সুইডেনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ ‘রিক্সদগ’, আঞ্চলিক (রিজিওন) কাউন্সিল ও পৌর পরিষদ নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে দেশটির মূলধারার বিভিন্ন প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হয়ে ভোটের মাঠে নেমেছেন বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে স্থানীয় পৌর পরিষদ রাজনীতির প্রতিটি স্তরেই তাঁদের সরব উপস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে।
বামপন্থী দল ভ্যানস্টারপারিয়েতের (Vänsterpartiet) হয়ে সুন্দবিবেরি পৌর পরিষদ নির্বাচনে লড়ছেন স্থপতি তাওহিদ আমানুল্লাহ। ‘আপনার পাশে’ (পো দিন সিদা) স্লোগান সামনে রেখে প্রচার চালাচ্ছেন তিনি। ব্যক্তিগত মুনাফার চেয়ে মানুষের মৌলিক চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, আবাসন, সামাজিক নিরাপত্তা, সমতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন এই প্রার্থী।
মডারেট পার্টির প্রার্থী হিসেবে সোলেনতুনা পৌর পরিষদ নির্বাচনে ২৩ নম্বর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শিমুল সানাউল্লাহ। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রাত্যহিক জীবনের বাস্তব চাহিদাকেই তিনি তাঁর মূল ইশতেহার করেছেন। শিশুদের উন্নত শিক্ষা, মানসম্মত প্রবীণসেবা, ব্যবসা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, পরিবেশ রক্ষা এবং কমিউনিটিকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দিচ্ছেন তিনি।
অন্যদিকে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট পার্টির হয়ে বুতশিরকা পৌর পরিষদের ৩৩ নম্বর আসনে লড়ছেন মাতৃভাষা শিক্ষক আফতাব জাইগারদার। শিক্ষার মানোন্নয়নকে মূল হাতিয়ার করে প্রচার চালাচ্ছেন তিনি। প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ, বেশি শিক্ষক নিয়োগ ও ছোট শ্রেণিকক্ষের দাবি তুলে ধরে ভোটারদের সরাসরি ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন আফতাব।
তেবি পৌর পরিষদ নির্বাচনে ৩৭ নম্বর আসনে মডারেট পার্টির হয়ে মাঠে আছেন মো. আরিফ হোসেন মজুমদার। স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা খাতে, বিশেষ করে মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় নিজের ১৪ বছরের কাজের অভিজ্ঞতার আলোকে একটি নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ার কথা বলছেন তিনি। পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙা করার দিকেও তাঁর বিশেষ নজর রয়েছে।
সুইডেনের বিভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করায় এসব প্রার্থীর নির্বাচনী লক্ষ্য ও কৌশলে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। বামপন্থী ভ্যানস্টার পার্টির প্রার্থীরা সমতা ও শ্রমিকদের অধিকার, সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা জনসেবা ও শিক্ষা এবং মডারেট পার্টির প্রার্থীরা নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানে বেশি জোর দিচ্ছেন।
তবে দল বা মতাদর্শ যা-ই হোক না কেন, সব প্রার্থীর প্রচারেই একটি বিষয় স্পষ্ট - কেবল অভিবাসী পরিচয়ের গণ্ডিতে আটকে না থেকে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন এবং স্থানীয় সব মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নই তাঁদের মূল লক্ষ্য।