কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে হাওরে মাছ ধরা ও রিং জাল চুরি নিয়ে সালিশ বৈঠক চলাকালে সাবেক ও বর্তমান ইউপি সদস্যের অনুসারীদের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বৈরাটি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইমামনগর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাওরে মাছ ধরা ও রিং জাল চুরিকে কেন্দ্র করে ইমামনগর গ্রামের বর্তমান ইউপি সদস্য হান্নান মিয়া ও সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল লতিফের স্বজনদের মধ্যে কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে শুক্রবার সকালে বৈরাটী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ইমামনগর গ্রামে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করেন।
সালিশ বৈঠক চলাকালেই কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজন রামদা, বল্লম, টেটাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৈরাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম বলেন, ‘দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ মীমাংসার জন্যই আমরা সালিশে বসেছিলাম। কিন্তু স্থানীয় মাতব্বর ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বসিয়ে রেখেই দুই পক্ষের লোকজন হঠাৎ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরে সবার চেষ্টায় সংঘর্ষ থামানো সম্ভব হয়।’
অষ্টগ্রাম সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. দিদারুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
