বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়ার উত্থান নিছক একজন রাজনৈতিক নেতার ক্ষমতার শীর্ষে আরোহণের গল্প নয়। এই জার্নি একই সঙ্গে এক নারীর ব্যক্তিগত জীবন থেকে জাতীয় জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসার গল্প, প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে নেতৃত্বের জায়গা তৈরি করার গল্প এবং বাংলাদেশের সমাজে নারীর রাজনৈতিক সক্ষমতা সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকে বদলে দেওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
আজ যখন আমরা তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনকে পেছন ফিরে দেখি, তখন একটি বিষয় বিশেষভাবে চোখে পড়ে তা হচ্ছে খালেদা জিয়া রাজনীতিতে এসেছিলেন প্রচলিত রাজনৈতিক পথ ধরে নয়। তিনি ছিলেন না ছাত্ররাজনীতির পরিচিত মুখ, ছিলেন না কোনো রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরাধিকারী হিসেবে সক্রিয় রাজনীতিতে বেড়ে ওঠা নেতা। একজন গৃহিণী হিসেবে দীর্ঘদিন তাঁর জীবন আবর্তিত হয়েছে পরিবার, সংসার ও সন্তানকে ঘিরে। কিন্তু ইতিহাস কখনো কখনো মানুষের জন্য এমন দায়িত্ব নির্ধারণ করে দেয়, যার জন্য সে আগে থেকে প্রস্তুত থাকে না। খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনটাই ঘটেছিল।
স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশের রাজনীতির যে কঠিন বাস্তবতা তৈরি হয়েছিল, সেখান থেকেই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। ব্যক্তিগত জীবনের গভীর শোককে পাশ কাটিয়ে তাঁকে সামনে আসতে হয়েছিল একটি রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া সংকটের মুখে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্বে তিনি যখন ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত হতে শুরু করেন, তখন তাঁর সামনে ছিল একদিকে দলের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন, অন্যদিকে সামরিক শাসনের কঠিন রাজনৈতিক পরিবেশ।
এই জায়গাতেই খালেদা জিয়ার জীবনকাহিনির প্রথম তাৎপর্য। তিনি রাজনীতিতে এসেছিলেন ক্ষমতার আকর্ষণে নয়, বরং পরিস্থিতির চাপে। কিন্তু পরিস্থিতির তৈরি সেই সুযোগকে নেতৃত্বে রূপান্তর করার জন্য যে দৃঢ়তা প্রয়োজন, সেটি তিনি দেখিয়েছিলেন।
আশির দশকের শুরুতে বাংলাদেশ ছিল সামরিক শাসনের অধীনে। ১৯৮২ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করার পর দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে নতুন সংকট তৈরি হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নানা বিধিনিষেধ, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা এবং ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার প্রবণতার বিরুদ্ধে ধীরে ধীরে রাজপথ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই রাজপথেই খালেদা জিয়াররাজনৈতিক পরিচয়ের প্রকৃত নির্মাণ।
তিনি শুধু বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেননি; বরং এরশাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেত্রী হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। সভা-সমাবেশ, মিছিল, হরতাল, গ্রেপ্তার একের পর এক রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে একজন গৃহিণীর পরিচয় ক্রমশ রূপ নেয় একজন আপসহীন রাজনৈতিক নেত্রীর পরিচয়ে।
এ সময়ের খালেদা জিয়াকে বুঝতে হলে বাংলাদেশের নারী সমাজের তৎকালীন বাস্তবতাও মনে রাখতে হয়। আজকের তুলনায় তখন নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ছিল অনেক বেশি সীমিত। রাজনীতির মাঠ ছিল মূলত পুরুষপ্রধান। এমন এক সময়ে একজন নারী নিয়মিত রাজপথে দাঁড়িয়ে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন যা নিছক দলীয় রাজনীতির ঘটনা ছিল না; এটি ছিল সামাজিক মনস্তত্ত্বে পরিবর্তনেরও একটি বার্তা।
১৯৯০ সালের গণআন্দোলন ছিল সেই রাজনৈতিক যাত্রার সবচেয়ে বড় বাঁক। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি, আওয়ামী লীগ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল নিজ নিজ অবস্থান থেকে সক্রিয় ছিল। শেষ পর্যন্ত প্রবল গণআন্দোলনের মুখে এরশাদ সরকারের পতন ঘটে। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে শুরু হয় নতুন অধ্যায়।
এরপর ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেই নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হলে খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একটি গৃহিণী থেকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে একজন নারীর এই উত্তরণ নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের এক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।
এই ঘটনাকে শুধু বিএনপির নির্বাচনী বিজয় হিসেবে দেখলে এর ঐতিহাসিক গুরুত্বের একটি বড় অংশ অনালোচিত থেকে যায়। কারণ, দক্ষিণ এশিয়ার সমাজে তখনও নারী নেতৃত্বকে ঘিরে নানা সংশয় ছিল। বাংলাদেশে একজন নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়া সেই সংশয়ের ওপর একটি শক্তিশালী আঘাত ছিল। তাঁর আগে নারীরা রাজনীতিতে ছিলেন, আন্দোলনে ছিলেন, সংসদেও ছিলেন; কিন্তু সরকারপ্রধানের পদে বসে রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ দায়িত্ব নেওয়া ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার ঘটনা।
খালেদা জিয়ার প্রথম সরকার বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সময়। ১৯৯১ সালের পর সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতি-কেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থার পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদকে কেন্দ্র করে সরকার পরিচালনার কাঠামো ফিরে আসে। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
এরপর ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক পরাজয় খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে পারেনি। তিনি বিরোধীদলীয় নেতার ভূমিকায় ফিরে যান। পরবর্তী পাঁচ বছর বিএনপিকে সংগঠিত করেন এবং ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে আবারও বিজয় অর্জন করেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের সরকার গঠিত হলে দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন তিনি।
একজন নারী হিসেবে তাঁর এই রাজনৈতিক স্থায়িত্ব ছিল লক্ষণীয়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেতৃত্ব ধরে রাখা সহজ নয়; বিশেষ করে একজন নারীর জন্য তো আরও নয়। কিন্তু খালেদা জিয়া দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে নিজের অবস্থান অটুট রাখেন। দলীয় রাজনীতির বাইরে তাঁর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তারও একটি বড় অংশ গড়ে ওঠে এই সময়েই।
কিন্তু খালেদা জিয়ার জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় শুরু হয় ক্ষমতার বাইরে যাওয়ার পর। ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক নেত্রী খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা দুজনকেই রাজনৈতিক ও আইনি চাপে পড়তে হয়। খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। কারাবন্দিত্ব, মামলা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে তাঁকে যেতে হয় কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে।
পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে বিএনপি বিরোধী দলে যায়। রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়। ২০১৪ সালের নির্বাচন বিএনপি বর্জন করে। এরপর ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দি হন। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে সরকারের নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত করে তাঁকে বাসায় থাকার সুযোগ দেওয়া হয়।
এই সময়ের খালেদা জিয়া ছিলেন আগের সেই রাজপথের নেত্রীর চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাস্তবতায়। বয়স, অসুস্থতা, কারাবন্দিত্ব এবং রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা তাঁকে শারীরিকভাবে দুর্বল করে ফেলেছিল। কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় মুছে যায়নি। বরং তাঁর অসুস্থতা ও কারাবন্দিত্ব বিএনপির রাজনীতির অন্যতম প্রধান আবেগের কেন্দ্রে পরিণত হয়।
এখানেই খালেদা জিয়ার জীবনের আরেকটি দিক সামনে আসে তা হচ্ছে সহনশীলতা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি পরাজয় দেখেছেন, ক্ষমতা হারিয়েছেন, আন্দোলন করেছেন, গ্রেপ্তার হয়েছেন, কারাগারে গেছেন, মামলা মোকাবিলা করেছেন এবং অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করেছেন। কিন্তু রাজনীতি থেকে পুরোপুরি সরে যাননি।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তাঁর জীবনে নতুন অধ্যায় আসে। দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা থেকে তিনি মুক্তির সুযোগ পান। তাঁর বিরুদ্ধে চলা বিভিন্ন মামলার ক্ষেত্রেও পরবর্তী সময়ে আদালতের সিদ্ধান্ত আসে। তবে তখন তাঁর শরীর ছিল ভীষণ দুর্বল। জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি চিকিৎসা নিয়েছেন দেশে ও বিদেশে। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি যুগের অবসান ঘটায়।
কিন্তু খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে বেশি সামনে আসে, সেটি হলো, তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার কী?
এই প্রশ্নের উত্তর শুধু নির্বাচনের ফলাফল, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর মেয়াদ কিংবা বিএনপির সাংগঠনিক শক্তির মধ্যে খুঁজলে তা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উত্তরাধিকার বাংলাদেশের নারী সমাজের জন্য।
খালেদা জিয়া এমন এক সময়ে রাজনীতির শীর্ষে উঠে এসেছিলেন, যখন নারীর জন্য ঘরের বাইরে নেতৃত্ব দেওয়ার সামাজিক সুযোগ আজকের মতো বিস্তৃত ছিল না। তিনি দেখিয়েছেন, একজন নারী শুধু পরিবারের দায়িত্ব পালন করেই জীবন শেষ করবেন- এ ধারণা সময়ের প্রয়োজনে ভেঙে যেতে পারে। একজন নারী চাইলে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রেও দাঁড়াতে পারেন, একটি রাজনৈতিক দলকে নেতৃত্ব দিতে পারেন এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে বসে দেশ পরিচালনা করতে পারেন।
এখানে খালেদা জিয়ার ‘গৃহিণী’ পরিচয়টি কোনো দুর্বলতার প্রতীক নয়; বরং তাঁর রাজনৈতিক উত্থানের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বৈপরীত্য। তিনি প্রমাণ করেছেন, সংসার ও রাষ্ট্র দুই জগতকে সমাজ যেভাবে আলাদা করে দেখে, ইতিহাস সব সময় সেই বিভাজন মানে না।
বাংলাদেশের লাখো নারী যাঁরা সংসার সামলান, সন্তান লালন-পালন করেন, পরিবারের দায়িত্ব পালন করেন, তাঁদের জন্য খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্থান ছিল একটি দৃশ্যমান বার্তা। সেই বার্তাটি হচ্ছে ঘরের পরিচয় একজন নারীর সম্ভাবনার শেষ পরিচয় নয়!
বেগম খালেদা জিয়ার জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তিনি রাজনীতিতে উত্তরাধিকার পেয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেই উত্তরাধিকারকে নিজের নেতৃত্বে রূপ দিতে হয়েছিল। জিয়াউর রহমানের স্ত্রী হওয়া তাঁকে বিএনপির রাজনীতিতে প্রবেশের দরজা খুলে দিয়েছিল; কিন্তু দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় দলটির নেতৃত্ব ধরে রাখা, রাজপথের আন্দোলন পরিচালনা করা এবং একাধিকবার নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করা কেবল পারিবারিক পরিচয়ের মাধ্যমে সম্ভব নয়।
এখানে তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক দক্ষতা, দৃঢ়তা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার বিষয়টি সামনে আসে।
কিন্তু ইতিহাসের কাজ কেবল প্রশংসা বা নিন্দা করা নয়; ইতিহাসের কাজ হলো সময়ের ভেতরে একজন মানুষের অবস্থানকে বুঝে নেওয়া। সেই জায়গা থেকে খালেদা জিয়াকে দেখলে দেখা যায়, তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অনিবার্য চরিত্র। তাঁর সঙ্গে একমত হওয়া বা না-হওয়া আলাদা প্রশ্ন; কিন্তু তাঁকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের গত চার দশকের রাজনীতিকে ব্যাখ্যা করা কঠিন।
আর নারী নেতৃত্বের ইতিহাসে তাঁর অবস্থান আরও সুস্পষ্ট। একজন নারী যখন প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন, তখন সেটি শুধু একটি ব্যক্তির বিজয় নয়, তার সঙ্গে একটি সমাজের মানসিকতারও পরিবর্তন ঘটে। পরবর্তী প্রজন্মের নারীরা তখন দেখতে পান, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদও তাঁদের নাগালের বাইরে নয়।
খালেদা জিয়ার জীবনকে কেবল বিএনপি বনাম আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের চশমা দিয়ে দেখলে তাঁর বৃহত্তর সামাজিক তাৎপর্যটি ধরা পড়ে না। তিনি ছিলেন এমন এক নারী, যিনি ব্যক্তিগত জীবনের গভীর সংকট থেকে উঠে এসে জাতীয় নেতৃত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ছিলেন এমন এক নেত্রী, যিনি রাজপথে আন্দোলন করেছেন, ক্ষমতায় গেছেন, ক্ষমতা হারিয়েছেন, আবার ক্ষমতায় ফিরেছেন। তিনি কারাগারে গেছেন, মামলা মোকাবিলা করেছেন এবং জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিক থেকেছেন।
তাঁর জীবন তাই সাফল্যের যেমন গল্প, তেমনি সংগ্রামেরও গল্প। এটি ক্ষমতার গল্প, আবার ক্ষমতার বাইরে থাকার গল্পও। এটি রাজনৈতিক বিজয়ের গল্প, আবার রাজনৈতিক পরাজয় থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প।
সবশেষে খালেদা জিয়ার জীবনকে যে জায়গায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন, সেটি হলো তিনি বাংলাদেশের নারীকে নেতৃত্বের একটি দৃশ্যমান প্রতীক দিয়েছিলেন।
একজন সাধারণ গৃহিণী থেকে তিনি হয়ে উঠেছিলেন একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের চেয়ারপারসন। রাজপথের আন্দোলনের নেত্রী থেকে তিনি হয়েছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্র থেকে কারাগার, জীবনের নানা প্রান্ত তাঁকে অতিক্রম করতে হয়েছে। কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় কখনো পুরোপুরি মুছে যায়নি।
সবকিছুর পরেও একটি সত্য আলাদা করে দাঁড়িয়ে থাকবে তা হচ্ছে বাংলাদেশের নারী নেতৃত্বের ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া একটি অনিবার্য নাম।
তিনি হয়তো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্মরণীয় হবেন না। বরং তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন সেই নারী হিসেবে, যিনি প্রমাণ করেছিলেন একজন গৃহিণীর জীবনও একদিন জাতীয় ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিতে পারে। আর এখানেই খালেদা জিয়ার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।
নারী শুধু ঘর সামলাবেন, এটি সমাজের একটি প্রচলিত ধারণা হতে পারে; কিন্তু ইতিহাসের শেষ কথা নয়। নারী চাইলে ঘর থেকে বেরিয়ে দেশও নেতৃত্ব দিতে পারেন। বেগম খালেদা জিয়ার জীবন সেই সম্ভাবনারই এক দীর্ঘ, কঠিন এবং ঐতিহাসিক দলিল।
লেখক : মো. রুহুল আমিন,
কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি, জাতীয়তাবাদী প্রচার দল