আগস্ট ১৩, ২০২৬
Busimess

ইউটিউব থেকে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আয় করতে নতুন ভিডিও নির্মাতাদের (কনটেন্ট ক্রিয়েটর) জন্য শর্ত আরও কঠিন হচ্ছে। আগামী বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে বিশ্বের জনপ্রিয় এই ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মটি। নতুন নিয়মে বিজ্ঞাপন ও ইউটিউব প্রিমিয়াম থেকে আয় করতে আগের তুলনায় দ্বিগুণ দর্শকসংখ্যা বা দেখার সময় (ওয়াচটাইম) প্রয়োজন হবে।

২০১৮ সালের পর এবারই প্রথম মনিটাইজেশন নীতিমালায় এত বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে প্ল্যাটফর্মটি। বিশেষ করে ছোট ভিডিও বা শর্টসের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন ইউটিউবে ২০ হাজার কোটির বেশি শর্টস দেখা হয়, যা ২০২৪ সালে ছিল প্রায় ৭ হাজার কোটি।

মনিটাইজেশনের নতুন শর্তে যা থাকছে
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো চ্যানেল থেকে বিজ্ঞাপনের আয় পেতে হলে গত এক বছরে অন্তত ৮ হাজার ঘণ্টা ভিডিও দেখার সময় (ওয়াচটাইম) থাকতে হবে। বিকল্প হিসেবে গত ৯০ দিনে চ্যানেলে অন্তত ২ কোটি যোগ্য শর্টস ভিডিও ভিউ থাকতে হবে। বর্তমানে এই সীমা ৪ হাজার ঘণ্টা ওয়াচটাইম এবং ৯০ দিনে ১ কোটি শর্টস ভিউ। তবে চ্যানেলে সাবস্ক্রাইবার বা গ্রাহকসংখ্যা অন্তত ১ হাজার থাকার শর্তটি আগের মতোই বহাল থাকবে।

বর্তমান নির্মাতাদের ওপর প্রভাব
শুধু নতুন নির্মাতারাই নন, ইউটিউবের মনিটাইজেশন সচল থাকা পুরোনো নির্মাতাদের ওপরও নতুন নিয়মের প্রভাব পড়বে। শর্টস ভিডিও থেকে প্রতি মাসে বিজ্ঞাপন ও সাবস্ক্রিপশন আয় বজায় রাখতে ৯০ দিনের মধ্যে অন্তত ১ কোটি যোগ্য ভিউ ধরে রাখতে হবে। কোনো চ্যানেলের শর্টস ভিউ এই সীমার নিচে নেমে গেলে শর্টস থেকে আয় সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। তবে এতে চ্যানেলটির মূল মনিটাইজেশন সুবিধা বাতিল হবে না। পরবর্তী সময়ে ভিউ আবার নির্ধারিত সীমায় পৌঁছালে শর্টস থেকে আয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সচল হবে।

ইউটিউব জানিয়েছে, যারা ইতিমধ্যে শর্টস থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আয় করছেন, তাদের ওপর নতুন নিয়মের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। তবে কতগুলো চ্যানেল নতুন নির্ধারিত সীমার নিচে রয়েছে, সে সংখ্যা জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি।

ছোট নির্মাতাদের জন্য বিকল্প সুবিধা
কঠিন শর্তের পাশাপাশি ছোট নির্মাতাদের জন্যও কিছু সুবিধার কথা ভাবছে ইউটিউব। ইউটিউব শপিং, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করা এবং জনপ্রিয় নতুন ধারা তৈরির জন্য অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এসব সুবিধার অর্থের পরিমাণ ও বিস্তারিত নিয়ম এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

can অন্যদিকে, কম স্তরের মনিটাইজেশনের শর্তে কোনো পরিবর্তন আসছে না। ৫০০ গ্রাহক, ৯০ দিনে অন্তত তিনটি প্রকাশিত ভিডিও এবং ৩ হাজার ঘণ্টা ভিডিও দেখার সময় বা ৩০ লাখ শর্টস ভিউ থাকলে নির্মাতারা এই কর্মসূচির প্রাথমিক স্তরে যুক্ত হতে পারবেন। তবে এই প্রাথমিক স্তরে বিজ্ঞাপন বা ইউটিউব প্রিমিয়াম থেকে সরাসরি আয় করা যায় না।

ইউটিউব প্রিমিয়াম লাইট
ইউটিউব প্রিমিয়াম লাইট নিয়েও নতুন পরিকল্পনা রয়েছে প্ল্যাটফর্মটির। যেসব দেশে ইউটিউব প্রিমিয়াম সচল আছে, সেসব দেশে পর্যায়ক্রমে প্রিমিয়াম লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে ইউটিউব। এই সেবার গ্রাহকদের সাবস্ক্রিপশন আয়ের একটি অংশ নির্মাতাদের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে।

ইউটিউব জানিয়েছে, প্রিমিয়াম লাইট থেকে পাওয়া নিট সাবস্ক্রিপশন আয়ের ৬০ শতাংশ নির্মাতাদের জন্য নির্ধারিত তহবিলে যাবে। পূর্ণ ইউটিউব প্রিমিয়ামের ক্ষেত্রে এই হার ৩০ শতাংশ। দর্শকেরা কোন নির্মাতার ভিডিও কতটা দেখছেন, তার ওপর ভিত্তি করে এই অর্থ বণ্টন করা হবে।

নতুন এই নিয়মে ইউটিউবের সামগ্রিক আয় ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। বিশেষ করে শর্টসনির্ভর নির্মাতাদের নিয়মিত ভিউ ধরে রাখার চাপ যেমন বাড়বে, তেমনি নতুন আয়ের পথ তৈরির প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছে প্ল্যাটফর্মটি। ফলে ২০২৭ সালটি ইউটিউব নির্মাতাদের জন্য একটি বড় পরীক্ষা ও গুরুত্বপূর্ণ বছর হতে যাচ্ছে।