দীর্ঘ সাড়ে ১৬ বছর বন্ধ থাকার পর দেশের পুঁজিবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্তির (ডাইরেক্ট লিস্টিং) পথ আবারও উন্মুক্ত হলো। ২০১০ সালে জারি করা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
সোমবার (৫ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। এর মাধ্যমে ২০১০ সালের ১ ফেব্রুয়ারির নিষেধাজ্ঞাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হলো।
উপসচিব মো. মামুনুর রশীদ স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সরকারি, বেসরকারি, বহুজাতিক ও বড় দেশীয় কোম্পানিগুলো প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও (IPO) ছাড়াই সরাসরি স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।
এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর বিএসইসির ১ হাজার ২৭তম কমিশন সভায় ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে সিকিউরিটিজের সরাসরি তালিকাভুক্তি) বিধিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়।
খসড়া বিধিমালা অনুযায়ী, সম্পূর্ণ বা ন্যূনতম ৫১ শতাংশ সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি, বহুজাতিক কোম্পানি এবং সরকারের অন্তত ১০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠান সরাসরি তালিকাভুক্ত হতে পারবে। এ ছাড়া ন্যূনতম ৩০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের বিটিআরসি লাইসেন্সপ্রাপ্ত টেলিকম ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকা বার্ষিক লেনদেন বা সমপরিমাণ সম্পদ থাকা বৃহৎ দেশীয় কোম্পানিগুলোও এই সুবিধার আওতায় আসবে। অন্তত তিন বছর লাভজনকভাবে পরিচালিত ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকেও এ সুযোগ দেওয়া হবে।
তবে সরাসরি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে আর্থিক সক্ষমতার কড়া শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। সুযোগ পেতে যাওয়া কোম্পানির কোনো পুঞ্জীভূত লোকসান থাকা চলবে না। পাশাপাশি বিগত দুই অর্থবছরে নিট মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি ইতিবাচক নগদ প্রবাহ (ক্যাশ ফ্লো) থাকতে হবে। যোগ্য কোম্পানিগুলো তাদের বিদ্যমান শেয়ারের ১০ থেকে ২০ শতাংশ বাজারে ছাড়ার অনুমতি পাবে।
দেশে ২০০৬ সালে প্রথম সরাসরি তালিকাভুক্তির নিয়ম চালু হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে সরকারি-বেসরকারি বেশ কিছু কোম্পানি এই পথে পুঁজিবাজারে আসে। তবে ২০১০ সালের শেয়ারবাজার ধসের সময় শেয়ারের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ও প্লেসমেন্ট বাণিজ্য নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ২০১০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সরাসরি তালিকাভুক্তি বন্ধ ঘোষণা করে।
অতীতের অনিয়ম ও কারসাজি ঠেকাতে নতুন বিধিমালায় কড়া কিছু সুরক্ষাকবচ বা বিধিনিষেধ যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— রেফারেন্স মূল্যের চেয়ে অন্তত ২০ শতাংশ কমে ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণ করতে হবে। তালিকাভুক্তির প্রথম ৩০ মিনিট শুধু ক্রেতাদের দরপ্রস্তাব (বিডিং) দেওয়ার সুযোগ রাখা হবে। প্রথম দুই কার্যদিবসে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কেনা শেয়ার বিক্রি করতে পারবেন না। এ ছাড়া প্রথম পাঁচ দিনে একক আদেশে সর্বোচ্চ ১ হাজার শেয়ার লেনদেন করা যাবে এবং এক বছর পর্যন্ত উদ্যোক্তাদের নিজস্ব শেয়ার পুনঃক্রয় (বাই-ব্যাক) সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
