মুরগি কাটার সময় অনেক সময় সেটির পেটে এক বা একাধিক ডিম পাওয়া যায়। কেউ এই ডিম সানন্দে রান্না করে খান, আবার অনেকে জীবাণু বা স্বাস্থ্যঝুঁকোর আশঙ্কায় ফেলে দেন ডাস্টবিনে। তবে সঠিক নিয়ম মেনে পেটের ডিম খাওয়া পুরোপুরি নিরাপদ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
কুমিল্লার ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. মেহেদী হাসান জানান, মুরগির পেট থেকে বের করার সময় যদি ডিমটি খোলস বা পাতলা আবরণের ভেতরে অক্ষত অবস্থায় থাকে, তবে তা খাওয়া যাবে। তবে বের করার সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, যাতে পেটের ভেতরের নাড়িভুঁড়ির বর্জ্য বা পিত্তথলির রস ডিমে না লাগে। যদি ডিম ফেটে যায় বা বর্জ্য দিয়ে দূষিত হয়ে দুর্গন্ধ বের হয়, তবে তা না খাওয়া ভালো।
ডিমটি রান্নার ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম মানতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, ডিম ধোয়ার প্রয়োজন নেই; খালি চোখে দৃশ্যমান ময়লা থাকলে টিস্যু দিয়ে মুছে নিতে হবে। ফ্রিজে না রেখে তখনই ভালোভাবে সেদ্ধ করে বা রান্না করে নেওয়া নিরাপদ। হালকা সেদ্ধ না করে কাটার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে যে ডিমের ভেতরটা পুরোপুরি জমাট বেঁধেছে। অপরিপক্ব বা কাঁচা থাকলে সালমোনেলা জাতীয় ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে, যা ফুড পয়েন্টনিংয়ের কারণ হতে পারে।
পুষ্টিগুণের বিচারেও এই ডিম বেশ কার্যকারী। এতে প্রচুর পরিমাণে আমিষ, প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড, আয়রন ও ভিটামিন বি১২ রয়েছে। তবে এ ডিমে উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল থাকায় যাদের রক্তে উচ্চ কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস বা হৃদ্রোগ রয়েছে, তাঁদের অতিরিক্ত কুসুম খাওয়া থেকে বিরত থাকা কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।