
ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর একদল অভিবাসনপ্রত্যাশীর ভাগ্য থমকে গেল উত্তাল ভূমধ্যসাগরে। লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ১১ দিন সাগরে ভাসমান থাকার পর ১১ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আরও ১৮ জন বাংলাদেশি এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৭ জনের বাড়ি সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় বলে স্বজনেরা দাবি করেছেন। লিবিয়ার তাবারুক উপকূল থেকে গত ৩ আগস্ট গ্রিসের উদ্দেশে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা রওয়ানা দেয়। নৌকায় ৪২ জন আরোহীর মধ্যে ৩৮ জনই ছিলেন বাংলাদেশি। মাঝপথে নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে শুরু হয় চরম ভোগান্তি। খাদ্য ও পানীয় ফুরিয়ে যাওয়ায় অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটে তাদের। এই ১১ দিনে ১১ জন বাংলাদেশি মারা যান, যাদের মরদেহ সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। মিশরের মারসা মাতরুহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া গ্রামের আব্দুল করিম ফেসবুক লাইভে এই রোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, ‘চোখের সামনে ১১ জন বাংলাদেশিকে মারা যেতে দেখেছি। আমাদের কাছে কোনো খাবার বা পানি ছিল না। দীর্ঘদিন লবণাক্ত পানিতে থাকার কারণে আমাদের অনেকের শরীরে পচন ধরেছে। আমরা এখন দেশে ফিরে যেতে চাই।’ শান্তিগঞ্জ উপজেলার নিখোঁজ হওয়া কয়েকজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন-পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের চিকার কান্দি গ্রামের মামুন খান, এনাম খান, রিপন মিয়া এবং শত্রু মর্দন গ্রামের রিদয় পাল। ওই উপজেলার অন্তত ৭ জন নিখোঁজ থাকার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিল্লোল চাকমা বলেন, ‘আমরা বিষয়টি শুনেছি এবং নিখোঁজদের পরিচয় ও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি।’ উদ্ধার হওয়া কয়েকজনকে বর্তমানে মিশরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে নিখোঁজ ১৮ জনের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিস্তারিত
ভূমধ্যসাগর ট্রাজেডি : সুনামগঞ্জের ৭ পরিবারে এখন শুধু হাহাকার
আগস্ট ১৬, ২০২৬বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের জন্য আ. লীগ সরকারের ‘দুর্নীতি’ দায়ী
দেশে চলমান তীব্র বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের জন্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ‘ভুল নীতি’ ও ‘দুর্নীতি’কে দায়ী করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতির কারণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার এই বেহাল দশা তৈরি হয়েছে। রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দে নারী জাগরণের অগ্রদূত মহীয়সী বেগম রোকেয়ার স্মৃতি সংসদ ও পাঠাগারের ৪০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। বিদ্যুৎ পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি বয়লার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সংকট প্রকট হয়েছে। এর মধ্যে একটি মেরামতের কাজ শেষ হয়েছে, অন্যটির কাজ চলছে। এটি সম্পন্ন হলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে। সরকার সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার ইতিমধ্যে আত্মনির্ভরশীল জ্বালানি নীতি গ্রহণ করেছে। দেশীয় গ্যাস উত্তোলন এবং সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যত দিন গ্যাস উত্তোলন বৃদ্ধি না পাচ্ছে, তত দিন আমদানি করে হলেও সংকট সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। রংপুর অঞ্চলের উন্নয়ন বৈষম্য নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে জোনায়েদ সাকি বলেন, “বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম স্তম্ভ হলো আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করা। সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে।” বেগম রোকেয়ার পৈতৃক বাড়ি সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, অবহেলার কারণে পায়রাবন্দে রোকেয়ার স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি এখন ধ্বংসপ্রাপ্ত। সরকার এই বাড়িটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর আগে প্রতিমন্ত্রী পায়রাবন্দ পৌঁছে বেগম রোকেয়ার স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মোনাজাত করেন। অনুষ্ঠানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা সাখাওয়াত মেমোরিয়াল বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্রীমতি পাপিয়া, কলকাতার সমন্বয়ক প্রাণতোষ বন্দ্যোপাধ্যায়, বেগম রোকেয়া স্মৃতি সংসদ ও পাঠাগারের সভাপতি রাজু আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম দুলালসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গ্যাস সংকটে থমকে গেছে গাজীপুরের শিল্পকারখানা
গ্যাসের তীব্র সংকটে গাজীপুরের শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক কারখানায় উৎপাদন ইউনিট বন্ধ রাখা হয়েছে, আবার কোথাও শিফট কমিয়ে সীমিত পরিসরে কাজ চলছে। এতে কর্মঘণ্টা কমে যাওয়ার পাশাপাশি ওভারটাইম বন্ধ হয়ে গেছে সাধারণ শ্রমিকদের। কাজ না থাকায় অনেক কারখানায় শ্রমিকদের অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে। এভাবে চলতে থাকলে উৎপাদন কমে গিয়ে বিদেশি ক্রয়াদেশ (অর্ডার) হারানো এবং কর্মী ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা করছেন মালিকেরা। গত শনি ও রোববার (১৫ ও ১৬ আগস্ট) গাজীপুরের কয়েকটি শিল্প এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিশেষ করে ডাইং, ওয়াশিং ও বয়লার-নির্ভর কারখানাগুলো গ্যাসের অভাবে সবচেয়ে বেশি ভুগছে। কোনো কোনো কারখানা চাহিদার অর্ধেকেরও কম গ্যাস পাচ্ছে। গাজীপুরে প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিল্পকারখানা রয়েছে, যার মধ্যে দুই হাজারের বেশি পোশাক কারখানা। এসব কারখানার চাকা সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাসের প্রয়োজন। তবে বর্তমানে অনেক কারখানায় গ্যাসের চাপ শূন্য থেকে ১ পিএসআই (প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে পাউন্ড) পর্যন্ত নেমে এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, ডাইং বিভাগের শ্রমিকেরা গ্যাসের অপেক্ষায় বসে আছেন। সাদিকুল ইসলাম নামের এক শ্রমিক বলেন, ‘গ্যাসের চাপ না থাকায় গত তিন দিন ঠিকমতো কাজ করতে পারিনি। কারখানা থেকে শিফটভিত্তিক ছুটি দেওয়া হয়েছে। কাজ না থাকলে বেতন কমে যাবে, আবার চাকরি হারানোরও ভয় আছে।’ বাবলি খাতুন নামের আরেক শ্রমিক জানান, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে ওভারটাইম বন্ধ হয়ে গেছে। এতে তাঁদের মাসিক আয় অনেক কমে গেছে। ওয়াশ পয়েন্ট লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিন বলেন, গ্যাসের অভাবে উৎপাদন সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। শ্রমিকদের বেতন দেওয়া এবং ক্রয়াদেশ সময়মতো সরবরাহ করা নিয়ে তাঁরা দুশ্চিন্তায় আছেন। সাদমা গ্রুপের পরিচালক সোহেল রানা জানান, স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য কমপক্ষে ৩ পিএসআই চাপ প্রয়োজন হলেও তাঁরা তা পাচ্ছেন না। স্পারো অ্যাপারেলসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফুল রেজাও লোডশেডিং ও গ্যাস সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কথা জানান। তিতাস গ্যাসের গাজীপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (ডিস্ট্রিবিউশন) সাইফুজ্জামান সানি বলেন, ‘কেন্দ্রীয়ভাবে সরবরাহ কম থাকায় আমরা চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস দিতে পারছি না। বিশেষ করে লাইনের শেষ প্রান্তে থাকা কারখানাগুলো বেশি সমস্যায় পড়ছে। পরিস্থিতি উন্নতির জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।’ গাজীপুর শিল্প পুলিশের (জোন-২) পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, গ্যাসের চাপ কম থাকায় ইতিমধ্যে রিপন গার্মেন্টস নামের একটি কারখানা সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রেখে শ্রমিকদের ছুটি দিয়েছে। আরও কিছু কারখানায় উৎপাদন কমে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
আধ্যাত্মিকতা ও সেবার সংমিশ্রণে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উত্তর চব্বিশ পরগনার বেলঘরিয়ার ঐতিহাসিক আদ্যাপীঠ মন্দির পরিদর্শন করলেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি মন্দিরের নবনির্মিত প্রধান তোরণ এবং ভক্তদের জন্য নতুন একটি অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত ভক্ত ও আবাসিকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি আধ্যাত্মিক চেতনার পাশাপাশি সমসাময়িক সামাজিক অবক্ষয় রোধে ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। এদিন দুপুরে আদ্যাপীঠ আশ্রমে পৌঁছালে শুভেন্দু অধিকারীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান আদ্যাপীঠের বর্তমান অধ্যক্ষ ব্রহ্মচারী মুরাল ভাই। আশ্রমের আবাসিক ও শিক্ষার্থীরা প্রসাদী মালা পরিয়ে তাঁকে বরণ করে নেন। এরপর তিনি ফিতে কেটে মন্দিরের সুদৃশ্য নবনির্মিত মূল প্রবেশদ্বার বা তোরণের উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে ভক্ত ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবার কথা মাথায় রেখে আশ্রমের পক্ষ থেকে চালু করা নতুন অ্যাম্বুল্যান্সটির যাত্রারম্ভ করেন তিনি। উদ্বোধনী পর্ব শেষে শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি চলে যান আদ্যাপীঠের গোশালায়। সেখানে তিনি পরম মমতায় গো-সেবা করেন। এরপর মূল মন্দিরে প্রবেশ করে আদ্যা মায়ের বিশেষ পূজা ও আরতিতে অংশ নেন। বিশ্বশান্তি ও জনকল্যাণের প্রার্থনায় তিনি বেশ কিছুক্ষণ মন্দিরে অতিবাহিত করেন। পূজা শেষে তিনি আশ্রম পরিচালিত অনাথ আশ্রম এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। আশ্রমের ভবিষ্যৎ উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা ও সমাজসেবামূলক কাজের খোঁজখবর নেন তিনি। মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত সভায় শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে উঠে আসে আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক দর্শনের মেলবন্ধন। গেরুয়া রঙের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, "গেরুয়া কোনো রাজনৈতিক দলের রঙ নয়; এটি হলো ত্যাগ ও কৃচ্ছসাধনের প্রতীক। প্রতিটি সনাতনী প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্যই হলো আর্তমানবতার সেবা করা।" আরজি কর হাসপাতালের সাম্প্রতিক ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি নৈতিক অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মানুষকে পাপকাজ ও হিংসা থেকে দূরে রাখতে এবং সুস্থ সমাজ গড়তে নিয়মিত গীতাপাঠ ও নৈতিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। সনাতনী সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারের প্রয়োজনীয়তাও তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে। বক্তব্যের একপর্যায়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী উল্লেখ করেন, "প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যেভাবে মা গঙ্গার সঙ্গে বারাণসীর কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরকে সংযুক্ত করেছেন, তা ভারতের আধ্যাত্মিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।" শুভেন্দু অধিকারীর এই সফরকে কেন্দ্র করে আজ গোটা আদ্যাপীঠ মন্দির চত্বরে ছিল সাজ সাজ রব। আশ্রমের শিক্ষার্থী, আবাসিক এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণ এক উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়। আধ্যাত্মিক জাগরণ ও সামাজিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে সফর শেষ করেন তিনি।
গৃহযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীর আতেফ নাজিবকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দামেস্কের ফৌজদারি আদালত এ রায় ঘোষণা করে। কাতারভিত্তিক বার্তা সংস্থা আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, আসাদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে রায়টি অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষের অধীনে প্রথম কোনো রায়। এতে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের দায়ে বাশার আল আসাদকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত। আর আতেফ নাজিবকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা ও নির্যাতনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে দেরা প্রদেশে আসাদ সরকারের দ্বারা সংঘটিত অপরাধগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। আসাদের সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আতেফ নাজিব তার চাচাতো ভাই। তিনি সিরিয়ার সেনাবাহিনীতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে ছিলেন। ২০১১ সালে আসাদের অধীনে দক্ষিণ সিরিয়ার দারা প্রদেশে রাজনৈতিক নিরাপত্তা শাখার প্রধান হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। দক্ষিণ দারা প্রদেশে দমন-পীড়নের নেতৃত্ব দেয়ার জন্য তাকে এ দণ্ড দেয়া হয়েছে। রায়ে আরো বলা হয়েছে, নাজিব ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা এবং তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন। আদালত বলেছেন, তার এসব কর্মকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইসলামপন্থী নেতৃত্বাধীন বাহিনী দামেস্কের দিকে এগিয়ে আসতে থাকলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সিরিয়া থেকে মস্কোতে পালিয়ে যান বাশার আল-আসাদ। তবে এ সময় নাজিব পালাতে পারেননি। ফলে তাকে আটক করে বিচারের মুখোমুখি করা হয়।
নেপালের পাহাড়ে অপু বিশ্বাসের ‘শিকার’, যুক্ত হলেন কলকাতার তিন অভিনেতা
সীমান্তবর্তী এলাকার নানা অনিয়ম ও অপরাধের গল্প নিয়ে নির্মিত হচ্ছে নতুন থ্রিলার চলচ্চিত্র ‘শিকার’। কামরুজ্জামান রোমান পরিচালিত এই সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। তাঁর বিপরীতে এর মাধ্যমেই ঢালিউডে নায়ক হিসেবে অভিষেক হতে যাচ্ছে নতুন মুখ মুরতজা পলাশের। বর্তমানে হিমালয়কন্যা নেপালের পোখারার মনোরম লোকেশনে সিনেমাটির প্রথম ধাপের দৃশ্যধারণের কাজ চলছে। সিনেমাটিতে এবার নতুন করে যুক্ত হয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় তিন অভিনেতা—রজতাভ দত্ত, খরাজ মুখোপাধ্যায় ও শ্যাম ভট্টাচার্য। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রেজা ফিল্মসের ব্যানারে নির্মিতব্য এই চলচ্চিত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের অভিনয়শিল্পীদের পাশাপাশি নেপালের স্থানীয় কয়েকজন শিল্পীও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন। কলকাতার এই তিন অভিনেতারই পূর্বে বাংলাদেশের সিনেমায় কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে শ্যাম ভট্টাচার্য সম্প্রতি ‘বরবাদ’ ও ‘রাক্ষস’ সিনেমায় অভিনয় করে আলোচনায় এলেও দীর্ঘ বিরতির পর ঢালিউডের বড় পর্দায় ফিরছেন প্রবীণ দুই অভিনেতা রজতাভ দত্ত ও খরাজ মুখোপাধ্যায়। সিনেমায় নিজের চরিত্র প্রসঙ্গে রজতাভ দত্ত বলেন, ‘এই সিনেমায় আমার চরিত্রের নাম মনীষ মালহোত্রা। তাঁর একটি পলিটিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড রয়েছে, যে কি না সীমান্ত এলাকার নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। চরিত্রটি বেশ বৈচিত্র্যময়।’ অন্যদিকে শ্যাম ভট্টাচার্য জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত অপরাধকে কেন্দ্র করেই সিনেমার গল্পটি এগিয়ে যাবে। একটি সাধারণ গল্প কীভাবে নির্মাণের শক্তিতে অসাধারণ ও উপভোগ্য হয়ে ওঠে, দর্শকেরা এই চলচ্চিত্রে তা দেখতে পাবেন। চলতি বছরের শুরুতে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের ওয়েব ফিল্ম হিসেবে ‘শিকার’ নির্মাণের প্রথম আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীকালে এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও গল্পের পরিধি বিবেচনা করে এটিকে বড় পর্দার পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন সংশ্লিষ্টরা। সিনেমাটি নিয়ে দারুণ আশাবাদী নায়িকা অপু বিশ্বাস। তিনি জানান, গল্পে নিজের অভিনয়ের চমৎকার সুযোগ পেয়েই তিনি চিত্রনাট্যটি দেখে অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরিচালক কামরুজ্জামান রোমান জানান, নেপালে টানা ২৫ দিন দৃশ্যধারণের পর পুরো টিম ঢাকায় ফিরবে। এরপর বাংলাদেশে আরও এক সপ্তাহ শুটিংয়ের মধ্য দিয়ে চিত্রগ্রহণের কাজ শেষ হবে। এরপর দ্রুত পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ সম্পন্ন করে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির তারিখ ঘোষণা করা হবে।
নৌকার ঢেউয়ে পেযারার রাজ্য
নৌকার ঢেউয়ে পেযারার রাজ্য
নৌকার ঢেউয়ে পেযারার রাজ্য
নৌকার ঢেউয়ে পেযারার রাজ্য
নৌকার ঢেউয়ে পেযারার রাজ্য
নৌকার ঢেউয়ে পেযারার রাজ্য
নৌকার ঢেউয়ে পেযারার রাজ্য
নৌকার ঢেউয়ে পেযারার রাজ্য
নৌকার ঢেউয়ে পেযারার রাজ্য