রবিবার , ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয়

আইফোনের লোভে স্কুলছাত্র অপ্রতিমকে পিটিয়ে হত্যা, তোশকের নিচে মিলল মুঠোফোন

Writer
বাংলা পত্রিকা ডেস্ক
20 Sep, 2026 03:14 PM 3 বার পঠিত 1 মিনিট পড়ার সময়

ছবি: সংগৃহীত

একটি আইফোনের জন্য প্রাণ দিতে হলো সপ্তম শ্রেণির স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে। মুঠোফোনটি দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে পরিচিতরাই। পরে ওই আইফোনটি উদ্ধার করা হয় হত্যাকাণ্ডে জড়িত একজনের বিছানার তোশকের নিচ থেকে।

আজ রোববার দুপুরে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের এসব তথ্য তুলে ধরেন।

নিহত ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার মা ড. নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। নিখোঁজের এক দিন পর গতকাল শনিবার বেলা একটার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরে সানন্দা এলাকার একটি পাহাড়ি স্থান থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনে নেমে পুলিশ প্রথমে সন্দেহভাজন হিসেবে তুহিন নামের একজনকে হেফাজতে নেয়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে মুখ খোলে এবং ফাহাদ নামের আরেকজনের কথা জানায়। পরে ফাহাদকে হেফাজতে নেওয়া হলে তার দেওয়া তথ্যে কামরুল নামের আরেকজনের সম্পৃক্ততার কথা জানা যায়। পরে তুহিনের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে তুহিনের ঘরের তোশকের নিচ থেকে অপ্রতিমের সেই আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।

হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা থেকেই অপ্রতিমকে মূলত সানন্দা এলাকার ওই পাহাড়ি স্থানে নিয়ে যায় ঘাতকেরা। সেখানে তুহিন তার কাছে ফোনটি দাবি করে। কিন্তু অপ্রতিম ফোন দিতে না চাইলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় সজোরে আঘাত করে তুহিনসহ অন্যরা। এতে তার মৃত্যু নিশ্চিত হলে আইফোনটি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তারা।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে বাসা থেকে হেঁটে বের হয় অপ্রতিম। এরপর সে আর ফিরে আসেনি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর শনিবার তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আজ রোববার সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ প্রাঙ্গণে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বেলা ১১টায় গন্ধমতি ঈদগাহ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে বাড়ির কাছেই গন্ধমতি কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। অপ্রতিমের পৈতৃক নিবাস কুষ্টিয়ায় এবং নানাবাড়ি চাঁদপুরে হলেও পরিবারের ইচ্ছায় তার জন্ম ও বেড়ে ওঠার স্মৃতিবিজড়িত গন্ধমতির বাড়ির পাশেই তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে।

এদিকে, শিক্ষক-পুত্রের এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ কোটবাড়ী বিশ্বরোড এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, কুমিল্লা শহরে এখন আর কোনো মানুষই নিরাপদ নয়। অবিলম্বে ঘাতকদের ফাঁসির পাশাপাশি শহরবাসীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান তাঁরা। অবরোধের কারণে ওই এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

ট্যাগ: জাতীয়