
এস আলম গ্রুপ সংশ্লিষ্ট ২৪টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বহুল আলোচিত রিট মামলায় নিজেদের আইনজীবী পরিবর্তন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে নতুন আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে আগের আইনজীবীর কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) সংগ্রহ করেছে। অন্যদিকে, ইসলামী ব্যাংকও তাদের বর্তমান আইনজীবীকে সরিয়ে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় দীর্ঘ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে আইনি লড়াই চালিয়ে আসছিলেন ব্যারিস্টার শামীম খালেদ আহমেদ। সম্প্রতি তাকে পরিবর্তন করে অন্য এক আইনজীবীকে দায়িত্ব দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যারিস্টার শামীম খালেদ গণমাধ্যমকে জানান, তিনি ইতোমধ্যে এনওসি দিয়েছেন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন আইনজীবী নিয়োগ করেছে। এদিকে, ইসলামী ব্যাংকের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছিলেন ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গত ১১ আগস্ট তাকে চিঠি দিয়ে অনাপত্তিপত্র চেয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাংক এই মামলায় নতুন আইনজীবী নিয়োগ করতে চায়। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়। এতে অভিযোগ করা হয়, এস আলম গ্রুপ সংশ্লিষ্ট ২৪টি প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের টাকা দিয়েই ব্যাংকটির ৮২ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা দখল করেছে। প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট গত বছরের অক্টোবরে এ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) একটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে ৪২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন এবং একটি অডিট রিপোর্ট জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনে ব্যাংকের শেয়ার জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ এবং এস আলম গ্রুপের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। তদন্তে বলা হয়, ২০১৭ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সরাসরি রাজনৈতিক মদদে ব্যাংক কোম্পানি আইনের তোয়াক্কা না করে ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ৭২ শতাংশ শেয়ারের নিয়ন্ত্রণ নেয় এস আলম গ্রুপ। জালিয়াতির মাধ্যমে শেয়ার কেনা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল ‘জেএমসি বিল্ডার্স’, যার চেয়ারম্যান এস আলমের ছেলে আহসানুল আলম। বিএফআইইউর প্রতিবেদনে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য তথ্য ছিল সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সংশ্লিষ্টতা। তদন্ত অনুযায়ী, জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন ২০১৭ সালের ৮ জুন ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত হন। তিনি ব্যাংকটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগ পর্যন্ত, অর্থাৎ ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি ওই পদে বহাল ছিলেন। রিট আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, মো. সাহাবুদ্দিন যখন ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে ছিলেন, সেই সময়েই এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে। অডিট প্রতিবেদনে দেখা যায়, জেএমসি বিল্ডার্সের নিজস্ব মূলধন মাত্র ১০ কোটি টাকা হলেও তারা ব্যাংক থেকে ১০২ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছে, যার অর্থের জোগান দিয়েছিল স্বয়ং এস আলম ট্রেডিং কোম্পানি। রিট মামলাটি বর্তমানে হাইকোর্টে বিচারাধীন। সম্প্রতি মামলাটি শুনানির জন্য তালিকায় এলে হাইকোর্টের একজন বিচারপতি বিব্রতবোধ (Recuse) করেন। নিয়ম অনুযায়ী, মামলাটি পরে প্রধান বিচারপতির দপ্তরে পাঠানো হয় এবং বর্তমানে এটি অন্য একটি বেঞ্চে শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহেই মামলাটি নতুন বেঞ্চে শুনানির জন্য আসতে পারে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর আইনি লড়াইয়ে এই আইনজীবী পরিবর্তনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিস্তারিত

আগস্ট ১১, ২০২৬
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আসন্ন সিরিজ নিয়ে জল্পনাকল্পনার শেষ নেই। তবে প্রস্তুতির শুরুটা হয়েছে চরম হতাশায়। প্রস্তুতি ম্যাচে অখ্যাত ক্যাম্পবেল টমসনের তোপে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস ও ৩৮ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। ২৫ রান দিয়ে ৮ উইকেট শিকার করে শান্তদের ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দিয়েছেন টমসন। অথচ ২৩ বছর আগে চিত্রটা ছিল ভিন্ন। ২০০৩ সালের সেই সফরে টেস্ট সিরিজের আগে তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচের সব কটিতেই জিতেছিল বাংলাদেশ। যদিও মূল লড়াইয়ে সেই আত্মবিশ্বাস কোনো কাজে আসেনি; টেস্ট ও ওয়ানডে—উভয় সিরিজেই হোয়াইটওয়াশ হতে হয়েছিল। সেবার ডারউইনে প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১৩২ রান এবং কেয়ার্নসে দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ও ৯৮ রানে হেরেছিল খালেদ মাহমুদ সুজনের দল। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সফরের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। এবারের স্কোয়াডে সেই আমলের কেউ না থাকলেও দলের সঙ্গে আছেন দুই সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল ও হাবিবুল বাশার। তবে খেলোয়াড় হিসেবে নয়, তাঁদের ভূমিকা এখন ভিন্ন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ব্যাটিং কোচ হিসেবে নিয়োগ পাওয়া আশরাফুল সামলাচ্ছেন ব্যাটারদের, আর হাবিবুল বাশার কাজ করছেন প্রধান নির্বাচক হিসেবে। ২০০৩ সালের সেই সফরে স্টিভ ওয়াহর গ্লাভস নিয়ে একটি মজার স্মৃতি আছে আশরাফুলের। প্রথম টেস্টে হারের পর অজি অধিনায়ক আশরাফুলকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, দ্বিতীয় টেস্টে হাফ সেঞ্চুরি করলে তাঁকে নিজের ব্যাটিং গ্লাভস উপহার দেবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, সেই টেস্টের দুই ইনিংসেই শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন আশরাফুল। অথচ প্রথম টেস্টে তিনি ২৩ ও ৭ রান করেছিলেন। অন্যদিকে, সেই সফরে উজ্জ্বল ছিলেন ‘মিস্টার ফিফটি’খ্যাত হাবিবুল বাশার। প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৪ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। দ্বিতীয় টেস্টেও এক ইনিংসে ৪৬ ও অন্য ইনিংসে ২৫ রান করেন। এমনকি প্রস্তুতি ম্যাচেও সেঞ্চুরির খুব কাছ থেকে (৯৯ রান) ফিরেছিলেন তিনি। ২৩ বছর পর পরিস্থিতি বদলেছে। খেলোয়াড়ি জীবনের ব্যর্থতা ভুলে এবার নেপথ্য কারিগর হিসেবে আশরাফুল ও হাবিবুল বাশারের লক্ষ্য নাজমুল হোসেন শান্তর দলকে সাফল্য এনে দেওয়া। জিম্বাবুয়ে সিরিজে আশরাফুলের অধীনে ব্যাটাররা ভালো ছন্দে ছিল। এবার অস্ট্রেলিয়ার কঠিন কন্ডিশনে দুই অভিজ্ঞ সাবেক অধিনায়কের পরামর্শে দল কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
খেলাধুলা
বেলফাস্টের জয়ে শঙ্কা কাটল বাংলাদেশের, সরাসরি খেলবেন শান্তরা জানুয়ারি ০১, ১৯৭০
খেলাধুলা
বিশ্বকাপ প্রকল্পে ইনফান্তিনোর সমর্থন করেনি বাংলাদেশ জানুয়ারি ০১, ১৯৭০
আধ্যাত্মিকতা ও সেবার সংমিশ্রণে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উত্তর চব্বিশ পরগনার বেলঘরিয়ার ঐতিহাসিক আদ্যাপীঠ মন্দির পরিদর্শন করলেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি মন্দিরের নবনির্মিত প্রধান তোরণ এবং ভক্তদের জন্য নতুন একটি অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত ভক্ত ও আবাসিকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি আধ্যাত্মিক চেতনার পাশাপাশি সমসাময়িক সামাজিক অবক্ষয় রোধে ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। এদিন দুপুরে আদ্যাপীঠ আশ্রমে পৌঁছালে শুভেন্দু অধিকারীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান আদ্যাপীঠের বর্তমান অধ্যক্ষ ব্রহ্মচারী মুরাল ভাই। আশ্রমের আবাসিক ও শিক্ষার্থীরা প্রসাদী মালা পরিয়ে তাঁকে বরণ করে নেন। এরপর তিনি ফিতে কেটে মন্দিরের সুদৃশ্য নবনির্মিত মূল প্রবেশদ্বার বা তোরণের উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে ভক্ত ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবার কথা মাথায় রেখে আশ্রমের পক্ষ থেকে চালু করা নতুন অ্যাম্বুল্যান্সটির যাত্রারম্ভ করেন তিনি। উদ্বোধনী পর্ব শেষে শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি চলে যান আদ্যাপীঠের গোশালায়। সেখানে তিনি পরম মমতায় গো-সেবা করেন। এরপর মূল মন্দিরে প্রবেশ করে আদ্যা মায়ের বিশেষ পূজা ও আরতিতে অংশ নেন। বিশ্বশান্তি ও জনকল্যাণের প্রার্থনায় তিনি বেশ কিছুক্ষণ মন্দিরে অতিবাহিত করেন। পূজা শেষে তিনি আশ্রম পরিচালিত অনাথ আশ্রম এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। আশ্রমের ভবিষ্যৎ উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা ও সমাজসেবামূলক কাজের খোঁজখবর নেন তিনি। মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত সভায় শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে উঠে আসে আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক দর্শনের মেলবন্ধন। গেরুয়া রঙের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, "গেরুয়া কোনো রাজনৈতিক দলের রঙ নয়; এটি হলো ত্যাগ ও কৃচ্ছসাধনের প্রতীক। প্রতিটি সনাতনী প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্যই হলো আর্তমানবতার সেবা করা।" আরজি কর হাসপাতালের সাম্প্রতিক ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি নৈতিক অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মানুষকে পাপকাজ ও হিংসা থেকে দূরে রাখতে এবং সুস্থ সমাজ গড়তে নিয়মিত গীতাপাঠ ও নৈতিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। সনাতনী সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারের প্রয়োজনীয়তাও তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে। বক্তব্যের একপর্যায়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী উল্লেখ করেন, "প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যেভাবে মা গঙ্গার সঙ্গে বারাণসীর কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরকে সংযুক্ত করেছেন, তা ভারতের আধ্যাত্মিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।" শুভেন্দু অধিকারীর এই সফরকে কেন্দ্র করে আজ গোটা আদ্যাপীঠ মন্দির চত্বরে ছিল সাজ সাজ রব। আশ্রমের শিক্ষার্থী, আবাসিক এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণ এক উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়। আধ্যাত্মিক জাগরণ ও সামাজিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে সফর শেষ করেন তিনি।
ভারত
‘রিল’ আপনার জীবনকে ছোট করে দেবে, জেন জি-কে বিশেষ বার্তা দিলেন মোদি আগস্ট ১১, ২০২৬
গৃহযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীর আতেফ নাজিবকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দামেস্কের ফৌজদারি আদালত এ রায় ঘোষণা করে। কাতারভিত্তিক বার্তা সংস্থা আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, আসাদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে রায়টি অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষের অধীনে প্রথম কোনো রায়। এতে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের দায়ে বাশার আল আসাদকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত। আর আতেফ নাজিবকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা ও নির্যাতনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে দেরা প্রদেশে আসাদ সরকারের দ্বারা সংঘটিত অপরাধগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। আসাদের সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আতেফ নাজিব তার চাচাতো ভাই। তিনি সিরিয়ার সেনাবাহিনীতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে ছিলেন। ২০১১ সালে আসাদের অধীনে দক্ষিণ সিরিয়ার দারা প্রদেশে রাজনৈতিক নিরাপত্তা শাখার প্রধান হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। দক্ষিণ দারা প্রদেশে দমন-পীড়নের নেতৃত্ব দেয়ার জন্য তাকে এ দণ্ড দেয়া হয়েছে। রায়ে আরো বলা হয়েছে, নাজিব ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা এবং তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন। আদালত বলেছেন, তার এসব কর্মকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইসলামপন্থী নেতৃত্বাধীন বাহিনী দামেস্কের দিকে এগিয়ে আসতে থাকলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সিরিয়া থেকে মস্কোতে পালিয়ে যান বাশার আল-আসাদ। তবে এ সময় নাজিব পালাতে পারেননি। ফলে তাকে আটক করে বিচারের মুখোমুখি করা হয়।
মধ্য প্রাচ্য
হরমুজে সংকট নিরসন: ওমানের সঙ্গে চুক্তির ‘কাছাকাছি’ ইরান, তাকিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে আগস্ট ১১, ২০২৬সারাদেশ

বাংলাদেশি কৃষককে বিএসএফ ধরে নেওয়ার পর ভারতীয় দুজনকে ধরে আনল গ্রামবাসী
মেহেরপুর সদর উপজেলার ইছাখালী সীমান্ত এলাকা থেকে আবদুল মান্নান (৭০) নামের এক বাংলাদেশি কৃষককে ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এর প্রতিবাদে সীমান্ত এলাকায় অবস্থানরত দুই ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আটটার দিকে উপজেলার ইছাখালী সীমান্ত পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। আটক আবদুল মান্নান ইছাখালী মসজিদপাড়ার প্রয়াত নূর বক্সের ছেলে। আজ বেলা দুইটার দিকে এ ঘটনায় পতাকা বৈঠক করেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের কর্মকর্তারা। বৈঠক থেকে আটক তিনজনকেই নিজ নিজ দেশের সীমান্ত বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, পতাকা বৈঠকে আবদুল মান্নানকে ফেরত দিয়েছে তারা। এলাকাবাসীর আটক করা দুই ভারতীয়কেও ফেরত দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আবদুল মান্নান দীর্ঘদিন ধরে ইছাখালী সীমান্তের দেড় বিঘা জমিতে কাঁচা মরিচসহ অন্যান্য ফসলের চাষ করে আসছেন। আজ সকালে ওই জমিতে কীটনাশক স্প্রে করতে গেলে বিএসএফ তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনা ইছাখালী গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ভারতীয় দুই কৃষককে আটক করে নিয়ে আসেন। আবদুল মান্নানের নাতি ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ বলেন, ‘আমার দাদাকে বিএসএফ ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তারা আমার দাদাকে ছেড়ে দেয়নি। এ কারণে এলাকার মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে দুজন ভারতীয় কৃষককে তুলে এনেছে। তাদের একজনের নাম সচিন কর্মকার, অপরজন নারায়ণ দেব।’ কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী সীমান্তে আজিবর রহমান (২৩) নামের এক বাংলাদেশি তরুণকে আটক করেছে বিএসএফ। গতকাল সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের কাজিয়ার চরের দোনালার মাথা এলাকায় ভারতে ঢোকার পর তাঁকে আটক করা হয়। আজিবর রহমান কাজিয়ার চর এলাকার নুরুল মিয়ার ছেলে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, গতকাল দিবাগত মধ্যরাতে কয়েকজন আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলারের কাছাকাছি এলাকা দিয়ে ভারতে ঢোকেন। এ সময় তাঁরা বিএসএফ সদস্যদের সামনে পড়ে যান। অন্যরা পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসতে পারলেও আজিবর বিএসএফের হাতে আটক হন। বিজিবির কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক বলেন, বাংলাদেশের এক নাগরিক ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকলে বিএসএফ তাঁকে আটক করে। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।
জাতীয়

রিয়াদে কারখানায় আগুনে ১৬ বাংলাদেশির প্রাণহানি : প্রধানমন্ত্রীর গভীর শোক
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে দেওয়া এক শোকবার্তায় তিনি নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং মরদেহগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেন। সোমবার রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে কারখানায় কর্মরত ১৬ জন বাংলাদেশি কর্মী প্রাণ হারান। শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রিয়াদের একটি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন বাংলাদেশি নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি আমি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। এই কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থেকে সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী এই মর্মান্তিক ঘটনার সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছেন। নিহত প্রবাসী শ্রমিকদের মরদেহ দ্রুততম সময়ে দেশে ফিরিয়ে আনতে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। মরদেহ দেশে আনা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এদিকে, রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, নিহত বাংলাদেশিদের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং নিহতদের নিজ নিজ এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।