শনিবার , ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রধান সংবাদ মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণে রাজধানীতে আতঙ্ক
মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণে রাজধানীতে আতঙ্ক

রাজধানী ঢাকায় একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যাত্রাবাড়ী, বাবুবাজার, বঙ্গবাজার, গুলিস্তান, মহাখালী, আগারগাঁও এবং সবশেষ মগবাজার চৌরাস…

দুদক দিয়ে বিরোধীদলকে দমনের চেষ্টা চলছে : নাহিদ ইসলাম
দুদক দিয়ে বিরোধীদলকে দমনের চেষ্টা চলছে : নাহিদ ইসলাম ১৬ ঘন্টা

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুনর্গঠনের মাধ্যমে বিরোধী দলগুলোকে রাজনৈতিকভাবে টার্গেট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ‘বিএনপি সরকার কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘনমূলক আইন পাস, বিরোধী মত দমন ও নাগরিকের মৌলিক অধিকার হরণের’ প্রতিবাদে এনসিপি আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম সরকারের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, "দুদক পুনর্গঠন করে এনসিপি ও বিরোধী দলগুলোকে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে। আপনাদের যদি সততা ও সাহস থাকে, তবে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ঘটে যাওয়া দুর্নীতি ও অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দেখান।"

দেশে বর্তমান মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, "যে গণতান্ত্রিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতার জন্য এ দেশের মানুষ রক্ত দিয়েছে এবং গণঅভ্যুত্থান করেছে, সেই মৌলিক অধিকার আজও নিশ্চিত হয়নি। মানবাধিকার সুরক্ষার আশ্বাস দিয়ে ক্ষমতায় এসে সরকার উল্টো মানবাধিকার খর্ব করার মতো আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা তৈরি করছে।"

পাঁচ মাস ধরে নিখোঁজ মিরাজ শেখের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "সরকারের মন্ত্রীরা গুম না হওয়ার যে দাবি করছেন তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বিশ্ববাসী জানে মিরাজ শেখ গুমের শিকার। অথচ তার পরিবার থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি এবং জিডিতে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর নাম লিখতে বাধা দেওয়া হয়েছে।"

বিভিন্ন মামলার বিষয় উল্লেখ করে এনসিপি প্রধান বলেন, "গাজী সালাহউদ্দিন তানভীরের বক্তব্যের বিরুদ্ধে আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছি, অথচ তার বিরুদ্ধে দেওয়া হয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী মামলা। সরকার প্রধান বা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিম বা ট্রোল করা কখনই সন্ত্রাসবাদের আওতায় পড়ে না।"

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রস্তাবিত গুম প্রতিরোধ আইন ও সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনীগুলোর মাধ্যমে নাগরিকের বাকস্বাধীনতা ও বিচার পাওয়ার অধিকারকে সংকুচিত করা হচ্ছে। একইসঙ্গে জ্বালানি সংকট নিরসন এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

ভিডিও গ্যালারি

সব ভিডিও

সারাদেশ

আন্তর্জাতিক

Image আন্তর্জাতিক
পাকিস্তানে জুম্মার নামাজে মসজিদে বোমা হামলা, নিহত ১৬

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাত জেলায় একটি মসজিদে ভয়াবহ বোমা হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১১ জন সাধারণ মুসল্লি এবং পাঁচজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।

আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কোহাত জেলার পুলিশ সদরদপ্তরের মসজিদে জুম্মার নামাজের সময় এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পেশোয়ার পুলিশ।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানায়, জুম্মার নামাজের জন্য সাধারণ মানুষ যখন মসজিদে জড়ো হচ্ছিলেন, ঠিক তখনই বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে মসজিদের গেটে সজোরে ধাক্কা দেয় হামলাকারীরা। মুহূর্তেই বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। এ ঘটনায় অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ঘটনার পর হামলাকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এখনো তুমুল গোলাগুলি চলছে। এরই মধ্যে পুলিশের গুলিতে এক হামলাকারী নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

জার্মান বার্তাসংস্থা ডিপিএ-কে স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসক তাহির শাহ জানান, হামলার পর ১৫টি মরদেহ এবং গুরুতর আহত প্রায় ৫০ জনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। চিকিৎসাধীন অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।

এখন পর্যন্ত কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী ওই অঞ্চলে তালেবান উপদল ‘তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান’ (টিটিপি)-এর শক্ত উপস্থিতি রয়েছে। তারা প্রায়ই দেশটির নিরাপত্তাবাহিনী ও ধর্মীয় স্থানগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে থাকে।

Image ভারত
১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ, হুমকি দিল্লির

বিগত সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। এই পদক্ষেপের প্রেক্ষিতে নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষায় ‘প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ’ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ভারত।

শুক্রবার এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা জানান।

তিনি বলেন, "আমরা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে বিষয়টি জেনেছি, তবে ঢাকার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও আমাদের কিছু জানানো হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই ভারত নিজের স্বার্থ সুরক্ষায় যা করার তা-ই করবে।"

ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে চুক্তিগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে।

দলের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি সম্প্রতি বলেন, "বিগত সরকারের আমলে করা ১০১টি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি আমরা পর্যালোচনা করছি। খুব শিগগিরই এর ফলাফল দেখতে পাবেন।"

মূলত গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের আমলে সম্পাদিত দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলোই এই পর্যালোচনার আওতায় আসছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার, আঞ্চলিক সংযোগ এবং যৌথ কৌশলগত প্রকল্প সম্পর্কিত চুক্তি ও সমঝোতাগুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে ঢাকা একযোগে সব চুক্তি বাতিলের কোনো ঘোষণা দেয়নি।

বাণিজ্য, ট্রানজিট, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও নদী পানিবণ্টনের মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক যখন নতুন করে কূটনৈতিক পরীক্ষার মুখে পড়েছে, তখনই বিষয়গুলো সামনে এলো।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে ভারত ইতিপূর্বে প্রায় ৭০০ কোটি (৭ বিলিয়ন) ডলার ঋণ দিয়েছে। এসব চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহার করে ভারতীয় পণ্য পরিবহনের সুবিধাও তৈরি হয়েছিল।

এদিকে গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চলা এবং তিস্তা চুক্তির অমীমাংসিত পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল জানান, অভিন্ন নদীগুলোর পানি সংক্রান্ত আলোচনা বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মাধ্যমেই চালমান রয়েছে।

তিনি বলেন, "গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির আওতায় আলোচনার জন্য যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) কার্যকর রয়েছে এবং কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকগুলো নিয়মিত হচ্ছে। ৫৪টি অভিন্ন নদীর সব ধরনের ইস্যু এই প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থার মাধ্যমেই সমাধান করা হয়।"

এই বিভাগে এখনো কোনো খবর প্রকাশিত হয়নি

এই বিভাগে এখনো কোনো খবর প্রকাশিত হয়নি

Image মধ্য প্রাচ্য
সৌদির সামরিক ঘাঁটিতে হুথিদের মিসাইল ও ড্রোন হামলা

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। স্থানীয় সময় রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় হুথির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পোস্টে তিনি জানান, সৌদির ওই ঘাঁটিতে থাকা একটি অস্ত্রের গুদাম ও কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। ওই সামরিক স্থাপনা ব্যবহার করেই ইয়েমেনের ভূখণ্ড ও জনগণের ওপর বিভিন্ন সময় আগ্রাসন চালানো হচ্ছিল বলে দাবি করেন তিনি। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট সময় বা ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ জানাননি এই মুখপাত্র।

গত সপ্তাহে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। যুদ্ধে শুরু থেকেই ইয়েমেন সরকারকে সব ধরনের সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়ে আসছে সৌদি আরব।

হুথিদের বিষয়ে মার্কিন নীতি

এদিকে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে হুথিদের নতুন অগ্রযাত্রায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে সংক্ষিপ্ত সফরকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “হুথিরা আমাদের সাথে যোগাযোগ করে জানিয়েছে যে, তারা ওয়াশিংটনের সাথে কোনো সংঘাত চায় না। তারা মার্কিন বাহিনীকে এই অভিযানে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।”

তেল পাইপলাইনে আঘাত

সৌদি ঘাঁটিতে এই হামলার পাশাপাশি দেশটির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ তেল পাইপলাইনেও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই পাইপলাইনটি হরমুজ প্রণালীকে এড়িয়ে লোহিত সাগরের মাধ্যমে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল রফতানির একমাত্র বিকল্প রুট ছিল। হামলার ফলে লোহিত সাগরে তেল পরিবহন সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

সৌদির কৌশলগত এই জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, এর পেছনে ইরানের সরাসরি বা পরোক্ষ মদদ থাকতে পারে।

Image ইউএসএ
ইরান যুদ্ধের দহন মার্কিন মুলুকে: প্রতি দুই মিনিটে গচ্ছা যাচ্ছে ১০ লাখ ডলার

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যখন ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোন লড়াইয়ের গর্জন, আর তখন তার তপ্ত আঁচ গিয়ে লাগছে আটলান্টিকের ওপারে মার্কিন মুলুকের সাধারণ মানুষের পকেটে। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত এখন আর কেবল ভূরাজনৈতিক মানচিত্রের লড়াই নেই; তা রূপ নিয়েছে মার্কিন নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনযুদ্ধের আশঙ্কায়। যুদ্ধের জেরে জ্বালানির বাড়তি দাম মেটাতে গিয়ে ইতিমধ্যে মার্কিন ভোক্তাদের পকেট থেকে অতিরিক্ত ১০০ বিলিয়ন (১০ হাজার কোটি) ডলারের বেশি বেরিয়ে গেছে।

ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াটসন ইনস্টিটিউটের ‘ক্লাইমেট সলিউশনস ল্যাব’-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে পেট্রল ও ডিজেলের পেছনে মার্কিন নাগরিকদের এই বিশাল অঙ্কের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে।

প্রতি দুই মিনিটে গচ্ছা যাচ্ছে ১০ লাখ ডলার
গবেষণার হিসাবটি চমকে দেওয়ার মতো। বর্তমানে যে গতিতে জ্বালানির দাম বাড়ছে, তাতে প্রতি দুই মিনিটে মার্কিন ভোক্তাদের অতিরিক্ত ১০ লাখ ডলার গুনতে হচ্ছে। যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত একটি গড়পড়তা মার্কিন পরিবারকে কেবল জ্বালানি খাতের বাড়তি ব্যয় মেটাতে ৭৬০ ডলারের বেশি খরচ করতে হয়েছে।

ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা বলছেন, ১০০.৪ বিলিয়ন ডলারের এই হিসাবটি একটি তুলনামূলক চিত্র। যুদ্ধ না হলে জ্বালানির দাম কেমন থাকত এবং যুদ্ধের কারণে বর্তমানে দাম কত এই দুইয়ের ব্যবধান থেকেই অতিরিক্ত ব্যয়ের এই খতিয়ান তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু পেট্রলেই বাড়তি খরচ হয়েছে ৫৫.০১ বিলিয়ন ডলার।

গ্যাস স্টেশনে অস্বস্তি
যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ব্যক্তিগত গাড়ি। কিন্তু গ্যাস স্টেশনগুলোতে এখন তেলের দাম দেখে কপালে ভাঁজ পড়ছে সাধারণ মানুষের। সাম্প্রতিক শ্রমিক দিবসের ছুটিতে দেখা গেছে, দেশজুড়ে নিয়মিত গ্যাসোলিনের গড় দাম প্রতি গ্যালনে ৪.১৪ ডলারে ঠেকেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় এক ডলার বেশি। অন্যদিকে, ডিজেলের দাম বেড়ে হয়েছে ৫.৮৫ ডলার। শতাংশের হিসেবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গ্যাসোলিনের দাম ৩৯ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মূল্যবৃদ্ধির পুরো দায় কেবল যুদ্ধের নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ও চাহিদা, মজুত পরিস্থিতি এবং পরিবহন ঝুঁকির মতো বিষয়গুলোও এখানে অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে।

পণ্য ও সেবায় বাড়তি খরচের শঙ্কা
জ্বালানির এই দাম বৃদ্ধি কেবল ব্যক্তিগত গাড়ির চাকাতেই সীমাবদ্ধ নেই। ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাক ও লরির মাধ্যমে পণ্য পরিবহন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে কৃষি ও নির্মাণ খাতে। পণ্যবাহী যানের খরচ বাড়লে শেষ পর্যন্ত তার বোঝা সাধারণ ক্রেতার ওপরই পড়ে। ফলে নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

উদ্বেগের কেন্দ্রে হরমুজ প্রণালি
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মূল কেন্দ্রবিন্দু এখন হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের বড় একটি অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই প্রণালি ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আতঙ্ক বিরাজ করছে বাজারে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৭ সেপ্টেম্বর ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৭ ডলারে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই তেলের দামও ব্যারেলপ্রতি ৯৩ ডলার ছুঁইছুঁই। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাত যদি আরও ছড়িয়ে পড়ে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়, তবে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার পর্যন্ত উঠে যেতে পারে।

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনিশ্চয়তার কালো মেঘ আরও ঘনীভূত হচ্ছে। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, আধুনিক বিশ্বের যুদ্ধগুলো কেবল নির্দিষ্ট কোনো সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর আর্থিক ধাক্কা সমুদ্র পেরিয়ে পৌঁছে যায় সাধারণ মানুষের ডাইনিং টেবিল পর্যন্ত।

(তথ্যসূত্র: ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়, অ্যাক্সিওস ও রয়টার্স)

Image ইউরোপ
যুক্তরাজ্য ভাঙার নজিরবিহীন উদ্যোগ, কার্ডিফে তিন দেশের ফার্স্ট মিনিস্টারের ঐতিহাসিক বৈঠক

যুক্তরাজ্য থেকে পৃথক হওয়ার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক নেতৃত্ব। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফের সেন্ট ডেভিডস হোটেলে এক নজিরবিহীন বৈঠকে বসছেন তিন দেশের ফার্স্ট মিনিস্টার।

যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে তিন নেতা একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে সই করবেন। এতে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এবং স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের আনুষ্ঠানিক দাবি জানানো হবে। কার্ডিফ বে–এর তীরে অবস্থিত হোটেলটিতে তিন ফার্স্ট মিনিস্টারের সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের প্রধান বিরোধী দল সিন ফেইনের সভাপতি মেরি লু ম্যাকডোনাল্ডও উপস্থিত থাকবেন।

রাজনৈতিক চিত্রে বড় পরিবর্তন ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড—তিনটি বিকেন্দ্রীভূত (Devolved) সরকারের নেতৃত্বেই রয়েছে স্বাধীনতাপন্থি দলগুলো।

স্কটল্যান্ডে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (এসএনপি) নেতা জন সুইনি ফার্স্ট মিনিস্টারের দায়িত্বে রয়েছেন। ওয়েলসে মে মাসের নির্বাচনে লেবার পার্টির পরাজয়ের পর সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে আসে প্লেইড কামরু; দলটির নেতা রুন আপ আইওয়ার্থ বর্তমানে ফার্স্ট মিনিস্টার। অন্যদিকে, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে সিন ফেইনের মিশেল ও’নিল ফার্স্ট মিনিস্টার হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

‘বর্তমান ব্যবস্থা টেকসই নয়’ স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি বলেন, তিন দেশেই স্বাধীনতাপন্থি নেতৃত্ব আসা প্রমাণ করে যে যুক্তরাজ্যের বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো আর টেকসই নয়। ওয়েস্টমিনস্টারকে ‘যুক্তরাজ্য-পরবর্তী’ ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সমালোচনা করে সুইনি বলেন, “ইতিহাসে হয়তো তিনি যুক্তরাজ্যের শেষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবেন।” কার্ডিফের এই বৈঠককে স্বাধীনতার অভিমুখে এক ‘নতুন সূচনা’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

গণভোট ইস্যুতে লন্ডনের অবস্থান তিন নেতার বৈঠকের মুখে গণভোট নিয়ে যুক্তরাজ্যে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম সম্প্রতি জানান, স্কটল্যান্ডে যদি স্বাধীনতার পক্ষে ‘স্পষ্ট ঐকমত্য’ তৈরি হয়, তবে গণভোট বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে জন সুইনিকে লেখা সাম্প্রতিক এক চিঠিতে তিনি স্পষ্ট করেন, নতুন কোনো সাধারণ নির্বাচনের আগে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার গণভোটের সুযোগ নেই। এতে মূল অর্থনৈতিক সংস্কার থেকে সরকারের মনোযোগ সরে যাবে বলে মত তাঁর।

আয়ারল্যান্ড একত্রীকরণ ও ইইউতে ফেরা বৈঠকে তিন দেশের মধ্যে অর্থনীতি, জ্বালানি, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে।

‘গুড ফ্রাইডে চুক্তি’ অনুযায়ী নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে আইরিশ পুনরেকত্রীকরণ গণভোটের সুযোগ রয়েছে। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের অংশ হওয়ার মাধ্যমে এবং স্কটল্যান্ড ও ওয়েলস স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পুনরায় ইইউ-তে যোগ দিতে আগ্রহী।

ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিকভাবেও বিষয়টি নজরে এসেছে। সম্প্রতি ডাবলিন সফরকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেন, তিনি একটি ‘ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড’ দেখতে আগ্রহী।

ক্ষমতা বৃদ্ধির দাবি ওয়েলসের বৈঠকে প্লেইড কামরু ওয়েলসের জন্য বাড়তি অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার দাবি তুলবে। বিশেষ করে রাজস্ব, কর সংগ্রহ, পুলিশ ও রেল খাতের নিয়ন্ত্রণ ওয়েলস সরকারের হাতে হস্তান্তরের জোর দাবি জানানো হচ্ছে।

এই বিভাগে এখনো কোনো খবর প্রকাশিত হয়নি

বিনোদন

খেলাধুলা

মতামত

ফটো গ্যালারী

সব ছবি