ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী জাতির প্রত্যাশা পূরণ ও 'জুলাই জাতীয় সনদ'-এর ঐতিহাসিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের প্রধান বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংশোধন প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণের উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে বিশেষ কমিটি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে ‘সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’র সপ্তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে অংশ নেন কমিটির অন্যতম সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নূরুল হক, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমীন এবং মাহমুদুল হক রুবেল।
বিশেষ এই বৈঠকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রাখা শিক্ষক সমাজের শীর্ষ প্রতিনিধি, বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবিধান বিশেষজ্ঞগণ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সংবিধানের আধুনিকায়ন, জুলাই সনদের পূর্ণ রূপায়ণ, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালীকরণ এবং সংবিধানের বিভিন্ন বিতর্কিত অনুচ্ছেদ বিলোপ ও সংশোধনে তাঁদের সুচিন্তিত ও লিখিত প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।
বৈঠকে সংবিধান সংশোধনের টেকসই ও কার্যকর পদ্ধতি নির্ধারণ, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার স্থায়ী পুনর্বাহাল, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা ও এখতিয়ার পুনর্নির্ধারণ, জনগণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা এবং রাষ্ট্রের সার্বিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জাতীয় সংসদে ‘উচ্চকক্ষ’ (Upper House) প্রবর্তন এবং সেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের স্থান দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতামতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করছে সরকার। আলোচকদের অনেকেই ইতোমধ্যে তাঁদের প্রস্তাবনা লিখিত আকারে জমা দিয়েছেন, বাকীদেরও আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে লিখিত প্রস্তাব সংসদীয় কমিটির কাছে জমা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বৈঠকে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে কমিটি একমত প্রকাশ করে জানায়, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে দল-মত নির্বিশেষে একটি জাতীয় সমঝোতা প্রয়োজন। তাই সংসদীয় কমিটির পরবর্তী কার্যক্রম ও নীতি নির্ধারণে বিরোধী দলের সক্রিয় অংশ নেওয়া জরুরি।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
