ময়মনসিংহে সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় একই পরিবারের চারজনসহ মোট সাতজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর সোয়া একটা দিকে ময়মনসিংহ শহরের পূর্ব গন্দ্রপা বাইপাস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, নিহত সাতজনের মধ্যে চারজনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তারা হলেন জামালপুর সদর উপজেলার দড়িহামিদপুর গ্রামের রাশিদা বেগম (৭০), তাঁর ছেলে মোফাজ্জল হোসেন (৫০), মোফাজ্জলের মেয়ে মর্জিনা আক্তার (২৫) এবং মর্জিনার ছেলে মিনান (৫)।
তারা জামালপুর থেকে গাজীপুর যাচ্ছিলেন। মোফাজ্জল হোসেন সেখানে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। বাকি তিনজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, অটোরিকশায় সাতজন যাত্রী ছিলেন এবং ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। নিখোঁজ তিনজনের সাথে থাকা মুঠোফোন ও বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। নিহতদের লাশ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ওসি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ সেটিকে আটক করে। বর্তমানে পুলিশের রেকার দিয়ে বাসটি জব্দ করে রাখা হয়েছে। তবে বাসের চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন; তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। বাস-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
ফায়ার সার্ভিস ময়মনসিংহ স্টেশনের কর্মকর্তা মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। জামালপুরগামী রাজীব পরিবহনের বাসের সঙ্গে ময়মনসিংহ বাইপাসগামী অটোরিকশাটির সংঘর্ষ ঘটে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দারা অটোরিকশা থেকে লাশগুলো উদ্ধার করেন। অতিরিক্ত গতির কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মামুন হোসেন বলেন, ‘জুমার নামাজে যাওয়ার সময় বিকট শব্দ শুনে ছুটে যাই। স্থানীয় লোকজন বাসটি ঠেলে সরিয়ে অটোরিকশাটি বের করেন। সড়কটিতে দিন দিন যানবাহনের চাপ ও দুর্ঘটনা বাড়ছে। এটি চার লেন করা এবং চালকদের সচেতন হওয়া জরুরি।’
