সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসের পর দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবারেও (৫ অক্টোবর) দেশের শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হয়েছে। লেনদেনের শুরুর দিকে সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও দুপুরের পর বিক্রি বৃদ্ধির চাপে সূচক ও লেনদেন দুটোই কমে দিনের লেনদেন শেষ হয়েছে।
ডিজিটাল ট্রেডিং ট্র্যাকার অনুযায়ী, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স (DSEX) ৩৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৪৪৫ পয়েন্টে।
ডিএসইর অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা শেয়ার নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৮১ পয়েন্টে এবং শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসইএস ৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৭৯ পয়েন্টে নেমে এসেছে।
সোমবার ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৮৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৪টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ২৮৪টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৪৮টির। ফলে দরবৃদ্ধির চেয়ে দরপতনের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল পাঁচ গুণেরও বেশি।
দিনের শুরুতে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বাড়ায় সূচক ছিল ঊর্ধ্বমুখী। লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টাও এ ধারা বজায় ছিল। তবে দুপুর ১২টার পর বিক্রির চাপ বাড়লে বাজারে পতনমুখী প্রবণতা দেখা দেয়।
সূচকের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। ডিএসইতে মোট ৫৩৭ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৫৪২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা; অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।
ডিএসইতে টাকার অঙ্কে লেনদেনের শীর্ষে ছিল প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল। কোম্পানিটির ৩১ কোটি ১৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। ২০ কোটি ৯৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করে দ্বিতীয় স্থানে সায়হাম টেক্সটাইল এবং ১৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা নিয়ে তৃতীয় স্থানে ছিল অ্যাপেক্স ফুডস।
লেনদেনের শীর্ষ দশ কোম্পানির তালিকায় পরবর্তী স্থানে রয়েছে একমি পেস্টিসাইড, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, টেকনো ড্রাগস, মালেক স্পিনিং, ইভিন্স টেক্সটাইল, এনভয় টেক্সটাইল ও ওরিয়ন ইনফিউশন।
বাজারের শ্রেণিভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, ভালো লভ্যাংশ প্রদানকারী ‘এ’ শ্রেণির ৩৩টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে ১৩৬টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৪টির। ‘বি’ শ্রেণির ৫টি কোম্পানির দর বাড়লেও কমেছে ৬৯টির। লভ্যাংশ না দেওয়া ‘জেড’ শ্রেণির ১৫টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে ৭৯টির এবং ২৪টি অপরিবর্তিত রয়েছে। মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৫টির দর বেড়েছে, কমেছে ১২টির ও ১৫টি অপরিবর্তিত রয়েছে।
একই পতনমুখী চিত্র দেখা গেছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই)। সেখানে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৩টির দাম বেড়েছে, কমেছে ১২০টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২২টির। ফলে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই (CASPI) ৪০ পয়েন্ট কমেছে।
তবে সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় সামান্য বেড়েছে। দিন শেষে বাজারটিতে ১৭ কোটি ১৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়, যা আগের দিন ছিল ১৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা।
