বুধবার , ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রধান সংবাদ বেক্সিমকোর চার প্রতিষ্ঠানের পর্ষদ ছাড়ছেন সালমান এফ রহমান
বেক্সিমকোর চার প্রতিষ্ঠানের পর্ষদ ছাড়ছেন সালমান এফ রহমান

বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতি ও ব্যবসায়িক জটিলতার বিষয় উল্লেখ করে গত ৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদে…

জিলাপিতে ‘হাইড্রোজ’ কতটা ক্ষতিকর, যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
জিলাপিতে ‘হাইড্রোজ’ কতটা ক্ষতিকর, যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা ৪ ঘন্টা

 

গরম তেলে ভাজা এবং মচমচে জিলাপি চিনির রসে ডুবাতেই যে মনকাড়া সুবাস ছড়ায়, তা মিষ্টিপ্রেমীদের জিভে জল আনতে বাধ্য। তবে জনপ্রিয় এই মিষ্টান্নটিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই একটি ভীতি প্রচলিত—জিলাপি তৈরিতে নাকি ক্ষতিকর রাসায়নিক ‘হাইড্রোজ’ ব্যবহার করা হয়, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। প্রশ্ন উঠেছে, এই ধারণার সত্যতা কতটুকু এবং ‘হাইড্রোজ’ বলতে আসলে কী বোঝায়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘হাইড্রোজ’ কোনো সুনির্দিষ্ট বিষাক্ত রাসায়নিকের নাম নয়। খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের পরিভাষায় এটি মূলত ‘হাইড্রোজেনেটেড উদ্ভিজ্জ ফ্যাট’, ‘বনস্পতি’ বা ‘শর্টেনিং’ বোঝাতে ব্যবহৃত একটি বাণিজ্যিক শব্দ। হাইড্রোজেনেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তরল তেলের গঠন পরিবর্তন করে সেটিকে জমাট বাঁধানো ফ্যাটে রূপান্তর করা হয়। আংশিক হাইড্রোজেনেশনের ফলে এতে তৈরি হতে পারে ক্ষতিকর শিল্পজাত ‘ট্রান্স ফ্যাট’। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, আংশিক হাইড্রোজেনেটেড তেলই প্রক্রিয়াজাত ট্রান্স ফ্যাটের প্রধান উৎস।

তবে সব দোকানে বা সব জিলাপিতেই যে বনস্পতি বা শর্টেনিং ব্যবহার করা হয়, তা নয়। অনেক স্থানে সাধারণ ভোজ্যতেল দিয়েও জিলাপি ভাজা হয়। জিলাপির রং, গন্ধ বা স্বাদ দেখে বাইরে থেকে কোন ফ্যাট ব্যবহার করা হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। তাই ‘সব জিলাপিই হাইড্রোজযুক্ত’—এমন ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

মূল উদ্বেগের বিষয় ‘হাইড্রোজ’ শব্দটি নয়, বরং খাদ্যে উপস্থিত ‘ট্রান্স ফ্যাট’। প্রক্রিয়াজাত ট্রান্স ফ্যাটের কোনো স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নেই; উল্টো এটি রক্তে ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের (এলডিএল) মাত্রা বাড়িয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনামতে, প্রতিদিনের মোট ক্যালরির ১ শতাংশের কম (২ হাজার ক্যালরির খাদ্যতালিকায় দৈনিক সর্বোচ্চ ২.২ গ্রাম) ট্রান্স ফ্যাট গ্রহণ করা উচিত।

একটি জিলাপি খেলেই যে শরীরে মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যাবে, বিষয়টি তা নয়। আসল সমস্যা লুকিয়ে আছে অতিরিক্ত ও নিয়মিত জিলাপি খাওয়ার অভ্যাসে। তেলে ভাজা এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত হওয়ায় জিলাপিতে ক্যালরির পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। এটি নিয়মিত খেলে দ্রুত ওজন বৃদ্ধি ও রক্তে শর্করা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো—জিলাপি একেবারে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে এটিকে দৈনন্দিন খাবারের অংশ না বানিয়ে মাঝেমধ্যে অল্প পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে। পরিচ্ছন্ন ও ভালো মানের দোকান থেকে কেনা এবং মিষ্টি ও অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবারের বদলে শাকসবজি, ফল, বাদাম ও অসম্পৃক্ত স্বাস্থ্যকর ফ্যাটযুক্ত খাবারকে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রাধান্য দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

ভিডিও গ্যালারি

সব ভিডিও

সারাদেশ

আন্তর্জাতিক

Image আন্তর্জাতিক
বেক্সিমকোর চার প্রতিষ্ঠানের পর্ষদ ছাড়ছেন সালমান এফ রহমান

বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতি ও ব্যবসায়িক জটিলতার বিষয় উল্লেখ করে গত ৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) পাঠানো এক চিঠিতে বিষয়টি জানিয়েছে বেক্সিমকো ফার্মা।

কারাগারে থাকা সালমান এফ রহমান একই কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি, শাইনপুকুর সিরামিকস ও বেক্সিমকো সিকিউরিটিজ লিমিটেডের পর্ষদ থেকেও পদত্যাগের পরিকল্পনা করছেন বলে বিএসইসিকে জানানো হয়েছে।

কোম্পানিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সালমান এফ রহমানের এই পদত্যাগের ফলে শেয়ারহোল্ডার ও কর্মীদের স্বার্থে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন ও 'বাধা-বিঘ্ন ছাড়া' স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় সুবিধা হবে।

সালমান এফ রহমানের পদত্যাগের পর পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের একটি প্রস্তাব দিয়েছে বেক্সিমকো ফার্মা। প্রস্তাবিত পুনর্গঠনে বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের মনোনীত চারজন পরিচালক, আইএফআইসি ব্যাংক থেকে একজন, স্পন্সরদের পক্ষে তিনজন, কর*--রেট গভর্ন্যান্স কোড অনুযায়ী দুজন স্বতন্ত্র পরিচালক এবং একজন নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এ সংক্রান্ত অনুমোদন ও যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হতে ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বিএসইসির মুখপাত্র মো. আবুল কালাম জানান, তারা চিঠিটি পেয়েছেন। নিয়ম ও কোম্পানি আইন অনুযায়ী বেক্সিমকো তাদের পর্ষদ পুনর্গঠন করতে পারে। বিএসইসি কেবল এটি নিশ্চিত করবে যে কোম্পানিটি অন্তত এক-পঞ্চমাংশ স্বতন্ত্র পরিচালক থাকার বাধ্যবাধকতাসহ অন্যান্য নিয়ম সঠিকভাবে মানছে কি না।

উল্লেখ্য, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। সম্প্রতি বিভ্রান্তিকর বন্ড ইস্যুতে জড়িত থাকার অভিযোগে বিএসইসি তাঁকে শেয়ারবাজার থেকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করেছে।

Image ভারত
শতবর্ষীদের নতুন রেকর্ড জাপানে, ৮৮ শতাংশই নারী

জাপানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো এক লাখ ছাড়িয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মন্ত্রণালয়ের দেওয়া হিসাবে, বর্তমানে জাপানে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭। বিশ্বজুড়ে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর হিসেবে জাপান সবার ওপরে। দেশটির এসব শতবর্ষী মানুষের প্রায় ৮৮ শতাংশই নারী।

বর্তমানে জাপানের সবচেয়ে প্রবীণ নারী কিয়োটো শহরের বাসিন্দা ১১৪ বছর বয়সী কিশিমোতো ফুয়ো। অন্যদিকে দেশটির সবচেয়ে প্রবীণ পুরুষ কুমামোতো এলাকার ১১২ বছর বয়সী কাতো হিকারু।

এ বিষয়ে জাপানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেনইচিরো উএনো বলেন, এত বিপুলসংখ্যক মানুষের দীর্ঘ, সুস্থ ও সক্রিয় জীবনযাপন অত্যন্ত আনন্দের। চিকিৎসাবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ফলেই মানুষের গড় আয়ু এভাবে বাড়ছে।

তবে এ অর্জনের পাশাপাশি দেশটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি সতর্ক করে জানান, প্রবীণদের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকায় দীর্ঘমেয়াদে দেশটিতে একটি টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

উল্লেখ্য, জাপান বেশ কয়েক বছর ধরেই দ্রুত প্রবীণ জনগোষ্ঠীর দেশে পরিণত হচ্ছে। দেশটিতে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে শিশুদের ডায়াপারের চেয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের ডায়াপার বেশি বিক্রি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানিদের এই দীর্ঘায়ুর রহস্য মূলত তাদের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও সক্রিয় জীবনযাপন। স্যাচুরেটেড ফ্যাট এড়িয়ে মাছ, শাকসবজি ও ভাতনির্ভর খাবার গ্রহণ এবং নিয়মিত হাঁটাচলা, সাইকেল চালানো বা হালকা ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীর সচল রাখাই তাদের এই দীর্ঘ জীবনের মূল চাবিকাঠি।

এই বিভাগে এখনো কোনো খবর প্রকাশিত হয়নি

এই বিভাগে এখনো কোনো খবর প্রকাশিত হয়নি

Image মধ্য প্রাচ্য
সৌদির সামরিক ঘাঁটিতে হুথিদের মিসাইল ও ড্রোন হামলা

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। স্থানীয় সময় রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় হুথির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পোস্টে তিনি জানান, সৌদির ওই ঘাঁটিতে থাকা একটি অস্ত্রের গুদাম ও কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। ওই সামরিক স্থাপনা ব্যবহার করেই ইয়েমেনের ভূখণ্ড ও জনগণের ওপর বিভিন্ন সময় আগ্রাসন চালানো হচ্ছিল বলে দাবি করেন তিনি। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট সময় বা ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ জানাননি এই মুখপাত্র।

গত সপ্তাহে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। যুদ্ধে শুরু থেকেই ইয়েমেন সরকারকে সব ধরনের সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়ে আসছে সৌদি আরব।

হুথিদের বিষয়ে মার্কিন নীতি

এদিকে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে হুথিদের নতুন অগ্রযাত্রায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে সংক্ষিপ্ত সফরকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “হুথিরা আমাদের সাথে যোগাযোগ করে জানিয়েছে যে, তারা ওয়াশিংটনের সাথে কোনো সংঘাত চায় না। তারা মার্কিন বাহিনীকে এই অভিযানে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।”

তেল পাইপলাইনে আঘাত

সৌদি ঘাঁটিতে এই হামলার পাশাপাশি দেশটির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ তেল পাইপলাইনেও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই পাইপলাইনটি হরমুজ প্রণালীকে এড়িয়ে লোহিত সাগরের মাধ্যমে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল রফতানির একমাত্র বিকল্প রুট ছিল। হামলার ফলে লোহিত সাগরে তেল পরিবহন সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

সৌদির কৌশলগত এই জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, এর পেছনে ইরানের সরাসরি বা পরোক্ষ মদদ থাকতে পারে।

Image ইউএসএ
ইরান যুদ্ধের দহন মার্কিন মুলুকে: প্রতি দুই মিনিটে গচ্ছা যাচ্ছে ১০ লাখ ডলার

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যখন ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোন লড়াইয়ের গর্জন, আর তখন তার তপ্ত আঁচ গিয়ে লাগছে আটলান্টিকের ওপারে মার্কিন মুলুকের সাধারণ মানুষের পকেটে। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত এখন আর কেবল ভূরাজনৈতিক মানচিত্রের লড়াই নেই; তা রূপ নিয়েছে মার্কিন নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনযুদ্ধের আশঙ্কায়। যুদ্ধের জেরে জ্বালানির বাড়তি দাম মেটাতে গিয়ে ইতিমধ্যে মার্কিন ভোক্তাদের পকেট থেকে অতিরিক্ত ১০০ বিলিয়ন (১০ হাজার কোটি) ডলারের বেশি বেরিয়ে গেছে।

ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াটসন ইনস্টিটিউটের ‘ক্লাইমেট সলিউশনস ল্যাব’-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে পেট্রল ও ডিজেলের পেছনে মার্কিন নাগরিকদের এই বিশাল অঙ্কের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে।

প্রতি দুই মিনিটে গচ্ছা যাচ্ছে ১০ লাখ ডলার
গবেষণার হিসাবটি চমকে দেওয়ার মতো। বর্তমানে যে গতিতে জ্বালানির দাম বাড়ছে, তাতে প্রতি দুই মিনিটে মার্কিন ভোক্তাদের অতিরিক্ত ১০ লাখ ডলার গুনতে হচ্ছে। যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত একটি গড়পড়তা মার্কিন পরিবারকে কেবল জ্বালানি খাতের বাড়তি ব্যয় মেটাতে ৭৬০ ডলারের বেশি খরচ করতে হয়েছে।

ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা বলছেন, ১০০.৪ বিলিয়ন ডলারের এই হিসাবটি একটি তুলনামূলক চিত্র। যুদ্ধ না হলে জ্বালানির দাম কেমন থাকত এবং যুদ্ধের কারণে বর্তমানে দাম কত এই দুইয়ের ব্যবধান থেকেই অতিরিক্ত ব্যয়ের এই খতিয়ান তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু পেট্রলেই বাড়তি খরচ হয়েছে ৫৫.০১ বিলিয়ন ডলার।

গ্যাস স্টেশনে অস্বস্তি
যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ব্যক্তিগত গাড়ি। কিন্তু গ্যাস স্টেশনগুলোতে এখন তেলের দাম দেখে কপালে ভাঁজ পড়ছে সাধারণ মানুষের। সাম্প্রতিক শ্রমিক দিবসের ছুটিতে দেখা গেছে, দেশজুড়ে নিয়মিত গ্যাসোলিনের গড় দাম প্রতি গ্যালনে ৪.১৪ ডলারে ঠেকেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় এক ডলার বেশি। অন্যদিকে, ডিজেলের দাম বেড়ে হয়েছে ৫.৮৫ ডলার। শতাংশের হিসেবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গ্যাসোলিনের দাম ৩৯ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মূল্যবৃদ্ধির পুরো দায় কেবল যুদ্ধের নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ও চাহিদা, মজুত পরিস্থিতি এবং পরিবহন ঝুঁকির মতো বিষয়গুলোও এখানে অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে।

পণ্য ও সেবায় বাড়তি খরচের শঙ্কা
জ্বালানির এই দাম বৃদ্ধি কেবল ব্যক্তিগত গাড়ির চাকাতেই সীমাবদ্ধ নেই। ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাক ও লরির মাধ্যমে পণ্য পরিবহন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে কৃষি ও নির্মাণ খাতে। পণ্যবাহী যানের খরচ বাড়লে শেষ পর্যন্ত তার বোঝা সাধারণ ক্রেতার ওপরই পড়ে। ফলে নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

উদ্বেগের কেন্দ্রে হরমুজ প্রণালি
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মূল কেন্দ্রবিন্দু এখন হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের বড় একটি অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই প্রণালি ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আতঙ্ক বিরাজ করছে বাজারে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৭ সেপ্টেম্বর ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৭ ডলারে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই তেলের দামও ব্যারেলপ্রতি ৯৩ ডলার ছুঁইছুঁই। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাত যদি আরও ছড়িয়ে পড়ে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়, তবে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার পর্যন্ত উঠে যেতে পারে।

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনিশ্চয়তার কালো মেঘ আরও ঘনীভূত হচ্ছে। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, আধুনিক বিশ্বের যুদ্ধগুলো কেবল নির্দিষ্ট কোনো সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর আর্থিক ধাক্কা সমুদ্র পেরিয়ে পৌঁছে যায় সাধারণ মানুষের ডাইনিং টেবিল পর্যন্ত।

(তথ্যসূত্র: ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়, অ্যাক্সিওস ও রয়টার্স)

Image ইউরোপ
যুক্তরাজ্য ভাঙার নজিরবিহীন উদ্যোগ, কার্ডিফে তিন দেশের ফার্স্ট মিনিস্টারের ঐতিহাসিক বৈঠক

যুক্তরাজ্য থেকে পৃথক হওয়ার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক নেতৃত্ব। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফের সেন্ট ডেভিডস হোটেলে এক নজিরবিহীন বৈঠকে বসছেন তিন দেশের ফার্স্ট মিনিস্টার।

যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে তিন নেতা একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে সই করবেন। এতে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এবং স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের আনুষ্ঠানিক দাবি জানানো হবে। কার্ডিফ বে–এর তীরে অবস্থিত হোটেলটিতে তিন ফার্স্ট মিনিস্টারের সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের প্রধান বিরোধী দল সিন ফেইনের সভাপতি মেরি লু ম্যাকডোনাল্ডও উপস্থিত থাকবেন।

রাজনৈতিক চিত্রে বড় পরিবর্তন ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড—তিনটি বিকেন্দ্রীভূত (Devolved) সরকারের নেতৃত্বেই রয়েছে স্বাধীনতাপন্থি দলগুলো।

স্কটল্যান্ডে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (এসএনপি) নেতা জন সুইনি ফার্স্ট মিনিস্টারের দায়িত্বে রয়েছেন। ওয়েলসে মে মাসের নির্বাচনে লেবার পার্টির পরাজয়ের পর সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে আসে প্লেইড কামরু; দলটির নেতা রুন আপ আইওয়ার্থ বর্তমানে ফার্স্ট মিনিস্টার। অন্যদিকে, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে সিন ফেইনের মিশেল ও’নিল ফার্স্ট মিনিস্টার হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

‘বর্তমান ব্যবস্থা টেকসই নয়’ স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি বলেন, তিন দেশেই স্বাধীনতাপন্থি নেতৃত্ব আসা প্রমাণ করে যে যুক্তরাজ্যের বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো আর টেকসই নয়। ওয়েস্টমিনস্টারকে ‘যুক্তরাজ্য-পরবর্তী’ ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সমালোচনা করে সুইনি বলেন, “ইতিহাসে হয়তো তিনি যুক্তরাজ্যের শেষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবেন।” কার্ডিফের এই বৈঠককে স্বাধীনতার অভিমুখে এক ‘নতুন সূচনা’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

গণভোট ইস্যুতে লন্ডনের অবস্থান তিন নেতার বৈঠকের মুখে গণভোট নিয়ে যুক্তরাজ্যে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম সম্প্রতি জানান, স্কটল্যান্ডে যদি স্বাধীনতার পক্ষে ‘স্পষ্ট ঐকমত্য’ তৈরি হয়, তবে গণভোট বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে জন সুইনিকে লেখা সাম্প্রতিক এক চিঠিতে তিনি স্পষ্ট করেন, নতুন কোনো সাধারণ নির্বাচনের আগে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার গণভোটের সুযোগ নেই। এতে মূল অর্থনৈতিক সংস্কার থেকে সরকারের মনোযোগ সরে যাবে বলে মত তাঁর।

আয়ারল্যান্ড একত্রীকরণ ও ইইউতে ফেরা বৈঠকে তিন দেশের মধ্যে অর্থনীতি, জ্বালানি, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে।

‘গুড ফ্রাইডে চুক্তি’ অনুযায়ী নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে আইরিশ পুনরেকত্রীকরণ গণভোটের সুযোগ রয়েছে। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের অংশ হওয়ার মাধ্যমে এবং স্কটল্যান্ড ও ওয়েলস স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পুনরায় ইইউ-তে যোগ দিতে আগ্রহী।

ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিকভাবেও বিষয়টি নজরে এসেছে। সম্প্রতি ডাবলিন সফরকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেন, তিনি একটি ‘ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড’ দেখতে আগ্রহী।

ক্ষমতা বৃদ্ধির দাবি ওয়েলসের বৈঠকে প্লেইড কামরু ওয়েলসের জন্য বাড়তি অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার দাবি তুলবে। বিশেষ করে রাজস্ব, কর সংগ্রহ, পুলিশ ও রেল খাতের নিয়ন্ত্রণ ওয়েলস সরকারের হাতে হস্তান্তরের জোর দাবি জানানো হচ্ছে।

এই বিভাগে এখনো কোনো খবর প্রকাশিত হয়নি

বিনোদন

খেলাধুলা

মতামত

ফটো গ্যালারী

সব ছবি