ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রা করেছেন দেশটির বিরোধী দলগুলোর নেতা-কর্মীরা। সোমবার বিকেলে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে এই পদযাত্রা শুরু হয়। তবে সুপ্রিম কোর্টের কাছাকাছি পৌঁছানোর আগেই পুলিশের বাধার মুখে পড়ে বিক্ষোভকারীরা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়, পদযাত্রা শুরুর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাহুল গান্ধী। সিইসির অপসারণের দাবিটিকে ‘ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে আলাদা কোনো আন্দোলন হচ্ছে না। এটি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। এরপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পালা। আমাদের থামানো যাবে না।’
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের চাপে পড়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচনী ব্যবস্থায় ব্যাপক অনিয়ম করেছেন।
দৈনিক ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি এই পদযাত্রায় অংশ নেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরা।
পদযাত্রাটি প্রায় দুই কিলোমিটার অগ্রসর হওয়ার পর সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রায় ৬০০ মিটার দূরে ভগবান দাস রোডে আটকে দেয় পুলিশ। তবে পুলিশের বাধার পরও বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে।
ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দায়ের করেছেন বিরোধীরা। এই পিটিশনে স্বাক্ষর করেছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা সৌগত রায়, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব ও রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) নেতা তেজস্বী প্রসাদ যাদব।
এর আগে গত শনিবার সিইসির পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সমাবেশের কর্মসূচি ছিল। ওই দিন দিল্লিজুড়ে কয়েক হাজার মানুষকে আটক করে পুলিশ। ব্যাপক ধরপাকড়ের এক দিন পরই কংগ্রেসের নেতৃত্বে এই পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হলো।
এদিকে, সিইসির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তরুণদের প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কড়াকড়ি আরোপের তীব্র সমালোচনা করেন দলটির নেতারা।
