রবিবার , ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রধান সংবাদ সানলাইফে জমেছে বকেয়া, গ্রাহকের টাকা কোথায় গেল?
সানলাইফে জমেছে বকেয়া, গ্রাহকের টাকা কোথায় গেল?

গ্রাহকের ৩০ কোটি টাকার বিমা দাবি অপরিশোধিত, যার ৯২ শতাংশই মেয়াদপূর্তির। এক বছরে নবায়ন প্রিমিয়াম আয় কমেছে প্রায় ৬১ শতাংশ। ব্যাংক ওভারড্রাফট ১০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, লাইফ ফান্ড নেমেছে ৫০ কোটির …

অপ্রতীমের হত্যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বহিঃপ্রকাশ : গোলাম পরওয়ার
অপ্রতীমের হত্যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বহিঃপ্রকাশ : গোলাম পরওয়ার ১৬ ঘন্টা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মৃত্যুকে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।

একই সঙ্গে অপ্রতীমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ দ্রুত উদঘাটন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার এক বিবৃতিতে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী একমাত্র সন্তান অপ্রতীমের মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি। কৈশোরের দুরন্ত সময়ে যে শিশুটি বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার আনন্দের মুহূর্ত কাটাতে ঘর থেকে বের হয়েছিল, তাকে আর জীবিত ফিরতে দেওয়া হলো না—এমন পৈশাচিক ঘটনায় কোনো বিবেকবান মানুষ চুপ থাকতে পারে না।’

শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘অপ্রতীম ছিল তার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান, তাদের স্বপ্ন ও ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দু। ১৩ বছর বয়সে সেই সন্তানকে হারানোর বেদনা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। একজন মায়ের কোলে তার সন্তানের লাশ ফিরে আসার চেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য আর কী হতে পারে?’

দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘অপ্রতীমের এই মর্মান্তিক পরিণতি শুধু একটি পরিবারের কান্না নয়, বরং এটি পুরো সমাজের জন্য এক গভীর সতর্কবার্তা। একজন শিশু যদি ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে ফিরতে না পারে, তবে দেশের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা কোথায়? দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে সাধারণ মানুষ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’

ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে তিনি বলেন, ‘কারা এই নির্মম ঘটনায় জড়িত, কী কারণে এটি ঘটল এবং এর পেছনে কোনো অপরাধীচক্র রয়েছে কি না—নিরপেক্ষ ও পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে তা দ্রুত উদঘাটন করতে হবে। কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত অপরাধীরাও যেন আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।’

সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, "অপ্রতীমের মতো আর কোনো মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়। ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও প্রচলিত আইনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শিশু-কিশোরসহ দেশের সব নাগরিকের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।"

ভিডিও গ্যালারি

সব ভিডিও

সারাদেশ

আন্তর্জাতিক

Image আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশসহ ৮ দেশে ভয়াবহ বিপর্যয়ের আগাম সতর্কবার্তা

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আটটি দেশে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক জলবায়ু গবেষকরা। এ তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়া অন্য দেশগুলো হলো—ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, চীন, আফগানিস্তান ও মিয়ানমার।

গত ২৬ আগস্ট হিমবাহ ধসে নেপাল ও চীনের তিব্বতে সৃষ্ট দুর্যোগের পর জলবায়ু গবেষকদের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক এটি চিহ্নিত করে এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক পর্বত উন্নয়ন কেন্দ্র (আইসিআইএমওডি), ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন (ডব্লিউডব্লিউএ) এবং যুক্তরাজ্যের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘সিস্টেমিক’-এর সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এ খবর প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিমে আফগানিস্তান থেকে পূর্বে মিয়ানমার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত অঞ্চলে হিমবাহ গলে পারমাফ্রস্ট বা বহু বছর ধরে জমাট থাকা পাথর ও মাটি নরম হয়ে গেছে। এর ফলে আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস এবং হিমবাহ হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

সিস্টেমিকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলের প্রায় ৪০ হাজার হিমবাহ থেকে এশিয়ার ১০টি প্রধান নদী ব্যবস্থার উৎপত্তি হয়েছে। এর মধ্যে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদী ব্যবস্থা বাংলাদেশে প্রবেশ করে প্রবহমান। হিমালয়ে সামান্য অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে ভাটি অঞ্চলের প্রায় ২০০ কোটি মানুষের সুপেয় পানি, জীবিকা ও অর্থনীতি মারাত্মক চাপের মুখে পড়বে। গবেষণার প্রধান লেখক অরুশি চোপড়া সতর্ক করে বলেন, `প্রশ্ন এখন এটা নয় যে এমন ঘটনা ঘটবে কি না, বরং কখন ঘটবে সেটাই মূল বিষয়।'

নেদারল্যান্ডসের উট্রেখট বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্বতবিদ ওয়াল্টার ইমারজিল মনে করেন, হিমালয়ের প্রতিটি পাহাড়ি ঢাল পর্যবেক্ষণ অসম্ভব হলেও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র, বড় শহর ও ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলকে অগ্রাধিকার দিয়ে নজরদারি বাড়াতে হবে।

গবেষকদের মতে, প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সীমান্ত পেরিয়ে দেশগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময়, আধুনিক আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা চালু এবং দ্রুত বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার স্থায়ী প্রস্তুতি নিশ্চিত করা জরুরি।

Image ভারত
ট্রাম্পের আমন্ত্রণে ওয়াশিংটনে যাচ্ছেন শি জিনপিং

বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে আবারও মুখোমুখি হতে চলেছেন দুই পরাশক্তির শীর্ষ নেতা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এক দশকের বেশি সময় পর চীনা কোনো প্রেসিডেন্টের এই সফর ঘিরে ওয়াশিংটনে এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে ব্যাপক প্রস্তুতি। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাবেন শি, আর ২৪ তারিখ হোয়াইট হাউসে হবে বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্প-শি বৈঠক।

যুক্তরাষ্ট্রের জয়েস্ট বেস অ্যান্ড্রুজে শি জিনপিংয়ের উড়োজাহাজ যখন মাটি ছোঁবে, তখন তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে স্বাগত জানাতে সেখানে উপস্থিত থাকবেন খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস সূত্রে এমনটাই জানা গেছে। এরপর থাকবে জাঁকজমকপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনা ও নৈশভোজ। দুই শীর্ষ নেতার একান্ত বৈঠকের পাশাপাশি দুই দেশের পদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যেও চলবে দফায় দফায় বৈঠক।

কয়েক বছর ধরেই শুল্ক, প্রযুক্তি, সরবরাহব্যবস্থা ও বাজারে প্রবেশাধিকার নিয়ে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে একধরনের দৃশ্যমান টানাপোড়েন চলছে। আগামী নভেম্বরেই শেষ হচ্ছে বর্তমান শুল্ক-সমঝোতার মেয়াদ। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প-শি বৈঠকে বাণিজ্য সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখা এবং কিছু পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক কমানোর বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। বড় কোনো বিরোধ পুরোপুরি না মিটলেও, ভবিষ্যৎ সমঝোতার পথ খুঁজতে চাইবেন দুই নেতাই।

এবারের বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে যাচ্ছে ‘রেয়ার আর্থ’ বা বিরল খনিজ। বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি, মাইক্রোচিপ থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তির অপরিহার্য উপাদান এসব খনিজ। এর সরবরাহ ও রপ্তানিতে চীনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন চাইছে সরবরাহব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে, অন্যদিকে বেইজিংয়ের লক্ষ্য এই কৌশলগত সম্পদের ওপর নিজেদের একাধিপত্য ধরে রাখা।

পাশাপাশি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়েও হবে আরেক দফা স্নায়ুযুদ্ধ। শক্তিশালী এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ ও একটি বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামো বা সীমারেখা গড়ার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হতে পারে। এই শীর্ষ সফরের আগে নিউইয়র্কে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ও চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হে লিফেংয়ের একটি প্রাক-বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে বাণিজ্য, এআই ও বিরল খনিজ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

হোয়াইট হাউসের রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ পরিণত হতে পারে প্রযুক্তি বিশ্বের রথী-মহারথীদের মিলনমেলায়। গুঞ্জন রয়েছে, জেফ বেজোস, ইলন মাস্ক, সুন্দর পিচাই, স্যাম অল্টম্যান ও জেনসেন হুয়াংয়ের মতো প্রযুক্তি ও ব্যবসা খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে এই আয়োজনে।

এর বিপরীতে শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে চীনের বড় বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের একটি বিশাল প্রতিনিধিদল। বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি, ইলেকট্রনিকস ও ব্যাংকিং খাতের শীর্ষ কর্তারা থাকছেন এই দলে। সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, এই দলে এমন কিছু চীনা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যক্তিরাও রয়েছেন, যারা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বা জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধের আওতায় রয়েছেন! ফলে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের এই উপস্থিতিও আলাদা অর্থনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে।

বাণিজ্য আর প্রযুক্তির বাইরে ভূরাজনৈতিক উত্তাপও ছড়াবে এই বৈঠক। বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের অবস্থান ঠিক দুই মেরুতে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিরোধে এবার কোনো বরফ গলে কি না, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে আন্তর্জাতিক মহল। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি, জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির হালচালও থাকবে আলোচনার টেবিলে।

জাঁকজমকপূর্ণ রাষ্ট্রীয় আয়োজনের আড়ালে ২৪ সেপ্টেম্বরের ট্রাম্প-শি বৈঠকটি মূলত পরিণত হবে কঠিন এক দর-কষাকষির মঞ্চে। স্বার্থের সংঘাতে থাকা দুই মেরুর দুই নেতার এই বৈঠক থেকে শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতির জন্য চমকপ্রদ কোনো সমঝোতা বেরিয়ে আসে কি না, পুরো বিশ্বের নজর এখন সেদিকেই।

এই বিভাগে এখনো কোনো খবর প্রকাশিত হয়নি

এই বিভাগে এখনো কোনো খবর প্রকাশিত হয়নি

Image মধ্য প্রাচ্য
সৌদির সামরিক ঘাঁটিতে হুথিদের মিসাইল ও ড্রোন হামলা

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। স্থানীয় সময় রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় হুথির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পোস্টে তিনি জানান, সৌদির ওই ঘাঁটিতে থাকা একটি অস্ত্রের গুদাম ও কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। ওই সামরিক স্থাপনা ব্যবহার করেই ইয়েমেনের ভূখণ্ড ও জনগণের ওপর বিভিন্ন সময় আগ্রাসন চালানো হচ্ছিল বলে দাবি করেন তিনি। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট সময় বা ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ জানাননি এই মুখপাত্র।

গত সপ্তাহে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। যুদ্ধে শুরু থেকেই ইয়েমেন সরকারকে সব ধরনের সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়ে আসছে সৌদি আরব।

হুথিদের বিষয়ে মার্কিন নীতি

এদিকে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে হুথিদের নতুন অগ্রযাত্রায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে সংক্ষিপ্ত সফরকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “হুথিরা আমাদের সাথে যোগাযোগ করে জানিয়েছে যে, তারা ওয়াশিংটনের সাথে কোনো সংঘাত চায় না। তারা মার্কিন বাহিনীকে এই অভিযানে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।”

তেল পাইপলাইনে আঘাত

সৌদি ঘাঁটিতে এই হামলার পাশাপাশি দেশটির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ তেল পাইপলাইনেও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই পাইপলাইনটি হরমুজ প্রণালীকে এড়িয়ে লোহিত সাগরের মাধ্যমে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল রফতানির একমাত্র বিকল্প রুট ছিল। হামলার ফলে লোহিত সাগরে তেল পরিবহন সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

সৌদির কৌশলগত এই জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, এর পেছনে ইরানের সরাসরি বা পরোক্ষ মদদ থাকতে পারে।

Image ইউএসএ
ইরান যুদ্ধের দহন মার্কিন মুলুকে: প্রতি দুই মিনিটে গচ্ছা যাচ্ছে ১০ লাখ ডলার

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যখন ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোন লড়াইয়ের গর্জন, আর তখন তার তপ্ত আঁচ গিয়ে লাগছে আটলান্টিকের ওপারে মার্কিন মুলুকের সাধারণ মানুষের পকেটে। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত এখন আর কেবল ভূরাজনৈতিক মানচিত্রের লড়াই নেই; তা রূপ নিয়েছে মার্কিন নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনযুদ্ধের আশঙ্কায়। যুদ্ধের জেরে জ্বালানির বাড়তি দাম মেটাতে গিয়ে ইতিমধ্যে মার্কিন ভোক্তাদের পকেট থেকে অতিরিক্ত ১০০ বিলিয়ন (১০ হাজার কোটি) ডলারের বেশি বেরিয়ে গেছে।

ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াটসন ইনস্টিটিউটের ‘ক্লাইমেট সলিউশনস ল্যাব’-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে পেট্রল ও ডিজেলের পেছনে মার্কিন নাগরিকদের এই বিশাল অঙ্কের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে।

প্রতি দুই মিনিটে গচ্ছা যাচ্ছে ১০ লাখ ডলার
গবেষণার হিসাবটি চমকে দেওয়ার মতো। বর্তমানে যে গতিতে জ্বালানির দাম বাড়ছে, তাতে প্রতি দুই মিনিটে মার্কিন ভোক্তাদের অতিরিক্ত ১০ লাখ ডলার গুনতে হচ্ছে। যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত একটি গড়পড়তা মার্কিন পরিবারকে কেবল জ্বালানি খাতের বাড়তি ব্যয় মেটাতে ৭৬০ ডলারের বেশি খরচ করতে হয়েছে।

ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা বলছেন, ১০০.৪ বিলিয়ন ডলারের এই হিসাবটি একটি তুলনামূলক চিত্র। যুদ্ধ না হলে জ্বালানির দাম কেমন থাকত এবং যুদ্ধের কারণে বর্তমানে দাম কত এই দুইয়ের ব্যবধান থেকেই অতিরিক্ত ব্যয়ের এই খতিয়ান তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু পেট্রলেই বাড়তি খরচ হয়েছে ৫৫.০১ বিলিয়ন ডলার।

গ্যাস স্টেশনে অস্বস্তি
যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ব্যক্তিগত গাড়ি। কিন্তু গ্যাস স্টেশনগুলোতে এখন তেলের দাম দেখে কপালে ভাঁজ পড়ছে সাধারণ মানুষের। সাম্প্রতিক শ্রমিক দিবসের ছুটিতে দেখা গেছে, দেশজুড়ে নিয়মিত গ্যাসোলিনের গড় দাম প্রতি গ্যালনে ৪.১৪ ডলারে ঠেকেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় এক ডলার বেশি। অন্যদিকে, ডিজেলের দাম বেড়ে হয়েছে ৫.৮৫ ডলার। শতাংশের হিসেবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গ্যাসোলিনের দাম ৩৯ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মূল্যবৃদ্ধির পুরো দায় কেবল যুদ্ধের নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ও চাহিদা, মজুত পরিস্থিতি এবং পরিবহন ঝুঁকির মতো বিষয়গুলোও এখানে অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে।

পণ্য ও সেবায় বাড়তি খরচের শঙ্কা
জ্বালানির এই দাম বৃদ্ধি কেবল ব্যক্তিগত গাড়ির চাকাতেই সীমাবদ্ধ নেই। ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাক ও লরির মাধ্যমে পণ্য পরিবহন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে কৃষি ও নির্মাণ খাতে। পণ্যবাহী যানের খরচ বাড়লে শেষ পর্যন্ত তার বোঝা সাধারণ ক্রেতার ওপরই পড়ে। ফলে নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

উদ্বেগের কেন্দ্রে হরমুজ প্রণালি
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মূল কেন্দ্রবিন্দু এখন হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের বড় একটি অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই প্রণালি ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আতঙ্ক বিরাজ করছে বাজারে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৭ সেপ্টেম্বর ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৭ ডলারে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই তেলের দামও ব্যারেলপ্রতি ৯৩ ডলার ছুঁইছুঁই। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাত যদি আরও ছড়িয়ে পড়ে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়, তবে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার পর্যন্ত উঠে যেতে পারে।

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনিশ্চয়তার কালো মেঘ আরও ঘনীভূত হচ্ছে। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, আধুনিক বিশ্বের যুদ্ধগুলো কেবল নির্দিষ্ট কোনো সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর আর্থিক ধাক্কা সমুদ্র পেরিয়ে পৌঁছে যায় সাধারণ মানুষের ডাইনিং টেবিল পর্যন্ত।

(তথ্যসূত্র: ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়, অ্যাক্সিওস ও রয়টার্স)

Image ইউরোপ
যুক্তরাজ্য ভাঙার নজিরবিহীন উদ্যোগ, কার্ডিফে তিন দেশের ফার্স্ট মিনিস্টারের ঐতিহাসিক বৈঠক

যুক্তরাজ্য থেকে পৃথক হওয়ার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক নেতৃত্ব। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফের সেন্ট ডেভিডস হোটেলে এক নজিরবিহীন বৈঠকে বসছেন তিন দেশের ফার্স্ট মিনিস্টার।

যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে তিন নেতা একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে সই করবেন। এতে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এবং স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের আনুষ্ঠানিক দাবি জানানো হবে। কার্ডিফ বে–এর তীরে অবস্থিত হোটেলটিতে তিন ফার্স্ট মিনিস্টারের সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের প্রধান বিরোধী দল সিন ফেইনের সভাপতি মেরি লু ম্যাকডোনাল্ডও উপস্থিত থাকবেন।

রাজনৈতিক চিত্রে বড় পরিবর্তন ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড—তিনটি বিকেন্দ্রীভূত (Devolved) সরকারের নেতৃত্বেই রয়েছে স্বাধীনতাপন্থি দলগুলো।

স্কটল্যান্ডে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (এসএনপি) নেতা জন সুইনি ফার্স্ট মিনিস্টারের দায়িত্বে রয়েছেন। ওয়েলসে মে মাসের নির্বাচনে লেবার পার্টির পরাজয়ের পর সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে আসে প্লেইড কামরু; দলটির নেতা রুন আপ আইওয়ার্থ বর্তমানে ফার্স্ট মিনিস্টার। অন্যদিকে, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে সিন ফেইনের মিশেল ও’নিল ফার্স্ট মিনিস্টার হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

‘বর্তমান ব্যবস্থা টেকসই নয়’ স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি বলেন, তিন দেশেই স্বাধীনতাপন্থি নেতৃত্ব আসা প্রমাণ করে যে যুক্তরাজ্যের বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো আর টেকসই নয়। ওয়েস্টমিনস্টারকে ‘যুক্তরাজ্য-পরবর্তী’ ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সমালোচনা করে সুইনি বলেন, “ইতিহাসে হয়তো তিনি যুক্তরাজ্যের শেষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবেন।” কার্ডিফের এই বৈঠককে স্বাধীনতার অভিমুখে এক ‘নতুন সূচনা’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

গণভোট ইস্যুতে লন্ডনের অবস্থান তিন নেতার বৈঠকের মুখে গণভোট নিয়ে যুক্তরাজ্যে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম সম্প্রতি জানান, স্কটল্যান্ডে যদি স্বাধীনতার পক্ষে ‘স্পষ্ট ঐকমত্য’ তৈরি হয়, তবে গণভোট বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে জন সুইনিকে লেখা সাম্প্রতিক এক চিঠিতে তিনি স্পষ্ট করেন, নতুন কোনো সাধারণ নির্বাচনের আগে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার গণভোটের সুযোগ নেই। এতে মূল অর্থনৈতিক সংস্কার থেকে সরকারের মনোযোগ সরে যাবে বলে মত তাঁর।

আয়ারল্যান্ড একত্রীকরণ ও ইইউতে ফেরা বৈঠকে তিন দেশের মধ্যে অর্থনীতি, জ্বালানি, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে।

‘গুড ফ্রাইডে চুক্তি’ অনুযায়ী নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে আইরিশ পুনরেকত্রীকরণ গণভোটের সুযোগ রয়েছে। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের অংশ হওয়ার মাধ্যমে এবং স্কটল্যান্ড ও ওয়েলস স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পুনরায় ইইউ-তে যোগ দিতে আগ্রহী।

ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিকভাবেও বিষয়টি নজরে এসেছে। সম্প্রতি ডাবলিন সফরকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেন, তিনি একটি ‘ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড’ দেখতে আগ্রহী।

ক্ষমতা বৃদ্ধির দাবি ওয়েলসের বৈঠকে প্লেইড কামরু ওয়েলসের জন্য বাড়তি অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার দাবি তুলবে। বিশেষ করে রাজস্ব, কর সংগ্রহ, পুলিশ ও রেল খাতের নিয়ন্ত্রণ ওয়েলস সরকারের হাতে হস্তান্তরের জোর দাবি জানানো হচ্ছে।

এই বিভাগে এখনো কোনো খবর প্রকাশিত হয়নি

বিনোদন

খেলাধুলা

মতামত

ফটো গ্যালারী

সব ছবি