মঙ্গলবার , ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয়

'সাইবার সুরক্ষা আইন কোনোভাবেই দমনমূলক হতে দেওয়া হবে না'

Writer
বাংলা পত্রিকা ডেস্ক
28 Sep, 2026 07:27 PM 2 বার পঠিত 1 মিনিট পড়ার সময়

ছবি: সংগৃহীত

প্রস্তাবিত 'সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬' কোনোভাবেই দমনমূলক আইনে পরিণত হতে দেওয়া হবে না এবং এই আইনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের হয়রানি করা হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি জানান, আইনের অপব্যবহার থেকে সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া হবে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬'-এর খসড়া নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ সভা শেষে ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আইটি বিশেষজ্ঞ, গণমাধ্যম পেশাজীবী, মানবাধিকার সংস্থা এবং অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনার পরই সরকার বিলটি চূড়ান্ত করবে।

তিনি বলেন, "অধিকতর আলোচনার বিষয়ে মন্ত্রিসভার নির্দেশনার পর জনমত সংগ্রহের জন্য খসড়াটি ইতোমধ্যে সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষার্থী এবং সাইবার-স্পেস ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে অনেক মতামত পাওয়া গেছে, যা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।"

সভায় ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম প্রস্তাব করেন, আইনটি যেন সাংবাদিকদের ওপর বিরূপ প্রভাব না ফেলে এবং এতে ‘সেভিং ক্লজ’ (সুরক্ষা বিধান)-সহ যথাযথ সুরক্ষাকবচ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সে লক্ষ্যে গণমাধ্যম ও সাইবার-নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আরও পর্যালোচনার আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী জানান, সরকার এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া বা তাঁকে গ্রেপ্তারের আগে আদালতের পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব সভায় আলোচনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা ১৫ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ জমা দেওয়ার পর খসড়ায় বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা বিবেচনা করা হবে।

একই সঙ্গে মামলা ও আপিল নিষ্পত্তির জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে যেন মানুষকে অনির্দিষ্টকাল আইনি প্রক্রিয়ায় আটকে থাকতে না হয়।

পরামর্শ প্রক্রিয়া সমন্বয়ের জন্য প্রধান তথ্য কর্মকর্তাকে (পিআইও) ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এটি তদারকি করবে।

পরবর্তী ধাপে গণমাধ্যম প্রতিনিধি ও সাইবার বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন এবং তাঁদের সাত থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

সুপারিশ পর্যালোচনার পর সংশোধিত খসড়াটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের আগে আবারও সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী। এর পর খসড়াটি আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যাবে এবং অনুমোদিত হলে সংসদে উত্থাপন করা হবে।

সরকার তাড়াহুড়ো করে সংসদে আইন পাস করাবে না উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চূড়ান্ত করার আগে সংসদীয় আলোচনার পাশাপাশি সংসদের বাইরে বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামে উঠে আসা মতামতও বিবেচনা করা হবে।

প্রস্তাবিত এই আইনের প্রধান লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারিবারিক মূল্যবোধ ও স্থানীয় সংস্কৃতি সমুন্নত রাখা। একই সঙ্গে দেশ ও নাগরিকদের, বিশেষ করে তরুণদের সাইবার অপরাধ থেকে সুরক্ষার জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ আইনি কাঠামো তৈরি করা।

ট্যাগ: জাতীয়