পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে নির্দিষ্ট কোনো বাসস্ট্যান্ড নেই। ফলে বরগুনা-বাকেরগঞ্জ মহাসড়কের ওপরই এলোমেলোভাবে বাস দাঁড় করিয়ে রাখা হয় এবং যাত্রী ওঠানো-নামানো হয়। ব্যস্ত এই মহাসড়কে নিয়মিত সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। একই সঙ্গে পথচারী ও অন্যান্য হালকা যানবাহনকে চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এ ছাড়া যাত্রীছাউনি না থাকায় রোদ-বৃষ্টিতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দূরপাল্লার যাত্রীদের।
উপজেলার সুবিদখালী সরকারি ডিগ্রি কলেজসংলগ্ন হযরত ইয়ার উদ্দিন খলিফা (র.) সেতুর পশ্চিম পাশে মহাসড়কের চিত্র এটি।
সরজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের ওপরই বাস ঘুরানো হচ্ছে এবং বহু বাস সেখানে দীর্ঘ সময় পার্ক করে রাখা হচ্ছে। এসব বাসের পাশাপাশি টেম্পো, ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশাও সড়ক দখল করে যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছে। এতে পুরো এলাকায় যানবাহন চলাচলে ধীরগতি তৈরি হয় এবং বাসের ফাঁক গলে চরম ঝুঁকি নিয়ে পথচারীরা সড়ক পারাপার হন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সুবিদখালী এলাকা দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন প্রান্তের হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। ব্যস্ত সময়ে একই স্থানে একাধিক বাস ও গণপরিবহন দাঁড়িয়ে গেলে যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও দূরপাল্লার যাত্রীরা।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহীন ফরাজি বলেন, ‘সড়কের ওপর বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানোর কারণেই এখানে তীব্র যানজট তৈরি হয়। এলাকাটিতে দ্রুত একটি নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ড গড়ে তোলা প্রয়োজন।’
বাসের জন্য অপেক্ষা করা একাধিক যাত্রী জানান, নির্দিষ্ট স্থান ও যাত্রীছাউনি না থাকায় খোলা আকাশের নিচেই দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। রোদ বা বৃষ্টি এলে আশ্রয়ের জায়গা থাকে না। মালামাল নিয়ে অপেক্ষা করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. নাসির হাওলাদার বলেন, ‘প্রধান সড়কের ওপর বাস দাঁড় করিয়ে রাখায় যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার বড় আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া বিকট হর্নের শব্দে অতিষ্ঠ হতে হয়।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো. রাসেল বলেন, ‘নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ড না থাকায় মহাসড়কে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামার বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব।’
জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনা এড়াতে মহাসড়ক থেকে বাস সরানো এবং দ্রুত একটি সুনির্দিষ্ট ও নিরাপদ বাসস্ট্যান্ড স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।