ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির যন্তর মন্তরে বড় ধরনের বিক্ষোভ সমাবেশের প্রস্তুতি নিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি)। আন্দোলন ঠেকাতে খোদ কেন্দ্রীয় সরকার পুরো নয়াদিল্লিকে প্রায় অবরুদ্ধ করে ফেলেছে।
বিক্ষোভ ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ২০ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। রাজধানীতে ট্রেন, মেট্রোসহ বিভিন্ন পরিবহন চলাচলে কড়া নিষেধাজ্ঞা ও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয়েছে ব্যারিকেড। এ ছাড়া বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারকে সতর্ক করা হচ্ছে।
আজ রাজপথের কোথাও যাতে কেউ প্রধান নির্বাচন কমিশনার ‘জ্ঞানেশ হটাও’ অভিযানে নামতে না পারেন, সে জন্য পুলিশ ও প্রশাসন ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে।
মাছি মারতে হাতুড়ি চালানো নরেন্দ্র মোদি সরকারের এমন কঠোর অবস্থান নিয়ে তীব্র অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। বিক্ষোভ ঠেকাতে সড়ক, মেট্রো ও ট্রেন চলাচল বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া হলেও শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপে তা সচল করা হয়।
গতকাল শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘মাছি মারতে হাতুড়ি চালানো যায় না।’ আন্দোলন রুখতে দিল্লি মেট্রোর বহু স্টেশন বন্ধ রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। টানা কয়েক ঘণ্টা রেলস্টেশনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখাও অযৌক্তিক। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এড়াতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।
এদিকে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দীপকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ঘোষণা অনুযায়ী, আজকের ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির। আন্দোলনে শরিক হতে ভারতে এসে ধ্রুবও এটিকে গণতন্ত্র বাঁচানোর লড়াই বলে উল্লেখ করেছেন।
২৪ ঘণ্টা ইন্টারনেট বন্ধ যন্তর মন্তর ঘিরে চার কিলোমিটার এলাকায় গতকাল শুক্রবার রাত ১০টা থেকে আজ রাত ১০টা পর্যন্ত ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, জনপথ ও কর্তব্যপথের চার কিলোমিটার এলাকার মধ্যে মোবাইল অপারেটরগুলোকে এই নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ।
মহাসমাবেশের অনুমতি না থাকায় আইন ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজীব চক, নয়াদিল্লি, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, প্যাটেল চক ও কাশ্মীরি গেটসহ দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার ফটক বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া আজ ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত বাইরে থেকে আসা আড়াই শটির বেশি ট্রেন ও লোকাল ট্রেনের চলাচল বাতিল করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, নানা জায়গা থেকে শিক্ষার্থীদের আটক করে ভ্যানে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে কী কারণে তাদের আটক করা হচ্ছে, সে বিষয়ে পুলিশ কিছু জানায়নি। টানা ধরপাকড় ও বাধা উপেক্ষা করেই আজ যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপক। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ভয় দেখিয়ে ভারতীয় যুবসমাজের আন্দোলন দমন করা যাবে না।
এদিকে ভোট চুরির অভিযোগে আন্দোলনের চতুর্থ দিনে সংসদ ভবন থেকে রাষ্ট্রপতি ভবন অভিমুখে মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া ব্লক। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। এর আগে গতকাল শুক্রবার রাতে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্মারকলিপি দিয়েছেন বিরোধী জোটের ১৬ দলের নেতারা।
