মঙ্গলবার , ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রধান সংবাদ পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠ থেকে ককটেল-পেট্রোল বোমা উদ্ধার
পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠ থেকে ককটেল-পেট্রোল বোমা উদ্ধার

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে গণভবনের পেছনে ও চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের পাশে অবস্থিত পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ থেকে বিপুল পরিমাণ ককটেল ও পেট্রোলবোমা উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্ব…

'সাইবার সুরক্ষা আইন কোনোভাবেই দমনমূলক হতে দেওয়া হবে না'
'সাইবার সুরক্ষা আইন কোনোভাবেই দমনমূলক হতে দেওয়া হবে না' ৮ ঘন্টা

প্রস্তাবিত 'সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬' কোনোভাবেই দমনমূলক আইনে পরিণত হতে দেওয়া হবে না এবং এই আইনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের হয়রানি করা হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি জানান, আইনের অপব্যবহার থেকে সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া হবে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬'-এর খসড়া নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ সভা শেষে ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আইটি বিশেষজ্ঞ, গণমাধ্যম পেশাজীবী, মানবাধিকার সংস্থা এবং অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনার পরই সরকার বিলটি চূড়ান্ত করবে।

তিনি বলেন, "অধিকতর আলোচনার বিষয়ে মন্ত্রিসভার নির্দেশনার পর জনমত সংগ্রহের জন্য খসড়াটি ইতোমধ্যে সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষার্থী এবং সাইবার-স্পেস ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে অনেক মতামত পাওয়া গেছে, যা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।"

সভায় ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম প্রস্তাব করেন, আইনটি যেন সাংবাদিকদের ওপর বিরূপ প্রভাব না ফেলে এবং এতে ‘সেভিং ক্লজ’ (সুরক্ষা বিধান)-সহ যথাযথ সুরক্ষাকবচ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সে লক্ষ্যে গণমাধ্যম ও সাইবার-নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আরও পর্যালোচনার আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী জানান, সরকার এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া বা তাঁকে গ্রেপ্তারের আগে আদালতের পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব সভায় আলোচনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা ১৫ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ জমা দেওয়ার পর খসড়ায় বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা বিবেচনা করা হবে।

একই সঙ্গে মামলা ও আপিল নিষ্পত্তির জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে যেন মানুষকে অনির্দিষ্টকাল আইনি প্রক্রিয়ায় আটকে থাকতে না হয়।

পরামর্শ প্রক্রিয়া সমন্বয়ের জন্য প্রধান তথ্য কর্মকর্তাকে (পিআইও) ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এটি তদারকি করবে।

পরবর্তী ধাপে গণমাধ্যম প্রতিনিধি ও সাইবার বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন এবং তাঁদের সাত থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

সুপারিশ পর্যালোচনার পর সংশোধিত খসড়াটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের আগে আবারও সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী। এর পর খসড়াটি আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যাবে এবং অনুমোদিত হলে সংসদে উত্থাপন করা হবে।

সরকার তাড়াহুড়ো করে সংসদে আইন পাস করাবে না উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চূড়ান্ত করার আগে সংসদীয় আলোচনার পাশাপাশি সংসদের বাইরে বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামে উঠে আসা মতামতও বিবেচনা করা হবে।

প্রস্তাবিত এই আইনের প্রধান লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারিবারিক মূল্যবোধ ও স্থানীয় সংস্কৃতি সমুন্নত রাখা। একই সঙ্গে দেশ ও নাগরিকদের, বিশেষ করে তরুণদের সাইবার অপরাধ থেকে সুরক্ষার জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ আইনি কাঠামো তৈরি করা।

ভিডিও গ্যালারি

সব ভিডিও
অর্থনীতি
জুলাই-আগস্টে ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকার বিদেশি ঋণ পরিশোধ

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে বাংলাদেশ ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলারের বিদেশি ঋণ পরিশোধ করেছে। দেশী

সারাদেশ

আন্তর্জাতিক

Image আন্তর্জাতিক
মুম্বাইয়ে সমাবেশের অনুমতি মেলেনি, 'জেল ভরো' আন্দোলনের ডাক সিজেপির

ভারতের মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক শিবাজী পার্কে সমাবেশের অনুমতি না পেয়ে আগামী ২ অক্টোবর ‘জেল ভরো আন্দোলন’-এর ডাক দিয়েছে তরুণদের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ককরোচ বা তেলাপোকা জনতা পার্টি (সিজেপি)।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আজই আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আগামী ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীতে শিবাজী পার্কে বিক্ষোভ সমাবেশের অনুমতি চেয়েছিল সিজেপি। তবে মুম্বাই হাইকোর্টের ২০১৩ সালের একটি আদেশের কথা উল্লেখ করে গতকাল রোববার মুম্বাই পুলিশ জানায়, শিবাজী পার্ক কেবল ক্রীড়া সংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করা যাবে।

পুলিশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, এই কর্মসূচির ফলে আবাসিক এলাকায় শব্দদূষণ হতে পারে। পাশাপাশি আশেপাশের এলাকায় বড় বেশ কিছু হাসপাতাল থাকায় প্রতিবাদ থেকে সৃষ্ট যানজট রোগী পরিবহনে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

Image ভারত
যুদ্ধের কারণে ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লেগেছে। এর ফলে দেশটির  অর্থনীতিতে ১০ শতাংশেরও বেশি সংকুচিত হয়েছে। ইরানের সরকারি এক পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে ইরানে যুদ্ধ শুরু হয়। 

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ইরানের পরিসংখ্যান কেন্দ্রের রোববার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শেষ দিক থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত এক বছরে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১০ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। ইরানের পারস্য বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী এই সময়কে বছরের প্রথম প্রান্তিক হিসেবে গণ্য করা হয়।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এবং দেশটির কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হয়। এর পর থেকেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।

ওই হামলার জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই তেল পরিবহনপথে অচলাবস্থার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যায়। পরে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে যুদ্ধের প্রভাবের পাশাপাশি ইরানের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরেই অতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং দেশটির মুদ্রার অবমূল্যায়নের সংকটে রয়েছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে উল্লেখ করা হয়।

এই বিভাগে এখনো কোনো খবর প্রকাশিত হয়নি

এই বিভাগে এখনো কোনো খবর প্রকাশিত হয়নি

Image মধ্য প্রাচ্য
শর্তপূরণ ছাড়া হরমুজ প্রণালী খুলবে না জানিয়ে দিলো ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে শেষ পর্যন্ত ‘আলোচনার পথই’ একমাত্র সমাধান বলে ফের জোর দিয়ে জানাল ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর রোববার তেহরানের পক্ষ থেকে এমন প্রতিক্রিয়া এল।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, ‘আমাদের শর্তগুলো স্পষ্ট। হরমোজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়টি এই শর্তগুলো পূরণের ওপরই নির্ভর করছে। একমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই এই অচলাবস্থা কাটানো সম্ভব।’

গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে কাতার মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান তাদের এই শান্তি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠায়। তবে শনিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ট্রাম্পের দাবি, ইরান এখন ‘বেহাল’ অবস্থায় আছে বলেই তারা সমঝোতার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।

তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের বিপরীতে আব্বাস আরাকচি জানান, মধ্যস্থতাকারীদের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কোনো প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কথা জানায়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো মধ্যস্থতাকারীদের চূড়ান্ত উত্তরের অপেক্ষায় আছি। তাদের বার্তার ওপর ভিত্তি করেই আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’

হরমোজ প্রণালীতে চলাচলকারী জাহাজে হামলার জেরে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে ওই অঞ্চল দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। যদিও ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন যে ওই জলপথ এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি বেশ জটিল।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে ইরানের প্রস্তাব নিয়ে সন্দিহান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠদের বলেছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তিনি ইরানে নতুন করে বোমা হামলার পথই বেশি কার্যকর মনে করছেন।

ইরানের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত চুক্তিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র রাজি হলে সাত দিনের মধ্যে হরমোজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে এবং আঞ্চলিক লড়াইয়ে বিরতি টানা হবে। এর বিনিময়ে ইরান পরমাণু কর্মসূচি ও অন্যান্য বিষয়ে বৃহত্তর আলোচনার পথ খোলা রাখবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিল।

তবে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের একাংশ বলছেন, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমরা যুদ্ধ চাই না, তবে চাপ ও হুমকির মুখে নিজেদের রক্ষা করব। আমরা এটি আগেই নিশ্চিত করেছি যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই সংঘাত সাত মাস পেরিয়ে গেছে। এতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। একদিকে অবরোধ ও অর্থনৈতিক ধস, অন্যদিকে আঞ্চলিক মিত্রদের (যেমন ইয়েমেনের হুথি) মাধ্যমে পাল্টা আক্রমণ—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে এক অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সম্প্রতি সৌদি আরবে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই দ্বৈরথ কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি এখন বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আলোচনার টেবিলে দুই পক্ষ কতটা নমনীয় হবে, তার ওপরই নির্ভর করছে হরমোজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ।

Image ইউএসএ
ইরান যুদ্ধের দহন মার্কিন মুলুকে: প্রতি দুই মিনিটে গচ্ছা যাচ্ছে ১০ লাখ ডলার

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যখন ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোন লড়াইয়ের গর্জন, আর তখন তার তপ্ত আঁচ গিয়ে লাগছে আটলান্টিকের ওপারে মার্কিন মুলুকের সাধারণ মানুষের পকেটে। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত এখন আর কেবল ভূরাজনৈতিক মানচিত্রের লড়াই নেই; তা রূপ নিয়েছে মার্কিন নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনযুদ্ধের আশঙ্কায়। যুদ্ধের জেরে জ্বালানির বাড়তি দাম মেটাতে গিয়ে ইতিমধ্যে মার্কিন ভোক্তাদের পকেট থেকে অতিরিক্ত ১০০ বিলিয়ন (১০ হাজার কোটি) ডলারের বেশি বেরিয়ে গেছে।

ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াটসন ইনস্টিটিউটের ‘ক্লাইমেট সলিউশনস ল্যাব’-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে পেট্রল ও ডিজেলের পেছনে মার্কিন নাগরিকদের এই বিশাল অঙ্কের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে।

প্রতি দুই মিনিটে গচ্ছা যাচ্ছে ১০ লাখ ডলার
গবেষণার হিসাবটি চমকে দেওয়ার মতো। বর্তমানে যে গতিতে জ্বালানির দাম বাড়ছে, তাতে প্রতি দুই মিনিটে মার্কিন ভোক্তাদের অতিরিক্ত ১০ লাখ ডলার গুনতে হচ্ছে। যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত একটি গড়পড়তা মার্কিন পরিবারকে কেবল জ্বালানি খাতের বাড়তি ব্যয় মেটাতে ৭৬০ ডলারের বেশি খরচ করতে হয়েছে।

ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা বলছেন, ১০০.৪ বিলিয়ন ডলারের এই হিসাবটি একটি তুলনামূলক চিত্র। যুদ্ধ না হলে জ্বালানির দাম কেমন থাকত এবং যুদ্ধের কারণে বর্তমানে দাম কত এই দুইয়ের ব্যবধান থেকেই অতিরিক্ত ব্যয়ের এই খতিয়ান তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু পেট্রলেই বাড়তি খরচ হয়েছে ৫৫.০১ বিলিয়ন ডলার।

গ্যাস স্টেশনে অস্বস্তি
যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ব্যক্তিগত গাড়ি। কিন্তু গ্যাস স্টেশনগুলোতে এখন তেলের দাম দেখে কপালে ভাঁজ পড়ছে সাধারণ মানুষের। সাম্প্রতিক শ্রমিক দিবসের ছুটিতে দেখা গেছে, দেশজুড়ে নিয়মিত গ্যাসোলিনের গড় দাম প্রতি গ্যালনে ৪.১৪ ডলারে ঠেকেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় এক ডলার বেশি। অন্যদিকে, ডিজেলের দাম বেড়ে হয়েছে ৫.৮৫ ডলার। শতাংশের হিসেবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গ্যাসোলিনের দাম ৩৯ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মূল্যবৃদ্ধির পুরো দায় কেবল যুদ্ধের নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ও চাহিদা, মজুত পরিস্থিতি এবং পরিবহন ঝুঁকির মতো বিষয়গুলোও এখানে অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে।

পণ্য ও সেবায় বাড়তি খরচের শঙ্কা
জ্বালানির এই দাম বৃদ্ধি কেবল ব্যক্তিগত গাড়ির চাকাতেই সীমাবদ্ধ নেই। ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাক ও লরির মাধ্যমে পণ্য পরিবহন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে কৃষি ও নির্মাণ খাতে। পণ্যবাহী যানের খরচ বাড়লে শেষ পর্যন্ত তার বোঝা সাধারণ ক্রেতার ওপরই পড়ে। ফলে নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

উদ্বেগের কেন্দ্রে হরমুজ প্রণালি
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মূল কেন্দ্রবিন্দু এখন হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের বড় একটি অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই প্রণালি ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আতঙ্ক বিরাজ করছে বাজারে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৭ সেপ্টেম্বর ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৭ ডলারে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই তেলের দামও ব্যারেলপ্রতি ৯৩ ডলার ছুঁইছুঁই। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাত যদি আরও ছড়িয়ে পড়ে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়, তবে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার পর্যন্ত উঠে যেতে পারে।

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনিশ্চয়তার কালো মেঘ আরও ঘনীভূত হচ্ছে। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, আধুনিক বিশ্বের যুদ্ধগুলো কেবল নির্দিষ্ট কোনো সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর আর্থিক ধাক্কা সমুদ্র পেরিয়ে পৌঁছে যায় সাধারণ মানুষের ডাইনিং টেবিল পর্যন্ত।

(তথ্যসূত্র: ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়, অ্যাক্সিওস ও রয়টার্স)

Image ইউরোপ
যুক্তরাজ্য ভাঙার নজিরবিহীন উদ্যোগ, কার্ডিফে তিন দেশের ফার্স্ট মিনিস্টারের ঐতিহাসিক বৈঠক

যুক্তরাজ্য থেকে পৃথক হওয়ার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক নেতৃত্ব। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফের সেন্ট ডেভিডস হোটেলে এক নজিরবিহীন বৈঠকে বসছেন তিন দেশের ফার্স্ট মিনিস্টার।

যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে তিন নেতা একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে সই করবেন। এতে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এবং স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের আনুষ্ঠানিক দাবি জানানো হবে। কার্ডিফ বে–এর তীরে অবস্থিত হোটেলটিতে তিন ফার্স্ট মিনিস্টারের সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের প্রধান বিরোধী দল সিন ফেইনের সভাপতি মেরি লু ম্যাকডোনাল্ডও উপস্থিত থাকবেন।

রাজনৈতিক চিত্রে বড় পরিবর্তন ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড—তিনটি বিকেন্দ্রীভূত (Devolved) সরকারের নেতৃত্বেই রয়েছে স্বাধীনতাপন্থি দলগুলো।

স্কটল্যান্ডে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (এসএনপি) নেতা জন সুইনি ফার্স্ট মিনিস্টারের দায়িত্বে রয়েছেন। ওয়েলসে মে মাসের নির্বাচনে লেবার পার্টির পরাজয়ের পর সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে আসে প্লেইড কামরু; দলটির নেতা রুন আপ আইওয়ার্থ বর্তমানে ফার্স্ট মিনিস্টার। অন্যদিকে, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে সিন ফেইনের মিশেল ও’নিল ফার্স্ট মিনিস্টার হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

‘বর্তমান ব্যবস্থা টেকসই নয়’ স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি বলেন, তিন দেশেই স্বাধীনতাপন্থি নেতৃত্ব আসা প্রমাণ করে যে যুক্তরাজ্যের বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো আর টেকসই নয়। ওয়েস্টমিনস্টারকে ‘যুক্তরাজ্য-পরবর্তী’ ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সমালোচনা করে সুইনি বলেন, “ইতিহাসে হয়তো তিনি যুক্তরাজ্যের শেষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবেন।” কার্ডিফের এই বৈঠককে স্বাধীনতার অভিমুখে এক ‘নতুন সূচনা’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

গণভোট ইস্যুতে লন্ডনের অবস্থান তিন নেতার বৈঠকের মুখে গণভোট নিয়ে যুক্তরাজ্যে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম সম্প্রতি জানান, স্কটল্যান্ডে যদি স্বাধীনতার পক্ষে ‘স্পষ্ট ঐকমত্য’ তৈরি হয়, তবে গণভোট বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে জন সুইনিকে লেখা সাম্প্রতিক এক চিঠিতে তিনি স্পষ্ট করেন, নতুন কোনো সাধারণ নির্বাচনের আগে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার গণভোটের সুযোগ নেই। এতে মূল অর্থনৈতিক সংস্কার থেকে সরকারের মনোযোগ সরে যাবে বলে মত তাঁর।

আয়ারল্যান্ড একত্রীকরণ ও ইইউতে ফেরা বৈঠকে তিন দেশের মধ্যে অর্থনীতি, জ্বালানি, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে।

‘গুড ফ্রাইডে চুক্তি’ অনুযায়ী নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে আইরিশ পুনরেকত্রীকরণ গণভোটের সুযোগ রয়েছে। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের অংশ হওয়ার মাধ্যমে এবং স্কটল্যান্ড ও ওয়েলস স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পুনরায় ইইউ-তে যোগ দিতে আগ্রহী।

ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিকভাবেও বিষয়টি নজরে এসেছে। সম্প্রতি ডাবলিন সফরকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেন, তিনি একটি ‘ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড’ দেখতে আগ্রহী।

ক্ষমতা বৃদ্ধির দাবি ওয়েলসের বৈঠকে প্লেইড কামরু ওয়েলসের জন্য বাড়তি অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার দাবি তুলবে। বিশেষ করে রাজস্ব, কর সংগ্রহ, পুলিশ ও রেল খাতের নিয়ন্ত্রণ ওয়েলস সরকারের হাতে হস্তান্তরের জোর দাবি জানানো হচ্ছে।

এই বিভাগে এখনো কোনো খবর প্রকাশিত হয়নি

বিনোদন
চাঁদাবাজে ভরে গেছে দেশ, ধিক্কার সাদিয়ার চাঁদাবাজে ভরে গেছে দেশ, ধিক্কার সাদিয়ার

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে জনপ্রিয় কনটেন্ট নির্মাতা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার মধ্যরাতে রাজধানীর ইসি…

খেলাধুলা

মতামত

সব মতামত →

ফটো গ্যালারী

সব ছবি