জুলাই অভ্যুত্থান দমন করতে নির্যাতন, ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনার অভিযোগে আনা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে বিচার বিভাগীয় ওয়েবসাইটে ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। এ রায়ের সাজা অপর্যাপ্ত উল্লেখ করে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আপিল করার কথা জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
এর আগে গত ৫ জুলাই বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন—বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মামলার আসামি ইনুর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন মোট আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছিল। এর মধ্যে তিনটি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং বাকি পাঁচটি অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
রায়ে ৩ নম্বর অভিযোগে রাজনৈতিক নিপীড়ন, নির্যাতন ও আহত করার দায়ে ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া ৬ নম্বর ও ৭ নম্বর অভিযোগে অপরাধের ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও দুষ্কর্মে সংযোগের দায়ে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অপরাধের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ থেকে আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, আসামির ওপর আরোপিত সব সাজা একযোগে (যুগপৎ) চলবে। ফলে ইনুকে সব মিলিয়ে ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী, এ রায়ের বিরুদ্ধে এক মাসের মধ্যে আপিল বিভাগে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
প্রসিকিউশনের তদন্ত দল ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ থেকে তদন্ত শুরু করে ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিল করে। পর্যায়ক্রমে অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ ও দীর্ঘ যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণা করলেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে ইনুকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মোট ৮৭টি মামলা চলমান রয়েছে।