চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া সব পরীক্ষার্থীই অনুত্তীর্ণ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার ‘শূন্য পাস’ করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বছরের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা দুটোই কমেছে।
সকালে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা শিক্ষামন্ত্রীর কাছে ফলাফলের পরিসংখ্যান হস্তান্তর করেন।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে এমন শূন্য পাসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল ১৩৪টি। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে শূন্য পাসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেড়েছে ১৭৮টি, যা শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শতভাগ ফেল করা ৩১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশটি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের। এই বোর্ডের অধীনে থাকা ২২৬টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এছাড়া ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা ৫৭টি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা ২৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে এই তালিকায়।
সার্বিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার পাসের হার ও জিপিএ–৫ পাওয়ার সংখ্যা দুটোই গতবারের চেয়ে কমেছে। ২০২৫ সালে গড় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী। সেই তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশীয় পয়েন্ট এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিতে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল। এর মধ্যে সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি পরীক্ষায় ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষায় ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন।