রবিবার , ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের আমন্ত্রণে ওয়াশিংটনে যাচ্ছেন শি জিনপিং

Writer
বাংলা পত্রিকা ডেস্ক
19 Sep, 2026 08:35 PM 2 বার পঠিত 1 মিনিট পড়ার সময়

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে আবারও মুখোমুখি হতে চলেছেন দুই পরাশক্তির শীর্ষ নেতা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এক দশকের বেশি সময় পর চীনা কোনো প্রেসিডেন্টের এই সফর ঘিরে ওয়াশিংটনে এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে ব্যাপক প্রস্তুতি। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাবেন শি, আর ২৪ তারিখ হোয়াইট হাউসে হবে বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্প-শি বৈঠক।

যুক্তরাষ্ট্রের জয়েস্ট বেস অ্যান্ড্রুজে শি জিনপিংয়ের উড়োজাহাজ যখন মাটি ছোঁবে, তখন তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে স্বাগত জানাতে সেখানে উপস্থিত থাকবেন খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস সূত্রে এমনটাই জানা গেছে। এরপর থাকবে জাঁকজমকপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনা ও নৈশভোজ। দুই শীর্ষ নেতার একান্ত বৈঠকের পাশাপাশি দুই দেশের পদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যেও চলবে দফায় দফায় বৈঠক।

কয়েক বছর ধরেই শুল্ক, প্রযুক্তি, সরবরাহব্যবস্থা ও বাজারে প্রবেশাধিকার নিয়ে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে একধরনের দৃশ্যমান টানাপোড়েন চলছে। আগামী নভেম্বরেই শেষ হচ্ছে বর্তমান শুল্ক-সমঝোতার মেয়াদ। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প-শি বৈঠকে বাণিজ্য সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখা এবং কিছু পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক কমানোর বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। বড় কোনো বিরোধ পুরোপুরি না মিটলেও, ভবিষ্যৎ সমঝোতার পথ খুঁজতে চাইবেন দুই নেতাই।

এবারের বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে যাচ্ছে ‘রেয়ার আর্থ’ বা বিরল খনিজ। বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি, মাইক্রোচিপ থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তির অপরিহার্য উপাদান এসব খনিজ। এর সরবরাহ ও রপ্তানিতে চীনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন চাইছে সরবরাহব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে, অন্যদিকে বেইজিংয়ের লক্ষ্য এই কৌশলগত সম্পদের ওপর নিজেদের একাধিপত্য ধরে রাখা।

পাশাপাশি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়েও হবে আরেক দফা স্নায়ুযুদ্ধ। শক্তিশালী এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ ও একটি বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামো বা সীমারেখা গড়ার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হতে পারে। এই শীর্ষ সফরের আগে নিউইয়র্কে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ও চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হে লিফেংয়ের একটি প্রাক-বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে বাণিজ্য, এআই ও বিরল খনিজ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

হোয়াইট হাউসের রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ পরিণত হতে পারে প্রযুক্তি বিশ্বের রথী-মহারথীদের মিলনমেলায়। গুঞ্জন রয়েছে, জেফ বেজোস, ইলন মাস্ক, সুন্দর পিচাই, স্যাম অল্টম্যান ও জেনসেন হুয়াংয়ের মতো প্রযুক্তি ও ব্যবসা খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে এই আয়োজনে।

এর বিপরীতে শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে চীনের বড় বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের একটি বিশাল প্রতিনিধিদল। বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি, ইলেকট্রনিকস ও ব্যাংকিং খাতের শীর্ষ কর্তারা থাকছেন এই দলে। সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, এই দলে এমন কিছু চীনা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যক্তিরাও রয়েছেন, যারা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বা জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধের আওতায় রয়েছেন! ফলে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের এই উপস্থিতিও আলাদা অর্থনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে।

বাণিজ্য আর প্রযুক্তির বাইরে ভূরাজনৈতিক উত্তাপও ছড়াবে এই বৈঠক। বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের অবস্থান ঠিক দুই মেরুতে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিরোধে এবার কোনো বরফ গলে কি না, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে আন্তর্জাতিক মহল। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি, জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির হালচালও থাকবে আলোচনার টেবিলে।

জাঁকজমকপূর্ণ রাষ্ট্রীয় আয়োজনের আড়ালে ২৪ সেপ্টেম্বরের ট্রাম্প-শি বৈঠকটি মূলত পরিণত হবে কঠিন এক দর-কষাকষির মঞ্চে। স্বার্থের সংঘাতে থাকা দুই মেরুর দুই নেতার এই বৈঠক থেকে শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতির জন্য চমকপ্রদ কোনো সমঝোতা বেরিয়ে আসে কি না, পুরো বিশ্বের নজর এখন সেদিকেই।

ট্যাগ: আন্তর্জাতিক