রিজিক বৃদ্ধির শ্রেষ্ঠ আমল ইস্তেগফার। ইস্তেগফারের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার প্রতি বান্দার ইমান, আনুগত্য ও মুখাপেক্ষিতা প্রকাশ পায়। আল্লাহর প্রতি ভরসা ও নির্ভরতা প্রকাশ পায়। বিনয় ও অহংকারহীনতা প্রকাশ পায়। বান্দা যখন সত্যিকার অনুশোচনা নিয়ে নিজের অসহায়ত্ব ও আল্লাহর কাছে মুখাপেক্ষিতা প্রকাশ করে, আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তখন আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেওয়ার পাশাপাশি তার দিকে সন্তুষ্টি ও রহমতের দৃষ্টি দেন। ফলে জীবনের সব ক্ষেত্রেই সে বরকত ও রহমত লাভ করে।
কোরআনে আল্লাহ তার নবী নুহের (আ.) ঘটনায় উল্লেখ করেছেন, নুহ (আ.) তার জাতিকে বলেছিলেন, তোমরা আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করো, ইস্তিগফারের বরকতে আল্লাহ বৃষ্টি দান করবেন, তোমাদের সম্পদ ও সন্তান সন্ততিতে বরকত দান করবেন। আল্লাহ বলেন, আর বলেছি, ‘তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও; নিশ্চয় তিনি পরম ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, তোমাদেরকে ধন-সম্পদ ও সন্তান- সন্ততি দিয়ে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের জন্য বাগ-বাগিচা দেবেন আর দেবেন নদী-নালা। (সুরা নুহ: ১০-১২)
হাদিসেও ইস্তেগফার পাঠ করাকে সব বিপদ ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি ও রিজিক লাভের আমল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি সব সময় ক্ষমা চায়, আল্লাহ তাআলা তার জন্য প্রত্যেক সংকীর্ণতা হতে বের হয়ে আসার পথ খুলে দেন, প্রত্যেক দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত করেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে তার রিজিকের ব্যবস্থা করেন। (সুনানে আবু দাউদ: ১৫১৮)
এ আয়াত ও হাদিস থেকে বোঝা যায়, ক্ষমা লাভের পাশাপাশি দুনিয়ায় বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি, সমৃদ্ধি, হালাল রিজিক, সম্পদ ও সুসন্তান লাভের একটা উপায় হলো আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করা।