গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস ও দলীয়করণ বন্ধ না করা হলে আট দফা দাবি এক দফায় পরিণত হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এর দায় বর্তমান সরকারকেই নিতে হবে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টায় রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ঢাকা থেকে রংপুরমুখী লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে রংপুরের জনসভায় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে রায় দিলেও সরকার তা উপেক্ষা করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছে না।
তিনি আরও বলেন, "সংবিধান মেনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হয়নি। ৫০ শতাংশ ভোট নিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকার ৭০ শতাংশ মানুষের দাবি অগ্রাহ্য করছে। অবিলম্বে ৮ দফা দাবি ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা না হলে জনগণ এক দফার আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।"
তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, "তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ইতিপূর্বে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও চীন সফরের পর কোনো চুক্তি করা হয়নি। ভূ-রাজনৈতিক ভয়েই এ চুক্তি থেকে সরে আসা হয়েছে। নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমাদের পরাজিত করা না হলে আমরাই এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতাম।"
সমাবেশে সিরাজগঞ্জে লংমার্চে যোগ দিতে আসা নেতাকর্মীদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনের পর থেকে রাজনৈতিক কারণে রংপুর বিভাগের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্থবির করে রাখা হয়েছে। তিনি শেখ হাসিনাসহ বিচারহীনতায় থাকা আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকর করার দাবি জানান। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে সরকারের সমালোচনা করেন।
রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ এবং খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হকসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।