুণের বিচারেও এই ডিম বেশ কার্যকারী। এতে প্রচুর পরিমাণে আমিষ, প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড, আয়রন ও ভিটামিন বি১২ রয়েছে। তবে এ ডিমে উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল থাকায় যাদের রক্তে উচ্চ কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস বা হৃদ্‌রোগ রয়েছে, তাঁদের অতিরিক্ত কুসুম খাওয়া থেকে বিরত থাকা কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ভিডিও গ্যালারি

সব ভিডিও

সারাদেশ

আন্তর্জাতিক

Image আন্তর্জাতিক
যুক্তরাজ্য ভাঙার নজিরবিহীন উদ্যোগ, কার্ডিফে তিন দেশের ফার্স্ট মিনিস্টারের ঐতিহাসিক বৈঠক

যুক্তরাজ্য থেকে পৃথক হওয়ার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক নেতৃত্ব। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফের সেন্ট ডেভিডস হোটেলে এক নজিরবিহীন বৈঠকে বসছেন তিন দেশের ফার্স্ট মিনিস্টার।

যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে তিন নেতা একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে সই করবেন। এতে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এবং স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের আনুষ্ঠানিক দাবি জানানো হবে। কার্ডিফ বে–এর তীরে অবস্থিত হোটেলটিতে তিন ফার্স্ট মিনিস্টারের সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের প্রধান বিরোধী দল সিন ফেইনের সভাপতি মেরি লু ম্যাকডোনাল্ডও উপস্থিত থাকবেন।

রাজনৈতিক চিত্রে বড় পরিবর্তন ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড—তিনটি বিকেন্দ্রীভূত (Devolved) সরকারের নেতৃত্বেই রয়েছে স্বাধীনতাপন্থি দলগুলো।

স্কটল্যান্ডে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (এসএনপি) নেতা জন সুইনি ফার্স্ট মিনিস্টারের দায়িত্বে রয়েছেন। ওয়েলসে মে মাসের নির্বাচনে লেবার পার্টির পরাজয়ের পর সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে আসে প্লেইড কামরু; দলটির নেতা রুন আপ আইওয়ার্থ বর্তমানে ফার্স্ট মিনিস্টার। অন্যদিকে, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে সিন ফেইনের মিশেল ও’নিল ফার্স্ট মিনিস্টার হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

‘বর্তমান ব্যবস্থা টেকসই নয়’ স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি বলেন, তিন দেশেই স্বাধীনতাপন্থি নেতৃত্ব আসা প্রমাণ করে যে যুক্তরাজ্যের বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো আর টেকসই নয়। ওয়েস্টমিনস্টারকে ‘যুক্তরাজ্য-পরবর্তী’ ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সমালোচনা করে সুইনি বলেন, “ইতিহাসে হয়তো তিনি যুক্তরাজ্যের শেষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবেন।” কার্ডিফের এই বৈঠককে স্বাধীনতার অভিমুখে এক ‘নতুন সূচনা’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

গণভোট ইস্যুতে লন্ডনের অবস্থান তিন নেতার বৈঠকের মুখে গণভোট নিয়ে যুক্তরাজ্যে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম সম্প্রতি জানান, স্কটল্যান্ডে যদি স্বাধীনতার পক্ষে ‘স্পষ্ট ঐকমত্য’ তৈরি হয়, তবে গণভোট বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে জন সুইনিকে লেখা সাম্প্রতিক এক চিঠিতে তিনি স্পষ্ট করেন, নতুন কোনো সাধারণ নির্বাচনের আগে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার গণভোটের সুযোগ নেই। এতে মূল অর্থনৈতিক সংস্কার থেকে সরকারের মনোযোগ সরে যাবে বলে মত তাঁর।

আয়ারল্যান্ড একত্রীকরণ ও ইইউতে ফেরা বৈঠকে তিন দেশের মধ্যে অর্থনীতি, জ্বালানি, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে।

‘গুড ফ্রাইডে চুক্তি’ অনুযায়ী নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে আইরিশ পুনরেকত্রীকরণ গণভোটের সুযোগ রয়েছে। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের অংশ হওয়ার মাধ্যমে এবং স্কটল্যান্ড ও ওয়েলস স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পুনরায় ইইউ-তে যোগ দিতে আগ্রহী।

ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিকভাবেও বিষয়টি নজরে এসেছে। সম্প্রতি ডাবলিন সফরকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেন, তিনি একটি ‘ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড’ দেখতে আগ্রহী।

ক্ষমতা বৃদ্ধির দাবি ওয়েলসের বৈঠকে প্লেইড কামরু ওয়েলসের জন্য বাড়তি অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার দাবি তুলবে। বিশেষ করে রাজস্ব, কর সংগ্রহ, পুলিশ ও রেল খাতের নিয়ন্ত্রণ ওয়েলস সরকারের হাতে হস্তান্তরের জোর দাবি জানানো হচ্ছে।

Image ভারত
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জোর তাগিদ চীনা প্রেসিডেন্টের

সংঘাত বন্ধ করে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্রিকস জোটভুক্ত দেশগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই আহ্বান জানান। চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম সিসিটিভির বরাতে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

চলমান মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে শি জিনপিং বলেন, `এই যুদ্ধ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাধারণ স্বার্থ রক্ষা করে না। ওই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় চীন ব্রিকসের অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে একযোগে কাজ করতে বদ্ধপরিকর।'

ভাষণে চীনা প্রেসিডেন্ট ব্রিকস জোটকে 'গ্লোবাল সাউথ'-এর নেতৃত্বস্থানীয় প্ল্যাটফর্ম এবং উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর আত্মনির্ভরশীলতার মডেল হিসেবে অভিহিত করেন। জোটের সদস্য দেশগুলোকে উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও বেশি উৎসাহিত করার ওপর তিনি জোর দেন।

সিসিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী বছর ব্রিকসের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করবে চীন এবং দেশটিতে ১৯তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে বলে জানান শি জিনপিং।

ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত নিয়ে মূলত ব্রিকস জোট গঠিত। ২০০৯ সালে পশ্চিমা বিশ্বব্যবস্থার বিকল্প ও উদীয়মান অর্থনীতির শক্ত অবস্থান তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এই জোটে যাত্রা শুরু হয়েছিল।

বর্তমানে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি মানুষ ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোতে বাস করে এবং বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় এক-চতুর্থাংশই এই জোটের নিয়ন্ত্রণে। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সম্প্রসারণের পর সদস্য দেশগুলোর ভিন্ন ভিন্ন ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে নীতি নির্ধারণী ঐকমত্যে পৌঁছানো এখন জোটটির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধি দলের নিজস্ব নিরাপত্তার সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।

এই বিভাগে এখনো কোনো খবর প্রকাশিত হয়নি

এই বিভাগে এখনো কোনো খবর প্রকাশিত হয়নি

Image মধ্য প্রাচ্য
সৌদির সামরিক ঘাঁটিতে হুথিদের মিসাইল ও ড্রোন হামলা

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। স্থানীয় সময় রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় হুথির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পোস্টে তিনি জানান, সৌদির ওই ঘাঁটিতে থাকা একটি অস্ত্রের গুদাম ও কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। ওই সামরিক স্থাপনা ব্যবহার করেই ইয়েমেনের ভূখণ্ড ও জনগণের ওপর বিভিন্ন সময় আগ্রাসন চালানো হচ্ছিল বলে দাবি করেন তিনি। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট সময় বা ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ জানাননি এই মুখপাত্র।

গত সপ্তাহে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। যুদ্ধে শুরু থেকেই ইয়েমেন সরকারকে সব ধরনের সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়ে আসছে সৌদি আরব।

হুথিদের বিষয়ে মার্কিন নীতি

এদিকে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে হুথিদের নতুন অগ্রযাত্রায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে সংক্ষিপ্ত সফরকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “হুথিরা আমাদের সাথে যোগাযোগ করে জানিয়েছে যে, তারা ওয়াশিংটনের সাথে কোনো সংঘাত চায় না। তারা মার্কিন বাহিনীকে এই অভিযানে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।”

তেল পাইপলাইনে আঘাত

সৌদি ঘাঁটিতে এই হামলার পাশাপাশি দেশটির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ তেল পাইপলাইনেও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই পাইপলাইনটি হরমুজ প্রণালীকে এড়িয়ে লোহিত সাগরের মাধ্যমে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল রফতানির একমাত্র বিকল্প রুট ছিল। হামলার ফলে লোহিত সাগরে তেল পরিবহন সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

সৌদির কৌশলগত এই জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, এর পেছনে ইরানের সরাসরি বা পরোক্ষ মদদ থাকতে পারে।

Image ইউএসএ
ইরান যুদ্ধের দহন মার্কিন মুলুকে: প্রতি দুই মিনিটে গচ্ছা যাচ্ছে ১০ লাখ ডলার

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যখন ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোন লড়াইয়ের গর্জন, আর তখন তার তপ্ত আঁচ গিয়ে লাগছে আটলান্টিকের ওপারে মার্কিন মুলুকের সাধারণ মানুষের পকেটে। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত এখন আর কেবল ভূরাজনৈতিক মানচিত্রের লড়াই নেই; তা রূপ নিয়েছে মার্কিন নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনযুদ্ধের আশঙ্কায়। যুদ্ধের জেরে জ্বালানির বাড়তি দাম মেটাতে গিয়ে ইতিমধ্যে মার্কিন ভোক্তাদের পকেট থেকে অতিরিক্ত ১০০ বিলিয়ন (১০ হাজার কোটি) ডলারের বেশি বেরিয়ে গেছে।

ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াটসন ইনস্টিটিউটের ‘ক্লাইমেট সলিউশনস ল্যাব’-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে পেট্রল ও ডিজেলের পেছনে মার্কিন নাগরিকদের এই বিশাল অঙ্কের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে।

প্রতি দুই মিনিটে গচ্ছা যাচ্ছে ১০ লাখ ডলার
গবেষণার হিসাবটি চমকে দেওয়ার মতো। বর্তমানে যে গতিতে জ্বালানির দাম বাড়ছে, তাতে প্রতি দুই মিনিটে মার্কিন ভোক্তাদের অতিরিক্ত ১০ লাখ ডলার গুনতে হচ্ছে। যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত একটি গড়পড়তা মার্কিন পরিবারকে কেবল জ্বালানি খাতের বাড়তি ব্যয় মেটাতে ৭৬০ ডলারের বেশি খরচ করতে হয়েছে।

ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা বলছেন, ১০০.৪ বিলিয়ন ডলারের এই হিসাবটি একটি তুলনামূলক চিত্র। যুদ্ধ না হলে জ্বালানির দাম কেমন থাকত এবং যুদ্ধের কারণে বর্তমানে দাম কত এই দুইয়ের ব্যবধান থেকেই অতিরিক্ত ব্যয়ের এই খতিয়ান তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু পেট্রলেই বাড়তি খরচ হয়েছে ৫৫.০১ বিলিয়ন ডলার।

গ্যাস স্টেশনে অস্বস্তি
যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ব্যক্তিগত গাড়ি। কিন্তু গ্যাস স্টেশনগুলোতে এখন তেলের দাম দেখে কপালে ভাঁজ পড়ছে সাধারণ মানুষের। সাম্প্রতিক শ্রমিক দিবসের ছুটিতে দেখা গেছে, দেশজুড়ে নিয়মিত গ্যাসোলিনের গড় দাম প্রতি গ্যালনে ৪.১৪ ডলারে ঠেকেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় এক ডলার বেশি। অন্যদিকে, ডিজেলের দাম বেড়ে হয়েছে ৫.৮৫ ডলার। শতাংশের হিসেবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গ্যাসোলিনের দাম ৩৯ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মূল্যবৃদ্ধির পুরো দায় কেবল যুদ্ধের নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ও চাহিদা, মজুত পরিস্থিতি এবং পরিবহন ঝুঁকির মতো বিষয়গুলোও এখানে অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে।

পণ্য ও সেবায় বাড়তি খরচের শঙ্কা
জ্বালানির এই দাম বৃদ্ধি কেবল ব্যক্তিগত গাড়ির চাকাতেই সীমাবদ্ধ নেই। ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাক ও লরির মাধ্যমে পণ্য পরিবহন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে কৃষি ও নির্মাণ খাতে। পণ্যবাহী যানের খরচ বাড়লে শেষ পর্যন্ত তার বোঝা সাধারণ ক্রেতার ওপরই পড়ে। ফলে নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

উদ্বেগের কেন্দ্রে হরমুজ প্রণালি
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মূল কেন্দ্রবিন্দু এখন হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের বড় একটি অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই প্রণালি ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আতঙ্ক বিরাজ করছে বাজারে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৭ সেপ্টেম্বর ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৭ ডলারে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই তেলের দামও ব্যারেলপ্রতি ৯৩ ডলার ছুঁইছুঁই। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাত যদি আরও ছড়িয়ে পড়ে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়, তবে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার পর্যন্ত উঠে যেতে পারে।

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনিশ্চয়তার কালো মেঘ আরও ঘনীভূত হচ্ছে। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, আধুনিক বিশ্বের যুদ্ধগুলো কেবল নির্দিষ্ট কোনো সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর আর্থিক ধাক্কা সমুদ্র পেরিয়ে পৌঁছে যায় সাধারণ মানুষের ডাইনিং টেবিল পর্যন্ত।

(তথ্যসূত্র: ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়, অ্যাক্সিওস ও রয়টার্স)

Image ইউরোপ
যুক্তরাজ্য ভাঙার নজিরবিহীন উদ্যোগ, কার্ডিফে তিন দেশের ফার্স্ট মিনিস্টারের ঐতিহাসিক বৈঠক

যুক্তরাজ্য থেকে পৃথক হওয়ার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক নেতৃত্ব। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফের সেন্ট ডেভিডস হোটেলে এক নজিরবিহীন বৈঠকে বসছেন তিন দেশের ফার্স্ট মিনিস্টার।

যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে তিন নেতা একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে সই করবেন। এতে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এবং স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের আনুষ্ঠানিক দাবি জানানো হবে। কার্ডিফ বে–এর তীরে অবস্থিত হোটেলটিতে তিন ফার্স্ট মিনিস্টারের সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের প্রধান বিরোধী দল সিন ফেইনের সভাপতি মেরি লু ম্যাকডোনাল্ডও উপস্থিত থাকবেন।

রাজনৈতিক চিত্রে বড় পরিবর্তন ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড—তিনটি বিকেন্দ্রীভূত (Devolved) সরকারের নেতৃত্বেই রয়েছে স্বাধীনতাপন্থি দলগুলো।

স্কটল্যান্ডে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (এসএনপি) নেতা জন সুইনি ফার্স্ট মিনিস্টারের দায়িত্বে রয়েছেন। ওয়েলসে মে মাসের নির্বাচনে লেবার পার্টির পরাজয়ের পর সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে আসে প্লেইড কামরু; দলটির নেতা রুন আপ আইওয়ার্থ বর্তমানে ফার্স্ট মিনিস্টার। অন্যদিকে, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে সিন ফেইনের মিশেল ও’নিল ফার্স্ট মিনিস্টার হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

‘বর্তমান ব্যবস্থা টেকসই নয়’ স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি বলেন, তিন দেশেই স্বাধীনতাপন্থি নেতৃত্ব আসা প্রমাণ করে যে যুক্তরাজ্যের বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো আর টেকসই নয়। ওয়েস্টমিনস্টারকে ‘যুক্তরাজ্য-পরবর্তী’ ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সমালোচনা করে সুইনি বলেন, “ইতিহাসে হয়তো তিনি যুক্তরাজ্যের শেষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবেন।” কার্ডিফের এই বৈঠককে স্বাধীনতার অভিমুখে এক ‘নতুন সূচনা’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

গণভোট ইস্যুতে লন্ডনের অবস্থান তিন নেতার বৈঠকের মুখে গণভোট নিয়ে যুক্তরাজ্যে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম সম্প্রতি জানান, স্কটল্যান্ডে যদি স্বাধীনতার পক্ষে ‘স্পষ্ট ঐকমত্য’ তৈরি হয়, তবে গণভোট বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে জন সুইনিকে লেখা সাম্প্রতিক এক চিঠিতে তিনি স্পষ্ট করেন, নতুন কোনো সাধারণ নির্বাচনের আগে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার গণভোটের সুযোগ নেই। এতে মূল অর্থনৈতিক সংস্কার থেকে সরকারের মনোযোগ সরে যাবে বলে মত তাঁর।

আয়ারল্যান্ড একত্রীকরণ ও ইইউতে ফেরা বৈঠকে তিন দেশের মধ্যে অর্থনীতি, জ্বালানি, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে।

‘গুড ফ্রাইডে চুক্তি’ অনুযায়ী নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে আইরিশ পুনরেকত্রীকরণ গণভোটের সুযোগ রয়েছে। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের অংশ হওয়ার মাধ্যমে এবং স্কটল্যান্ড ও ওয়েলস স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পুনরায় ইইউ-তে যোগ দিতে আগ্রহী।

ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিকভাবেও বিষয়টি নজরে এসেছে। সম্প্রতি ডাবলিন সফরকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেন, তিনি একটি ‘ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড’ দেখতে আগ্রহী।

ক্ষমতা বৃদ্ধির দাবি ওয়েলসের বৈঠকে প্লেইড কামরু ওয়েলসের জন্য বাড়তি অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার দাবি তুলবে। বিশেষ করে রাজস্ব, কর সংগ্রহ, পুলিশ ও রেল খাতের নিয়ন্ত্রণ ওয়েলস সরকারের হাতে হস্তান্তরের জোর দাবি জানানো হচ্ছে।

এই বিভাগে এখনো কোনো খবর প্রকাশিত হয়নি

বিনোদন

খেলাধুলা

মতামত

ফটো গ্যালারী

সব ছবি