ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি জোটের কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে তার ভয়াবহ জবাব দিতে প্রস্তুত বলে চরম হুশিয়ারি দিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। এর পাল্টাধাওয়া হিসেবে সরাসরি সৌদি আরবের অর্থনীতি, জ্বালানি ও পরিবহন খাতের অত্যন্ত সংবেদনশীল তিনটি প্রধান প্রাণকেন্দ্র ধূলিসাৎ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এক বিশেষ বার্তায় হুতিদের সামরিক কমান্ড স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—সানা আক্রান্ত হওয়া মাত্রই সৌদি আরবের দাম্মামে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি ‘আরামকো’র মূল কার্যালয়, রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রিয়াদেই অবস্থিত আরামকোর প্রধান শোধনাগারকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে বলেন, “বর্তমান বাস্তবতায় সৌদি আরবের প্রতিটি তেল ও কৌশলগত স্থাপনা আমাদের সামরিক বাহিনীর বৈধ লক্ষ্যবস্তু। যেকোনো সময় সেখানে হামলা চালানো হতে পারে।”
সম্ভাব্য এই প্রলয়ঙ্করী হামলার কথা মাথায় রেখে তিনি সৌদি তেল স্থাপনাগুলোতে কর্মরত সকল বিদেশি বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী, টেকনিশিয়ান ও সাধারণ শ্রমিকদের জীবন বাঁচাতে অবিলম্বে দায়িত্ব ছেড়ে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার চূড়ান্ত নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে যেসব বিমানবন্দর ও আকাশপথকে হুতিদের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা, সাধারণ যাত্রী ও কর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে হুতিদের এই নজিরবিহীন হুশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে চলমান উত্তেজনাকে এক ভয়াবহ রূপ দিয়েছে।
মূলত ঘটনার সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার সকালে, যখন সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হুতি-নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানার আল-সাবাহা এলাকায় অবস্থিত ‘ইয়েমেন পেট্রোলিয়াম কোম্পানি’র কেন্দ্রীয় স্টেশন এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিগগিরই সেখানে বড় ধরনের নিখুঁত সামরিক অভিযান চালানো হবে।
এরই তীব্র জবাবে তাৎক্ষণিক পাল্টা অবস্থান নেয় হুতিরা। তারা ঘোষণা দেয়, সৌদি বাহিনী যদি সানার ভূখণ্ডে আঘাত হানে, তবে দাম্মাম ও রিয়াদের ওই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্থাপনাতেও সমান তালে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থির মুহূর্তে দুই পক্ষের এমন অনমনীয় অবস্থান ও মুখোমুখি অবস্থান পুরো অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতিকে এক অনাকাঙ্ক্ষিত রক্তক্ষয়ী সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
