
ইউটিউব থেকে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আয় করতে নতুন ভিডিও নির্মাতাদের (কনটেন্ট ক্রিয়েটর) জন্য শর্ত আরও কঠিন হচ্ছে। আগামী বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে বিশ্বের জনপ্রিয় এই ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মটি। নতুন নিয়মে বিজ্ঞাপন ও ইউটিউব প্রিমিয়াম থেকে আয় করতে আগের তুলনায় দ্বিগুণ দর্শকসংখ্যা বা দেখার সময় (ওয়াচটাইম) প্রয়োজন হবে। ২০১৮ সালের পর এবারই প্রথম মনিটাইজেশন নীতিমালায় এত বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে প্ল্যাটফর্মটি। বিশেষ করে ছোট ভিডিও বা শর্টসের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন ইউটিউবে ২০ হাজার কোটির বেশি শর্টস দেখা হয়, যা ২০২৪ সালে ছিল প্রায় ৭ হাজার কোটি। মনিটাইজেশনের নতুন শর্তে যা থাকছে নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো চ্যানেল থেকে বিজ্ঞাপনের আয় পেতে হলে গত এক বছরে অন্তত ৮ হাজার ঘণ্টা ভিডিও দেখার সময় (ওয়াচটাইম) থাকতে হবে। বিকল্প হিসেবে গত ৯০ দিনে চ্যানেলে অন্তত ২ কোটি যোগ্য শর্টস ভিডিও ভিউ থাকতে হবে। বর্তমানে এই সীমা ৪ হাজার ঘণ্টা ওয়াচটাইম এবং ৯০ দিনে ১ কোটি শর্টস ভিউ। তবে চ্যানেলে সাবস্ক্রাইবার বা গ্রাহকসংখ্যা অন্তত ১ হাজার থাকার শর্তটি আগের মতোই বহাল থাকবে। বর্তমান নির্মাতাদের ওপর প্রভাব শুধু নতুন নির্মাতারাই নন, ইউটিউবের মনিটাইজেশন সচল থাকা পুরোনো নির্মাতাদের ওপরও নতুন নিয়মের প্রভাব পড়বে। শর্টস ভিডিও থেকে প্রতি মাসে বিজ্ঞাপন ও সাবস্ক্রিপশন আয় বজায় রাখতে ৯০ দিনের মধ্যে অন্তত ১ কোটি যোগ্য ভিউ ধরে রাখতে হবে। কোনো চ্যানেলের শর্টস ভিউ এই সীমার নিচে নেমে গেলে শর্টস থেকে আয় সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। তবে এতে চ্যানেলটির মূল মনিটাইজেশন সুবিধা বাতিল হবে না। পরবর্তী সময়ে ভিউ আবার নির্ধারিত সীমায় পৌঁছালে শর্টস থেকে আয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সচল হবে। ইউটিউব জানিয়েছে, যারা ইতিমধ্যে শর্টস থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আয় করছেন, তাদের ওপর নতুন নিয়মের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। তবে কতগুলো চ্যানেল নতুন নির্ধারিত সীমার নিচে রয়েছে, সে সংখ্যা জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি। ছোট নির্মাতাদের জন্য বিকল্প সুবিধা কঠিন শর্তের পাশাপাশি ছোট নির্মাতাদের জন্যও কিছু সুবিধার কথা ভাবছে ইউটিউব। ইউটিউব শপিং, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করা এবং জনপ্রিয় নতুন ধারা তৈরির জন্য অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এসব সুবিধার অর্থের পরিমাণ ও বিস্তারিত নিয়ম এখনো প্রকাশ করা হয়নি। can অন্যদিকে, কম স্তরের মনিটাইজেশনের শর্তে কোনো পরিবর্তন আসছে না। ৫০০ গ্রাহক, ৯০ দিনে অন্তত তিনটি প্রকাশিত ভিডিও এবং ৩ হাজার ঘণ্টা ভিডিও দেখার সময় বা ৩০ লাখ শর্টস ভিউ থাকলে নির্মাতারা এই কর্মসূচির প্রাথমিক স্তরে যুক্ত হতে পারবেন। তবে এই প্রাথমিক স্তরে বিজ্ঞাপন বা ইউটিউব প্রিমিয়াম থেকে সরাসরি আয় করা যায় না। ইউটিউব প্রিমিয়াম লাইট ইউটিউব প্রিমিয়াম লাইট নিয়েও নতুন পরিকল্পনা রয়েছে প্ল্যাটফর্মটির। যেসব দেশে ইউটিউব প্রিমিয়াম সচল আছে, সেসব দেশে পর্যায়ক্রমে প্রিমিয়াম লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে ইউটিউব। এই সেবার গ্রাহকদের সাবস্ক্রিপশন আয়ের একটি অংশ নির্মাতাদের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে। ইউটিউব জানিয়েছে, প্রিমিয়াম লাইট থেকে পাওয়া নিট সাবস্ক্রিপশন আয়ের ৬০ শতাংশ নির্মাতাদের জন্য নির্ধারিত তহবিলে যাবে। পূর্ণ ইউটিউব প্রিমিয়ামের ক্ষেত্রে এই হার ৩০ শতাংশ। দর্শকেরা কোন নির্মাতার ভিডিও কতটা দেখছেন, তার ওপর ভিত্তি করে এই অর্থ বণ্টন করা হবে। নতুন এই নিয়মে ইউটিউবের সামগ্রিক আয় ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। বিশেষ করে শর্টসনির্ভর নির্মাতাদের নিয়মিত ভিউ ধরে রাখার চাপ যেমন বাড়বে, তেমনি নতুন আয়ের পথ তৈরির প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছে প্ল্যাটফর্মটি। ফলে ২০২৭ সালটি ইউটিউব নির্মাতাদের জন্য একটি বড় পরীক্ষা ও গুরুত্বপূর্ণ বছর হতে যাচ্ছে।
বিস্তারিত
সাংবাদিক সৈকত ও সিপিবি নেতা আবু বকরের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সিপিবির বিক্ষোভ
রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরী এবং টাঙ্গাইলের নাগরপুরের সিপিবি নেতা আবু বকর ছিদ্দিককে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। বুধবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনের মুক্তি ভবনের সামনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে গ্রেপ্তার হওয়া দুই নেতার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও অবিলম্বে তাঁদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল পল্টন মোড় থেকে শুরু হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাব অভিমুখে সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ক্বাফী রতন ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. সাজেদুল হক রুবেলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে বক্তারা বলেন, জনগণের অধিকার এবং সমাজে চলমান অনিয়ম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে মামলা ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে হয়রানি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ভিন্নমত দমন করা রাষ্ট্রের কাজ নয়, বরং নাগরিকদের মতপ্রকাশ ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত। সিপিবি নেতারা অভিযোগ করে বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন স্থানীয় সিপিবি নেতা আবু বকর ছিদ্দিক। এই প্রতিবাদের জের ধরে পরবর্তীতে ছাত্রদল নেতাকে নিগৃহীত করার একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলার কারণে কোনো রাজনৈতিক কর্মীকে এভাবে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানো মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরীর গ্রেপ্তারের বিষয়ে নেতারা বলেন, রাঙ্গামাটি শহরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে সাদা পোশাকে এক ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ করেছিলেন সৈকত রঞ্জন। এর জেরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। এভাবে গ্রেপ্তারের আইনগত প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা না রেখে কোনো নাগরিককে তুলে নিয়ে যাওয়া এবং পরে গ্রেপ্তার দেখানো আইনের শাসন ও নাগরিক অধিকারের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। সমাবেশ থেকে আবু বকর ছিদ্দিক ও সৈকত রঞ্জন চৌধুরীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে মামলার আইনগত ভিত্তি জনসমক্ষে প্রকাশ এবং সব ধরনের রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধ করে তাঁদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।
১২ বছরের জন্য ১১৭ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার
বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহত করতে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় আগামী ১২ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১১৭ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জরুরি চাহিদা মেটাতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আরও এলএনজি সংগ্রহের পাশাপাশি চাল, তেল, ডাল, সার আমদানি এবং একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। ১২ বছরে ১১৭ কার্গো এলএনজি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) পর্যায়ে মার্কিন কোম্পানি ‘গানভর ইউএসএ এলএলসি’র কাছ থেকে ২০২৬ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদে মোট ১১৭ কার্গো এলএনজি কেনা হবে। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ৫ কার্গো, ২০২৭ সালে ৬ কার্গো এবং ২০২৮ সালে ৩ কার্গো এলএনজি জে কে এম (জাপান কোরিয়া মার্কার) সূচকের সঙ্গে নির্দিষ্ট প্রিমিয়াম যুক্ত করে কেনা হবে। পরবর্তী সময়ে, অর্থাৎ ২০২৯ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ১০ কার্গো করে এলএনজি সরবরাহ করবে মার্কিন এই প্রতিষ্ঠানটি। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আরও গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান অস্থিরতা মোকাবিলায় এবং দেশের গ্যাসের জরুরি চাহিদা মেটাতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) আরও এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের ব্ল্যাককিউব ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, ওমানের ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসি এবং হংকংয়ের ঝেনইউ শিপিং কোম্পানির মাধ্যমে নির্দিষ্ট কার্গো এলএনজি আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির পৃথক সভায় জরুরি ভিত্তিতে আরও ৮ কার্গো এলএনজি আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর অধীনে হংকংয়ের ঝেনইউ শিপিং থেকে ২টি, মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস থেকে ২টি, চীনের চায়না রুনজে হোল্ডিংস থেকে ২টি এবং যুক্তরাষ্ট্রের দারাব ইনকরপোরেটেড থেকে ২টি কার্গো এলএনজি সংগ্রহ করা হবে। চাল, ডাল, তেল ও সার আমদানি বৈঠকে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বড় অঙ্কের পণ্য আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ভিয়েতনাম থেকে জিটুজি পদ্ধতিতে ১ লাখ টন নন-বাসমতী সেদ্ধ চাল আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৫১৫ কোটি ৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। প্রতি কেজি চালের আমদানি মূল্য পড়বে ৫১ টাকা ৫০ পয়সা। এছাড়া দেশের সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে ইন্দোনেশিয়ার পিটি ট্রিনিটি চাহয়া এনার্জি থেকে ২৫ হাজার টন চিনি ও ২ কোটি লিটার সয়াবিন তেল এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘নাবিল নাবা ফুডস’ থেকে ১০ হাজার টন মসুর ডাল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এদিকে কৃষি ও শিল্প খাতের উৎপাদন সচল রাখতে সৌদি আরব ও মরক্কো থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টন ইউরিয়া, ডিএপি ও টিএসপি সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে কমিটি। এতে সরকারের মোট ব্যয় হবে ৯০২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। অন্যান্য সিদ্ধান্ত সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ব্যবস্থাপনার জন্য প্রায় ৩২০ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রয়োজনীয় অ্যান্ড্রয়েড ট্যাব কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অধীনস্থ ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড থেকে এসব ট্যাব সরবরাহ করা হবে। এছাড়া বৈঠকে বিআইডব্লিউটিএর নদী খনন প্রকল্প, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের আইটি অবকাঠামো স্থানান্তর এবং ফেনী সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের বেশ কয়েকটি সংশোধিত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
আধ্যাত্মিকতা ও সেবার সংমিশ্রণে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উত্তর চব্বিশ পরগনার বেলঘরিয়ার ঐতিহাসিক আদ্যাপীঠ মন্দির পরিদর্শন করলেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি মন্দিরের নবনির্মিত প্রধান তোরণ এবং ভক্তদের জন্য নতুন একটি অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত ভক্ত ও আবাসিকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি আধ্যাত্মিক চেতনার পাশাপাশি সমসাময়িক সামাজিক অবক্ষয় রোধে ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। এদিন দুপুরে আদ্যাপীঠ আশ্রমে পৌঁছালে শুভেন্দু অধিকারীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান আদ্যাপীঠের বর্তমান অধ্যক্ষ ব্রহ্মচারী মুরাল ভাই। আশ্রমের আবাসিক ও শিক্ষার্থীরা প্রসাদী মালা পরিয়ে তাঁকে বরণ করে নেন। এরপর তিনি ফিতে কেটে মন্দিরের সুদৃশ্য নবনির্মিত মূল প্রবেশদ্বার বা তোরণের উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে ভক্ত ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবার কথা মাথায় রেখে আশ্রমের পক্ষ থেকে চালু করা নতুন অ্যাম্বুল্যান্সটির যাত্রারম্ভ করেন তিনি। উদ্বোধনী পর্ব শেষে শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি চলে যান আদ্যাপীঠের গোশালায়। সেখানে তিনি পরম মমতায় গো-সেবা করেন। এরপর মূল মন্দিরে প্রবেশ করে আদ্যা মায়ের বিশেষ পূজা ও আরতিতে অংশ নেন। বিশ্বশান্তি ও জনকল্যাণের প্রার্থনায় তিনি বেশ কিছুক্ষণ মন্দিরে অতিবাহিত করেন। পূজা শেষে তিনি আশ্রম পরিচালিত অনাথ আশ্রম এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। আশ্রমের ভবিষ্যৎ উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা ও সমাজসেবামূলক কাজের খোঁজখবর নেন তিনি। মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত সভায় শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে উঠে আসে আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক দর্শনের মেলবন্ধন। গেরুয়া রঙের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, "গেরুয়া কোনো রাজনৈতিক দলের রঙ নয়; এটি হলো ত্যাগ ও কৃচ্ছসাধনের প্রতীক। প্রতিটি সনাতনী প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্যই হলো আর্তমানবতার সেবা করা।" আরজি কর হাসপাতালের সাম্প্রতিক ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি নৈতিক অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মানুষকে পাপকাজ ও হিংসা থেকে দূরে রাখতে এবং সুস্থ সমাজ গড়তে নিয়মিত গীতাপাঠ ও নৈতিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। সনাতনী সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারের প্রয়োজনীয়তাও তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে। বক্তব্যের একপর্যায়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী উল্লেখ করেন, "প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যেভাবে মা গঙ্গার সঙ্গে বারাণসীর কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরকে সংযুক্ত করেছেন, তা ভারতের আধ্যাত্মিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।" শুভেন্দু অধিকারীর এই সফরকে কেন্দ্র করে আজ গোটা আদ্যাপীঠ মন্দির চত্বরে ছিল সাজ সাজ রব। আশ্রমের শিক্ষার্থী, আবাসিক এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণ এক উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়। আধ্যাত্মিক জাগরণ ও সামাজিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে সফর শেষ করেন তিনি।
গৃহযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীর আতেফ নাজিবকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দামেস্কের ফৌজদারি আদালত এ রায় ঘোষণা করে। কাতারভিত্তিক বার্তা সংস্থা আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, আসাদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে রায়টি অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষের অধীনে প্রথম কোনো রায়। এতে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের দায়ে বাশার আল আসাদকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত। আর আতেফ নাজিবকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা ও নির্যাতনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে দেরা প্রদেশে আসাদ সরকারের দ্বারা সংঘটিত অপরাধগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। আসাদের সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আতেফ নাজিব তার চাচাতো ভাই। তিনি সিরিয়ার সেনাবাহিনীতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে ছিলেন। ২০১১ সালে আসাদের অধীনে দক্ষিণ সিরিয়ার দারা প্রদেশে রাজনৈতিক নিরাপত্তা শাখার প্রধান হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। দক্ষিণ দারা প্রদেশে দমন-পীড়নের নেতৃত্ব দেয়ার জন্য তাকে এ দণ্ড দেয়া হয়েছে। রায়ে আরো বলা হয়েছে, নাজিব ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা এবং তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন। আদালত বলেছেন, তার এসব কর্মকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইসলামপন্থী নেতৃত্বাধীন বাহিনী দামেস্কের দিকে এগিয়ে আসতে থাকলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সিরিয়া থেকে মস্কোতে পালিয়ে যান বাশার আল-আসাদ। তবে এ সময় নাজিব পালাতে পারেননি। ফলে তাকে আটক করে বিচারের মুখোমুখি করা হয়।
নেপালের পাহাড়ে অপু বিশ্বাসের ‘শিকার’, যুক্ত হলেন কলকাতার তিন অভিনেতা
সীমান্তবর্তী এলাকার নানা অনিয়ম ও অপরাধের গল্প নিয়ে নির্মিত হচ্ছে নতুন থ্রিলার চলচ্চিত্র ‘শিকার’। কামরুজ্জামান রোমান পরিচালিত এই সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। তাঁর বিপরীতে এর মাধ্যমেই ঢালিউডে নায়ক হিসেবে অভিষেক হতে যাচ্ছে নতুন মুখ মুরতজা পলাশের। বর্তমানে হিমালয়কন্যা নেপালের পোখারার মনোরম লোকেশনে সিনেমাটির প্রথম ধাপের দৃশ্যধারণের কাজ চলছে। সিনেমাটিতে এবার নতুন করে যুক্ত হয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় তিন অভিনেতা—রজতাভ দত্ত, খরাজ মুখোপাধ্যায় ও শ্যাম ভট্টাচার্য। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রেজা ফিল্মসের ব্যানারে নির্মিতব্য এই চলচ্চিত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের অভিনয়শিল্পীদের পাশাপাশি নেপালের স্থানীয় কয়েকজন শিল্পীও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন। কলকাতার এই তিন অভিনেতারই পূর্বে বাংলাদেশের সিনেমায় কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে শ্যাম ভট্টাচার্য সম্প্রতি ‘বরবাদ’ ও ‘রাক্ষস’ সিনেমায় অভিনয় করে আলোচনায় এলেও দীর্ঘ বিরতির পর ঢালিউডের বড় পর্দায় ফিরছেন প্রবীণ দুই অভিনেতা রজতাভ দত্ত ও খরাজ মুখোপাধ্যায়। সিনেমায় নিজের চরিত্র প্রসঙ্গে রজতাভ দত্ত বলেন, ‘এই সিনেমায় আমার চরিত্রের নাম মনীষ মালহোত্রা। তাঁর একটি পলিটিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড রয়েছে, যে কি না সীমান্ত এলাকার নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। চরিত্রটি বেশ বৈচিত্র্যময়।’ অন্যদিকে শ্যাম ভট্টাচার্য জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত অপরাধকে কেন্দ্র করেই সিনেমার গল্পটি এগিয়ে যাবে। একটি সাধারণ গল্প কীভাবে নির্মাণের শক্তিতে অসাধারণ ও উপভোগ্য হয়ে ওঠে, দর্শকেরা এই চলচ্চিত্রে তা দেখতে পাবেন। চলতি বছরের শুরুতে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের ওয়েব ফিল্ম হিসেবে ‘শিকার’ নির্মাণের প্রথম আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীকালে এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও গল্পের পরিধি বিবেচনা করে এটিকে বড় পর্দার পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন সংশ্লিষ্টরা। সিনেমাটি নিয়ে দারুণ আশাবাদী নায়িকা অপু বিশ্বাস। তিনি জানান, গল্পে নিজের অভিনয়ের চমৎকার সুযোগ পেয়েই তিনি চিত্রনাট্যটি দেখে অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরিচালক কামরুজ্জামান রোমান জানান, নেপালে টানা ২৫ দিন দৃশ্যধারণের পর পুরো টিম ঢাকায় ফিরবে। এরপর বাংলাদেশে আরও এক সপ্তাহ শুটিংয়ের মধ্য দিয়ে চিত্রগ্রহণের কাজ শেষ হবে। এরপর দ্রুত পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ সম্পন্ন করে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির তারিখ ঘোষণা করা হবে।