শনিবার , ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রধান সংবাদ ভোলার আড়াই কেজির ‘রাজা ইলিশ’ এখন ঢাকার পথে
ভোলার আড়াই কেজির ‘রাজা ইলিশ’ এখন ঢাকার পথে

ভোলার মেঘনা ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জেলে মিরাজ মাঝির জালে ধরা পড়েছে আড়াই কেজি ওজনের একটি বিশাল ইলিশ। স্থানীয়রা মাছটিকে ‘রাজা ইলিশ’ হিসেবে অভিহিত করছেন। আজ শুক্রবার সকালে ভোলার ইলিশা তালতলি মৎস্যঘাটে ম…

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধানক্ষেতে প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি : প্রাণ হারালেন পথচারী
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধানক্ষেতে প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি : প্রাণ হারালেন পথচারী ১৫ ঘন্টা

বগুড়ার শিবগঞ্জে জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীকে বহনকারী গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত পথচারী ফিরোজা বেগম (৫৫) মারা গেছেন। আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এর আগে সকাল ৯টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক এলাকায় ঢাকা-জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ফিরোজা বেগম শিবগঞ্জ উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত নিজাম উদ্দিনের স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী দুই দিনের সরকারি সফরে ঢাকা থেকে জয়পুরহাটে যাচ্ছিলেন। পথে শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক বড় ব্রিজের পূর্ব পাশে হরিপুর এলাকায় পৌঁছালে এক নারী পথচারী রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রীর গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে একটি ধানক্ষেতে পড়ে যায়। এতে ওই নারী গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠান।

এই দুর্ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী দুই পায়ে ও হাঁটুতে আঘাত পেয়েছেন। তবে তাঁর সঙ্গে থাকা স্ত্রী নাজমা বেগম অক্ষত রয়েছেন। প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির চালকও সামান্য আহত হয়েছেন। প্রতিমন্ত্রীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর জয়পুরহাটের কালাই পৌর শহরে তাঁর নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইব্রাহীম হোসেন ওই নারীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার বর্ণনা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেন, ‘রাস্তা থেকে গাড়িটি ছিটকে ফসলের মাঠে গিয়ে পড়েছিল। আল্লাহর রহমতে বড় কোনো বিপদ হয়নি, তবে পায়ে ব্যথা পেয়েছি।’

কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম বলেন, প্রতিমন্ত্রী এখন তাঁর বাড়িতেই বিশ্রামে আছেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজে সহায়তা করেছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ভিডিও গ্যালারি

সব ভিডিও

সারাদেশ

আন্তর্জাতিক

Image আন্তর্জাতিক
কানাডায় অভিবাসনে কড়াকড়ি : দালাল ও ভুয়া ল ফার্মের খপ্পরে বাংলাদেশিরা

উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডায় স্থায়ী হওয়ার স্বপ্ন এখন ফিকে হতে শুরু করেছে অনেক বাংলাদেশির জন্য। এক সময়ের উদার অভিবাসন নীতির দেশটি এখন অনেকটা ‘বন্ধ দুয়ার’ নীতি গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত কানাডার অভিবাসন ও আশ্রয় নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ফলে বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার বাংলাদেশি। সিবিএসএ-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কানাডা থেকে বিদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্টেশন) তালিকায় শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে এখন বাংলাদেশের নাম উঠে এসেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কানাডায় নতুন আসা বাংলাদেশিদের বড় একটি অংশ ভাষা দক্ষতা না থাকা এবং স্থানীয় আইন না বোঝার কারণে এক শ্রেণির প্রতারক দালাল ও নামসর্বস্ব ‘ল ফার্ম’-এর খপ্পরে পড়ছেন। এসব প্রতিষ্ঠান একই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে একাধিক ব্যক্তির নামে ‘কপি-পেস্ট’ মামলা সাজাচ্ছে। প্রতিটি মামলার জন্য আশ্রয়প্রার্থীদের কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ হাজার ডলার হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। এর একটি বড় অংশ কমিশন হিসেবে চলে যাচ্ছে দালালদের পকেটে। অন্যদিকে, কিছু বৈধ বাংলাদেশি আইনজীবীর ল ফার্ম অতিরিক্ত গ্রাহক নেওয়ায় মামলাগুলো সঠিকভাবে তদারকি করতে পারছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।


৪৫ বছর বয়সী মঞ্জুর (ছদ্মনাম) পরিবার নিয়ে দেশটিতে রিফিউজি প্রটেকশন দাবি করেছিলেন। তার আবেদন বাতিল হলেও আইনজীবী তাকে কিছুই জানাননি। নিয়ম অনুযায়ী ১৫ দিনের মধ্যে আপিল না করায় তাকে সরাসরি ডিপোর্টেশনের নোটিশ দেয় কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ)। অফিসে দেখা করতে গেলে তাকে আটক করা হয় এবং পরিবারকে মাত্র দুই দিন সময় দেওয়া হয় দেশ ছাড়ার গোছগাছ করতে। মঞ্জুরের মতো শত শত বাংলাদেশির সাজানো স্বপ্ন এক নিমেষেই চুরমার হয়ে যাচ্ছে।


সিবিএসএ-এর ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, ৯৬৮ জন বাংলাদেশি বর্তমানে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। সংস্থাটির তথ্যমতে, বর্তমানে সব দেশ মিলিয়ে মোট ৪০ হাজার ৮২৭ জন বিদেশি নাগরিক এই তালিকায় আছেন, যার মধ্যে সিংহভাগই রিফিউজি ক্লেইম-সংক্রান্ত।

উদ্বেগের বিষয় হলো, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই ২২৭ জন বাংলাদেশিকে কানাডা থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ২০২০ সালে যেখানে পুরো বছরে এই সংখ্যা ছিল ৩০৮, সেখানে মাত্র ছয় মাসেই সেই সংখ্যার তিন-চতুর্থাংশ ছাড়িয়ে যাওয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দেশটির কর্তৃপক্ষ ফেরত পাঠানোর গতি বহুগুণ বাড়িয়েছে। বর্তমানে কানাডা প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৪০০ জনকে ফেরত পাঠাচ্ছে, যার জন্য সরকার ৩০.৪ মিলিয়ন ডলারের বিশেষ তহবিল বরাদ্দ করেছে।


কানাডার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি বোর্ডের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদনের গ্রহণযোগ্যতা আশঙ্কাজনক হারে কমছে।

  • ২০২৪ সালে: বাংলাদেশিদের রিফিউজি আবেদনের গ্রহণযোগ্যতার হার ছিল প্রায় ৮১ শতাংশ।

  • ২০২৫ সালে: এই হার নেমে দাঁড়ায় ৫৮ শতাংশে।

  • ২০২৬ (জানুয়ারি-মার্চ): গ্রহণযোগ্যতা আরও কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৬ শতাংশে।

বর্তমানে প্রায় ১৯ হাজার ৯৭২টি বাংলাদেশি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। কর্মকর্তাদের কঠোর অবস্থান এবং কড়াকড়ির কারণে এই আবেদনগুলোর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।


২০২৬ সালের মার্চে পাস হওয়া সি-১২ বিল আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য মরণকামড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী, কানাডায় প্রবেশের এক বছরের বেশি সময় পর কেউ আশ্রয় দাবি করলে তা সরাসরি বাতিল হতে পারে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশের ক্ষেত্রেও আইন অত্যন্ত কঠোর করা হয়েছে।

 

সম্প্রতি শেষ হওয়া ফুটবল বিশ্বকাপও বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা পাওয়ার পথ কঠিন করে তুলেছে। বিশ্বকাপ উপলক্ষে পাওয়া মাত্র ৪৫টি ভিজিটর ভিসার মধ্যে ১০ জনই কানাডায় গিয়ে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। এই ধরনের প্রবণতা এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে আবেদন করার কারণে কানাডার সরকার বাংলাদেশ, ভারত ও নাইজেরিয়ার মতো দেশগুলোকে ‘বিশেষ নজরদারি’র তালিকায় রেখেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক মিথ্যা পরিচয় বা ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে আশ্রয় পাওয়ার চেষ্টা এখন শুধু ঝুঁকিপূর্ণই নয়, বরং যারা বৈধভাবে কানাডায় যেতে চান, তাদের জন্যও এটি একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তথাকথিত দালালদের প্রলোভনে পড়ে সর্বস্ব খুইয়ে বিদেশে গিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে না পড়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Image ভারত
পাপকর্ম রুখতে গীতাপাঠের পরামর্শ দিলেন শুভেন্দু অধিকারী

আধ্যাত্মিকতা ও সেবার সংমিশ্রণে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উত্তর চব্বিশ পরগনার বেলঘরিয়ার ঐতিহাসিক আদ্যাপীঠ মন্দির পরিদর্শন করলেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি মন্দিরের নবনির্মিত প্রধান তোরণ এবং ভক্তদের জন্য নতুন একটি অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত ভক্ত ও আবাসিকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি আধ্যাত্মিক চেতনার পাশাপাশি সমসাময়িক সামাজিক অবক্ষয় রোধে ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।


এদিন দুপুরে আদ্যাপীঠ আশ্রমে পৌঁছালে শুভেন্দু অধিকারীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান আদ্যাপীঠের বর্তমান অধ্যক্ষ ব্রহ্মচারী মুরাল ভাই। আশ্রমের আবাসিক ও শিক্ষার্থীরা প্রসাদী মালা পরিয়ে তাঁকে বরণ করে নেন। এরপর তিনি ফিতে কেটে মন্দিরের সুদৃশ্য নবনির্মিত মূল প্রবেশদ্বার বা তোরণের উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে ভক্ত ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবার কথা মাথায় রেখে আশ্রমের পক্ষ থেকে চালু করা নতুন অ্যাম্বুল্যান্সটির যাত্রারম্ভ করেন তিনি।


উদ্বোধনী পর্ব শেষে শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি চলে যান আদ্যাপীঠের গোশালায়। সেখানে তিনি পরম মমতায় গো-সেবা করেন। এরপর মূল মন্দিরে প্রবেশ করে আদ্যা মায়ের বিশেষ পূজা ও আরতিতে অংশ নেন। বিশ্বশান্তি ও জনকল্যাণের প্রার্থনায় তিনি বেশ কিছুক্ষণ মন্দিরে অতিবাহিত করেন। পূজা শেষে তিনি আশ্রম পরিচালিত অনাথ আশ্রম এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। আশ্রমের ভবিষ্যৎ উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা ও সমাজসেবামূলক কাজের খোঁজখবর নেন তিনি।


মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত সভায় শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে উঠে আসে আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক দর্শনের মেলবন্ধন। গেরুয়া রঙের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, "গেরুয়া কোনো রাজনৈতিক দলের রঙ নয়; এটি হলো ত্যাগ ও কৃচ্ছসাধনের প্রতীক। প্রতিটি সনাতনী প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্যই হলো আর্তমানবতার সেবা করা।"

আরজি কর হাসপাতালের সাম্প্রতিক ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি নৈতিক অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মানুষকে পাপকাজ ও হিংসা থেকে দূরে রাখতে এবং সুস্থ সমাজ গড়তে নিয়মিত গীতাপাঠ ও নৈতিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। সনাতনী সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারের প্রয়োজনীয়তাও তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে।

বক্তব্যের একপর্যায়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী উল্লেখ করেন, "প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যেভাবে মা গঙ্গার সঙ্গে বারাণসীর কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরকে সংযুক্ত করেছেন, তা ভারতের আধ্যাত্মিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।"

শুভেন্দু অধিকারীর এই সফরকে কেন্দ্র করে আজ গোটা আদ্যাপীঠ মন্দির চত্বরে ছিল সাজ সাজ রব। আশ্রমের শিক্ষার্থী, আবাসিক এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণ এক উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়। আধ্যাত্মিক জাগরণ ও সামাজিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে সফর শেষ করেন তিনি।

এই বিভাগে এখনো কোনো খবর প্রকাশিত হয়নি

এই বিভাগে এখনো কোনো খবর প্রকাশিত হয়নি

Image মধ্য প্রাচ্য
সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড

গৃহযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীর আতেফ নাজিবকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দামেস্কের ফৌজদারি আদালত এ রায় ঘোষণা করে।

কাতারভিত্তিক বার্তা সংস্থা আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, আসাদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে রায়টি অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষের অধীনে প্রথম কোনো রায়। এতে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের দায়ে বাশার আল আসাদকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত। আর আতেফ নাজিবকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা ও নির্যাতনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে দেরা প্রদেশে আসাদ সরকারের দ্বারা সংঘটিত অপরাধগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।

আসাদের সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আতেফ নাজিব তার চাচাতো ভাই। তিনি সিরিয়ার সেনাবাহিনীতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে ছিলেন। ২০১১ সালে আসাদের অধীনে দক্ষিণ সিরিয়ার দারা প্রদেশে রাজনৈতিক নিরাপত্তা শাখার প্রধান হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। দক্ষিণ দারা প্রদেশে দমন-পীড়নের নেতৃত্ব দেয়ার জন্য তাকে এ দণ্ড দেয়া হয়েছে।

রায়ে আরো বলা হয়েছে, নাজিব ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা এবং তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন। আদালত বলেছেন, তার এসব কর্মকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইসলামপন্থী নেতৃত্বাধীন বাহিনী দামেস্কের দিকে এগিয়ে আসতে থাকলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সিরিয়া থেকে মস্কোতে পালিয়ে যান বাশার আল-আসাদ। তবে এ সময় নাজিব পালাতে পারেননি। ফলে তাকে আটক করে বিচারের মুখোমুখি করা হয়।

এই বিভাগে এখনো কোনো খবর প্রকাশিত হয়নি

Image ইউরোপ
কানাডায় অভিবাসনে কড়াকড়ি : দালাল ও ভুয়া ল ফার্মের খপ্পরে বাংলাদেশিরা

উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডায় স্থায়ী হওয়ার স্বপ্ন এখন ফিকে হতে শুরু করেছে অনেক বাংলাদেশির জন্য। এক সময়ের উদার অভিবাসন নীতির দেশটি এখন অনেকটা ‘বন্ধ দুয়ার’ নীতি গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত কানাডার অভিবাসন ও আশ্রয় নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ফলে বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার বাংলাদেশি। সিবিএসএ-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কানাডা থেকে বিদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্টেশন) তালিকায় শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে এখন বাংলাদেশের নাম উঠে এসেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কানাডায় নতুন আসা বাংলাদেশিদের বড় একটি অংশ ভাষা দক্ষতা না থাকা এবং স্থানীয় আইন না বোঝার কারণে এক শ্রেণির প্রতারক দালাল ও নামসর্বস্ব ‘ল ফার্ম’-এর খপ্পরে পড়ছেন। এসব প্রতিষ্ঠান একই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে একাধিক ব্যক্তির নামে ‘কপি-পেস্ট’ মামলা সাজাচ্ছে। প্রতিটি মামলার জন্য আশ্রয়প্রার্থীদের কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ হাজার ডলার হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। এর একটি বড় অংশ কমিশন হিসেবে চলে যাচ্ছে দালালদের পকেটে। অন্যদিকে, কিছু বৈধ বাংলাদেশি আইনজীবীর ল ফার্ম অতিরিক্ত গ্রাহক নেওয়ায় মামলাগুলো সঠিকভাবে তদারকি করতে পারছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।


৪৫ বছর বয়সী মঞ্জুর (ছদ্মনাম) পরিবার নিয়ে দেশটিতে রিফিউজি প্রটেকশন দাবি করেছিলেন। তার আবেদন বাতিল হলেও আইনজীবী তাকে কিছুই জানাননি। নিয়ম অনুযায়ী ১৫ দিনের মধ্যে আপিল না করায় তাকে সরাসরি ডিপোর্টেশনের নোটিশ দেয় কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ)। অফিসে দেখা করতে গেলে তাকে আটক করা হয় এবং পরিবারকে মাত্র দুই দিন সময় দেওয়া হয় দেশ ছাড়ার গোছগাছ করতে। মঞ্জুরের মতো শত শত বাংলাদেশির সাজানো স্বপ্ন এক নিমেষেই চুরমার হয়ে যাচ্ছে।


সিবিএসএ-এর ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, ৯৬৮ জন বাংলাদেশি বর্তমানে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। সংস্থাটির তথ্যমতে, বর্তমানে সব দেশ মিলিয়ে মোট ৪০ হাজার ৮২৭ জন বিদেশি নাগরিক এই তালিকায় আছেন, যার মধ্যে সিংহভাগই রিফিউজি ক্লেইম-সংক্রান্ত।

উদ্বেগের বিষয় হলো, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই ২২৭ জন বাংলাদেশিকে কানাডা থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ২০২০ সালে যেখানে পুরো বছরে এই সংখ্যা ছিল ৩০৮, সেখানে মাত্র ছয় মাসেই সেই সংখ্যার তিন-চতুর্থাংশ ছাড়িয়ে যাওয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দেশটির কর্তৃপক্ষ ফেরত পাঠানোর গতি বহুগুণ বাড়িয়েছে। বর্তমানে কানাডা প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৪০০ জনকে ফেরত পাঠাচ্ছে, যার জন্য সরকার ৩০.৪ মিলিয়ন ডলারের বিশেষ তহবিল বরাদ্দ করেছে।


কানাডার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি বোর্ডের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদনের গ্রহণযোগ্যতা আশঙ্কাজনক হারে কমছে।

  • ২০২৪ সালে: বাংলাদেশিদের রিফিউজি আবেদনের গ্রহণযোগ্যতার হার ছিল প্রায় ৮১ শতাংশ।

  • ২০২৫ সালে: এই হার নেমে দাঁড়ায় ৫৮ শতাংশে।

  • ২০২৬ (জানুয়ারি-মার্চ): গ্রহণযোগ্যতা আরও কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৬ শতাংশে।

বর্তমানে প্রায় ১৯ হাজার ৯৭২টি বাংলাদেশি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। কর্মকর্তাদের কঠোর অবস্থান এবং কড়াকড়ির কারণে এই আবেদনগুলোর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।


২০২৬ সালের মার্চে পাস হওয়া সি-১২ বিল আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য মরণকামড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী, কানাডায় প্রবেশের এক বছরের বেশি সময় পর কেউ আশ্রয় দাবি করলে তা সরাসরি বাতিল হতে পারে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশের ক্ষেত্রেও আইন অত্যন্ত কঠোর করা হয়েছে।

 

সম্প্রতি শেষ হওয়া ফুটবল বিশ্বকাপও বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা পাওয়ার পথ কঠিন করে তুলেছে। বিশ্বকাপ উপলক্ষে পাওয়া মাত্র ৪৫টি ভিজিটর ভিসার মধ্যে ১০ জনই কানাডায় গিয়ে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। এই ধরনের প্রবণতা এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে আবেদন করার কারণে কানাডার সরকার বাংলাদেশ, ভারত ও নাইজেরিয়ার মতো দেশগুলোকে ‘বিশেষ নজরদারি’র তালিকায় রেখেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক মিথ্যা পরিচয় বা ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে আশ্রয় পাওয়ার চেষ্টা এখন শুধু ঝুঁকিপূর্ণই নয়, বরং যারা বৈধভাবে কানাডায় যেতে চান, তাদের জন্যও এটি একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তথাকথিত দালালদের প্রলোভনে পড়ে সর্বস্ব খুইয়ে বিদেশে গিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে না পড়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই বিভাগে এখনো কোনো খবর প্রকাশিত হয়নি

বিনোদন

খেলাধুলা

মতামত

ফটো গ্যালারী

সব ছবি