মঙ্গলবার , ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
খেলাধুলা

ফিফা আসিয়ান কাপ : ভালো খেলেও বিদায় বাংলাদেশের

Writer
নিজস্ব প্রতিবেদক
28 Sep, 2026 05:26 PM 5 বার পঠিত 1 মিনিট পড়ার সময়

ছবি: সংগৃহীত

লড়াই হলো সমানে সমান। মাঝমাঠে বল দখল আর আক্রমণ শানানোর চেষ্টায় খুব একটা পিছিয়ে ছিল না বাংলাদেশ। কিন্তু ফুটবল তো শুধু ভালো খেলার খেলা নয়, গোলেরও খেলা! আর ঠিক ওই জায়গাতেই পিছিয়ে পড়ল থমাস ডুলির দল। দারুণ খেলেও সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে ফিফা আসিয়ান কাপের শিরোপার দৌড় থেকে বিদায় নিল বাংলাদেশ।

সোমবার ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার গ্যালোরা বুংকার্নো স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধের ৩৫ মিনিটে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়া একমাত্র গোলটি করেন সিঙ্গাপুরের হ্যারিস স্টুয়ার্ট। টানা দুই হারে আসর থেকে ছিটকে গেল লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। প্রতিযোগিতার প্রিমিয়ার ডিভিশনের ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ।

অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার কাছে হারা সিঙ্গাপুর এই জয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে শিরোপার রেসে টিকে রইল। পয়েন্ট টেবিলে এখন রোমাঞ্চকর লড়াই; মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুর তিন দলেরই পয়েন্ট সমান ৩। গোল ব্যবধানে এগিয়ে শীর্ষে মালয়েশিয়া। আর টানা দুই হারে তলানিতে বাংলাদেশ।

ম্যাচের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে থাকে বাংলাদেশ। প্রথম ২৫ মিনিটে মাঝমাঠের লড়াইয়ে বেশ আধিপত্য ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু আক্রমণের শেষভাগে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলায় কাঙ্ক্ষিত সুযোগ তৈরি হয়নি। উল্টো ১৭ মিনিটে প্রতি-আক্রমণ থেকে বাংলাদেশের রক্ষণে ভয় ধরিয়েছিল সিঙ্গাপুর। ইলহান ফান্দির শট দারুণ দক্ষতায় রুখে দিয়ে দলকে রক্ষা করেন গোলকিপার মেহেদী হাসান শ্রাবণ।

বাংলাদেশের আসল ছন্দপতনটা হয় ৩০ মিনিটের কুলিং ব্রেকের পর। ৩২ মিনিটে হ্যারিস স্টুয়ার্টকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন জিদান ইউসুফ। সেই ফ্রি-কিক থেকে আসা জ্যাকব উইলিয়ামের হেড রুখে দেন শ্রাবণ, এরপর ফিরতি শট বিপদমুক্ত করেন ডিফেন্ডার তারিক কাজী।

কিন্তু তিন মিনিট পর আর শেষ রক্ষা হয়নি। বাঁ প্রান্ত দিয়ে নুর আদম আব্দুল্লাহর ক্রসে দারুণ হেডে সিঙ্গাপুরকে এগিয়ে দেন হ্যারিস স্টুয়ার্ট। খুব কাছ থেকে আসা বলটিতে গোলরক্ষক শ্রাবণের চেয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না।

বিরতির পর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই (৪৭ মিনিট) শাহ শাহিরানের দূরপাল্লার শট ঠেকিয়ে ব্যবধান বাড়তে দেননি শ্রাবণ। এরপরই আক্রমণে ধার বাড়াতে ৫৮ মিনিটে শেখ মোরসালিনকে তুলে মিনহাজুল করিম স্বাধীনকে মাঠে নামান কোচ ডুলি। ৬৪ মিনিটে সমতায় ফেরার দারুণ এক সুযোগও এসেছিল। ডান প্রান্ত দিয়ে সাদ উদ্দিনের ক্রসে লাফিয়ে হেড করেছিলেন সমিত সোম (যিনি ম্যাচের ৭ম মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেছিলেন), তবে বল চলে যায় ক্রসবারের সামান্য ওপর দিয়ে।

ম্যাচের ৭০ মিনিটে একসঙ্গে দুটি পরিবর্তন করে বাংলাদেশ। সমিত সোমের জায়গায় সোহেল রানা জুনিয়র ও শুকি ইতোফুসার জায়গায় মাঠে নামেন ইতালিপ্রবাসী ফাহামিদুল ইসলাম। ফাহামিদুল নামার পর বাংলাদেশের আক্রমণে রীতিমতো ধার বাড়ে। বেশ কয়েকটি ভালো আক্রমণ করে তারা। ৭৯ মিনিটে ফাহামিদুলের দারুণ এক ক্রস থেকে রাকিব হোসেনের হেড স্টুয়ার্টের গায়ে লেগে কর্নার হয়।

শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত আপ্রাণ লড়াই চালিয়ে গেলেও আর কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। দারুণ ফুটবল খেলেও তাই সিঙ্গাপুরের কাছে হারের পুরোনো হতাশা আর টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের কষ্ট নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে থমাস ডুলির শিষ্যদের।

ট্যাগ: খেলাধুলা