রবিবার , ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রধান সংবাদ আগস্টে ঘুরে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাজ্যে পোশাক রপ্তানি
আগস্টে ঘুরে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাজ্যে পোশাক রপ্তানি

জুলাইয়ে সামান্য কমার পর আগস্টে ঘুরে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি। আগস্টে দেশটিতে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ। এতে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট…

বিয়ে ছাড়াই মা হতে রাজি রাইমা, প্রস্তুত ডিম্বাণুও
বিয়ে ছাড়াই মা হতে রাজি রাইমা, প্রস্তুত ডিম্বাণুও ৬ ঘন্টা

৪৬ বছর বয়সে এসেও বিয়ে করেননি ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাইমা সেন। বিয়ে না করলেও ভবিষ্যতে মা হওয়ার ইচ্ছা একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না তিনি। তবে তাঁর স্পষ্ট মতামত, শুধু সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য বিয়ে করার কোনো প্রয়োজন নেই।

সম্প্রতি ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও মা হওয়া প্রসঙ্গে এসব কথা বলেন রাইমা।

সাক্ষাৎকারে রাইমা সেন বলেন, ‘আমি বাচ্চাদের ভীষণ ভালোবাসি। একা সব সামলাতে পারব কি না ভেবে ভয় লাগে। তবে আজ ইচ্ছে না হলেও কাল যে ইচ্ছে করবে না, তেমনটা বলা যায় না।’

মা হওয়ার সম্ভাবনার কথা ভেবে বেশ কয়েক বছর আগেই যে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন, তাও প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী। রাইমা বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে মা হওয়ার কথা ভেবে অনেক দিন আগেই নিজের ডিম্বাণু সংরক্ষণ (এগ ফ্রিজিং) করে রেখেছি।’

বিয়ে নিয়ে মা ও জ্যেষ্ঠ অভিনেত্রী মুনমুন সেনও রাইমাকে কোনো চাপ দেন না বলে জানান তিনি। বরং মেয়েকে নিজের মনের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। রাইমার ভাষায়, ‘মা আমাকে বলেন, জোর করে কিছু করার দরকার নেই। পরে কখনো একাকিত্ব অনুভব করলে অনেকগুলো পোষ্য দত্তক নিও।’

বিয়ে করার কোনো তাগিদও এখন আর অনুভব করেন না জানিয়ে ৪৬ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী বলেন, ‘সত্যি বলতে, এই বয়সে এসে বিয়ের কোনো প্রয়োজন বোধ করি না। কোনো সম্পর্কে নতুন করে জড়াতেও ভয় লাগে।’

একাকী জীবন কেমন উপভোগ করছেন—এমন প্রশ্নে আনন্দ প্রকাশ করে রাইমা বলেন, ‘দারুণ কাটছে। আমার তো মনে হয় চল্লিশের পরই আসল জীবন শুরু হয়!’ এ বয়সে এসে নিজেকে আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বাধীন ও পরিণত মনে হয় বলেও জানান তিনি।

ভিডিও গ্যালারি

সব ভিডিও
অর্থনীতি
আগস্টে ঘুরে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাজ্যে পোশাক রপ্তানি

জুলাইয়ে সামান্য কমার পর আগস্টে ঘুরে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি। আগস্টে দেশটিতে পোশাক

সারাদেশ

আন্তর্জাতিক

Image আন্তর্জাতিক
যুদ্ধের কারণে ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লেগেছে। এর ফলে দেশটির  অর্থনীতিতে ১০ শতাংশেরও বেশি সংকুচিত হয়েছে। ইরানের সরকারি এক পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে ইরানে যুদ্ধ শুরু হয়। 

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ইরানের পরিসংখ্যান কেন্দ্রের রোববার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শেষ দিক থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত এক বছরে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১০ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। ইরানের পারস্য বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী এই সময়কে বছরের প্রথম প্রান্তিক হিসেবে গণ্য করা হয়।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এবং দেশটির কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হয়। এর পর থেকেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।

ওই হামলার জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই তেল পরিবহনপথে অচলাবস্থার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যায়। পরে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে যুদ্ধের প্রভাবের পাশাপাশি ইরানের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরেই অতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং দেশটির মুদ্রার অবমূল্যায়নের সংকটে রয়েছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে উল্লেখ করা হয়।

Image ভারত
যুদ্ধের কারণে ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লেগেছে। এর ফলে দেশটির  অর্থনীতিতে ১০ শতাংশেরও বেশি সংকুচিত হয়েছে। ইরানের সরকারি এক পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে ইরানে যুদ্ধ শুরু হয়। 

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ইরানের পরিসংখ্যান কেন্দ্রের রোববার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শেষ দিক থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত এক বছরে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১০ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। ইরানের পারস্য বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী এই সময়কে বছরের প্রথম প্রান্তিক হিসেবে গণ্য করা হয়।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এবং দেশটির কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হয়। এর পর থেকেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।

ওই হামলার জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই তেল পরিবহনপথে অচলাবস্থার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যায়। পরে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে যুদ্ধের প্রভাবের পাশাপাশি ইরানের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরেই অতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং দেশটির মুদ্রার অবমূল্যায়নের সংকটে রয়েছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে উল্লেখ করা হয়।

এই বিভাগে এখনো কোনো খবর প্রকাশিত হয়নি

এই বিভাগে এখনো কোনো খবর প্রকাশিত হয়নি

Image মধ্য প্রাচ্য
সৌদির সামরিক ঘাঁটিতে হুথিদের মিসাইল ও ড্রোন হামলা

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। স্থানীয় সময় রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় হুথির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পোস্টে তিনি জানান, সৌদির ওই ঘাঁটিতে থাকা একটি অস্ত্রের গুদাম ও কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। ওই সামরিক স্থাপনা ব্যবহার করেই ইয়েমেনের ভূখণ্ড ও জনগণের ওপর বিভিন্ন সময় আগ্রাসন চালানো হচ্ছিল বলে দাবি করেন তিনি। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট সময় বা ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ জানাননি এই মুখপাত্র।

গত সপ্তাহে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। যুদ্ধে শুরু থেকেই ইয়েমেন সরকারকে সব ধরনের সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়ে আসছে সৌদি আরব।

হুথিদের বিষয়ে মার্কিন নীতি

এদিকে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে হুথিদের নতুন অগ্রযাত্রায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে সংক্ষিপ্ত সফরকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “হুথিরা আমাদের সাথে যোগাযোগ করে জানিয়েছে যে, তারা ওয়াশিংটনের সাথে কোনো সংঘাত চায় না। তারা মার্কিন বাহিনীকে এই অভিযানে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।”

তেল পাইপলাইনে আঘাত

সৌদি ঘাঁটিতে এই হামলার পাশাপাশি দেশটির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ তেল পাইপলাইনেও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই পাইপলাইনটি হরমুজ প্রণালীকে এড়িয়ে লোহিত সাগরের মাধ্যমে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল রফতানির একমাত্র বিকল্প রুট ছিল। হামলার ফলে লোহিত সাগরে তেল পরিবহন সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

সৌদির কৌশলগত এই জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, এর পেছনে ইরানের সরাসরি বা পরোক্ষ মদদ থাকতে পারে।

Image ইউএসএ
ইরান যুদ্ধের দহন মার্কিন মুলুকে: প্রতি দুই মিনিটে গচ্ছা যাচ্ছে ১০ লাখ ডলার

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যখন ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোন লড়াইয়ের গর্জন, আর তখন তার তপ্ত আঁচ গিয়ে লাগছে আটলান্টিকের ওপারে মার্কিন মুলুকের সাধারণ মানুষের পকেটে। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত এখন আর কেবল ভূরাজনৈতিক মানচিত্রের লড়াই নেই; তা রূপ নিয়েছে মার্কিন নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনযুদ্ধের আশঙ্কায়। যুদ্ধের জেরে জ্বালানির বাড়তি দাম মেটাতে গিয়ে ইতিমধ্যে মার্কিন ভোক্তাদের পকেট থেকে অতিরিক্ত ১০০ বিলিয়ন (১০ হাজার কোটি) ডলারের বেশি বেরিয়ে গেছে।

ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াটসন ইনস্টিটিউটের ‘ক্লাইমেট সলিউশনস ল্যাব’-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে পেট্রল ও ডিজেলের পেছনে মার্কিন নাগরিকদের এই বিশাল অঙ্কের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে।

প্রতি দুই মিনিটে গচ্ছা যাচ্ছে ১০ লাখ ডলার
গবেষণার হিসাবটি চমকে দেওয়ার মতো। বর্তমানে যে গতিতে জ্বালানির দাম বাড়ছে, তাতে প্রতি দুই মিনিটে মার্কিন ভোক্তাদের অতিরিক্ত ১০ লাখ ডলার গুনতে হচ্ছে। যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত একটি গড়পড়তা মার্কিন পরিবারকে কেবল জ্বালানি খাতের বাড়তি ব্যয় মেটাতে ৭৬০ ডলারের বেশি খরচ করতে হয়েছে।

ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা বলছেন, ১০০.৪ বিলিয়ন ডলারের এই হিসাবটি একটি তুলনামূলক চিত্র। যুদ্ধ না হলে জ্বালানির দাম কেমন থাকত এবং যুদ্ধের কারণে বর্তমানে দাম কত এই দুইয়ের ব্যবধান থেকেই অতিরিক্ত ব্যয়ের এই খতিয়ান তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু পেট্রলেই বাড়তি খরচ হয়েছে ৫৫.০১ বিলিয়ন ডলার।

গ্যাস স্টেশনে অস্বস্তি
যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ব্যক্তিগত গাড়ি। কিন্তু গ্যাস স্টেশনগুলোতে এখন তেলের দাম দেখে কপালে ভাঁজ পড়ছে সাধারণ মানুষের। সাম্প্রতিক শ্রমিক দিবসের ছুটিতে দেখা গেছে, দেশজুড়ে নিয়মিত গ্যাসোলিনের গড় দাম প্রতি গ্যালনে ৪.১৪ ডলারে ঠেকেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় এক ডলার বেশি। অন্যদিকে, ডিজেলের দাম বেড়ে হয়েছে ৫.৮৫ ডলার। শতাংশের হিসেবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গ্যাসোলিনের দাম ৩৯ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মূল্যবৃদ্ধির পুরো দায় কেবল যুদ্ধের নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ও চাহিদা, মজুত পরিস্থিতি এবং পরিবহন ঝুঁকির মতো বিষয়গুলোও এখানে অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে।

পণ্য ও সেবায় বাড়তি খরচের শঙ্কা
জ্বালানির এই দাম বৃদ্ধি কেবল ব্যক্তিগত গাড়ির চাকাতেই সীমাবদ্ধ নেই। ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাক ও লরির মাধ্যমে পণ্য পরিবহন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে কৃষি ও নির্মাণ খাতে। পণ্যবাহী যানের খরচ বাড়লে শেষ পর্যন্ত তার বোঝা সাধারণ ক্রেতার ওপরই পড়ে। ফলে নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

উদ্বেগের কেন্দ্রে হরমুজ প্রণালি
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মূল কেন্দ্রবিন্দু এখন হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের বড় একটি অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই প্রণালি ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আতঙ্ক বিরাজ করছে বাজারে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৭ সেপ্টেম্বর ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৭ ডলারে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই তেলের দামও ব্যারেলপ্রতি ৯৩ ডলার ছুঁইছুঁই। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাত যদি আরও ছড়িয়ে পড়ে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়, তবে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার পর্যন্ত উঠে যেতে পারে।

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনিশ্চয়তার কালো মেঘ আরও ঘনীভূত হচ্ছে। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, আধুনিক বিশ্বের যুদ্ধগুলো কেবল নির্দিষ্ট কোনো সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর আর্থিক ধাক্কা সমুদ্র পেরিয়ে পৌঁছে যায় সাধারণ মানুষের ডাইনিং টেবিল পর্যন্ত।

(তথ্যসূত্র: ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়, অ্যাক্সিওস ও রয়টার্স)

Image ইউরোপ
যুক্তরাজ্য ভাঙার নজিরবিহীন উদ্যোগ, কার্ডিফে তিন দেশের ফার্স্ট মিনিস্টারের ঐতিহাসিক বৈঠক

যুক্তরাজ্য থেকে পৃথক হওয়ার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক নেতৃত্ব। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফের সেন্ট ডেভিডস হোটেলে এক নজিরবিহীন বৈঠকে বসছেন তিন দেশের ফার্স্ট মিনিস্টার।

যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে তিন নেতা একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে সই করবেন। এতে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এবং স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের আনুষ্ঠানিক দাবি জানানো হবে। কার্ডিফ বে–এর তীরে অবস্থিত হোটেলটিতে তিন ফার্স্ট মিনিস্টারের সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের প্রধান বিরোধী দল সিন ফেইনের সভাপতি মেরি লু ম্যাকডোনাল্ডও উপস্থিত থাকবেন।

রাজনৈতিক চিত্রে বড় পরিবর্তন ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড—তিনটি বিকেন্দ্রীভূত (Devolved) সরকারের নেতৃত্বেই রয়েছে স্বাধীনতাপন্থি দলগুলো।

স্কটল্যান্ডে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (এসএনপি) নেতা জন সুইনি ফার্স্ট মিনিস্টারের দায়িত্বে রয়েছেন। ওয়েলসে মে মাসের নির্বাচনে লেবার পার্টির পরাজয়ের পর সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে আসে প্লেইড কামরু; দলটির নেতা রুন আপ আইওয়ার্থ বর্তমানে ফার্স্ট মিনিস্টার। অন্যদিকে, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে সিন ফেইনের মিশেল ও’নিল ফার্স্ট মিনিস্টার হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

‘বর্তমান ব্যবস্থা টেকসই নয়’ স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি বলেন, তিন দেশেই স্বাধীনতাপন্থি নেতৃত্ব আসা প্রমাণ করে যে যুক্তরাজ্যের বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো আর টেকসই নয়। ওয়েস্টমিনস্টারকে ‘যুক্তরাজ্য-পরবর্তী’ ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সমালোচনা করে সুইনি বলেন, “ইতিহাসে হয়তো তিনি যুক্তরাজ্যের শেষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবেন।” কার্ডিফের এই বৈঠককে স্বাধীনতার অভিমুখে এক ‘নতুন সূচনা’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

গণভোট ইস্যুতে লন্ডনের অবস্থান তিন নেতার বৈঠকের মুখে গণভোট নিয়ে যুক্তরাজ্যে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম সম্প্রতি জানান, স্কটল্যান্ডে যদি স্বাধীনতার পক্ষে ‘স্পষ্ট ঐকমত্য’ তৈরি হয়, তবে গণভোট বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে জন সুইনিকে লেখা সাম্প্রতিক এক চিঠিতে তিনি স্পষ্ট করেন, নতুন কোনো সাধারণ নির্বাচনের আগে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার গণভোটের সুযোগ নেই। এতে মূল অর্থনৈতিক সংস্কার থেকে সরকারের মনোযোগ সরে যাবে বলে মত তাঁর।

আয়ারল্যান্ড একত্রীকরণ ও ইইউতে ফেরা বৈঠকে তিন দেশের মধ্যে অর্থনীতি, জ্বালানি, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে।

‘গুড ফ্রাইডে চুক্তি’ অনুযায়ী নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে আইরিশ পুনরেকত্রীকরণ গণভোটের সুযোগ রয়েছে। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের অংশ হওয়ার মাধ্যমে এবং স্কটল্যান্ড ও ওয়েলস স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পুনরায় ইইউ-তে যোগ দিতে আগ্রহী।

ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিকভাবেও বিষয়টি নজরে এসেছে। সম্প্রতি ডাবলিন সফরকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেন, তিনি একটি ‘ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড’ দেখতে আগ্রহী।

ক্ষমতা বৃদ্ধির দাবি ওয়েলসের বৈঠকে প্লেইড কামরু ওয়েলসের জন্য বাড়তি অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার দাবি তুলবে। বিশেষ করে রাজস্ব, কর সংগ্রহ, পুলিশ ও রেল খাতের নিয়ন্ত্রণ ওয়েলস সরকারের হাতে হস্তান্তরের জোর দাবি জানানো হচ্ছে।

এই বিভাগে এখনো কোনো খবর প্রকাশিত হয়নি

বিনোদন

খেলাধুলা

মতামত

ফটো গ্যালারী

সব ছবি