Busimess

একটি সুন্দর বাসা মানেই তা আপনার জন্য আদর্শ বসবাসযোগ্য স্থান এমনটি ভাবা ভুল। দৃষ্টিনন্দন বাহ্যিক সাজসজ্জা বা বড় ড্রয়িং রুম সাময়িক ভালো লাগা তৈরি করলেও, দীর্ঘমেয়াদে প্রতিদিনের জীবনযাত্রাকে আরামদায়ক করতে প্রয়োজন একটি কার্যকর গাইডলাইন।
নতুন ফ্ল্যাট বা বাসা নির্বাচনের ক্ষেত্রে যেসব বিষয়ে কড়া নজর দেওয়া জরুরি, তা নিচে আলোচনা করা হলো।
বাসা খুঁজতে বের হওয়ার আগেই নিজের মৌলিক প্রয়োজনীয়তাগুলোর একটি স্পষ্ট তালিকা তৈরি করুন। কতটি বেডরুম, বাথরুম, বারান্দা বা পার্কিং প্রয়োজন, লিফট ও গ্যাস সংযোগ আবশ্যক কি না এবং সর্বোচ্চ কত টাকা ভাড়া দেওয়া সম্ভব তা আগেই নির্ধারণ করা উচিত। বাজেট ও চাহিদাকে তিনটি ভাগে সাজান: ‘অবশ্যই দরকার’, ‘থাকলে ভালো’ এবং ‘না থাকলেও চলবে’।

তাড়াহুড়ো না করা

প্রথম দেখাতেই কোনো বাসা পছন্দ হলে সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্ত বা বুকিং মানি দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। বাসাটির পাশাপাশি পুরো ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, লিফট, সিঁড়ি, ছাদ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জেনারেটর ও পানির সঠিক সরবরাহ নিশ্চিত করুন। মনে রাখবেন, আপনি শুধু একটি ফ্ল্যাট নয়, একটি নতুন পারিপার্শ্বিকতার অংশ হতে যাচ্ছেন।

দিন ও রাতের আলো-বাতাস দেখা

সম্ভব হলে কাঙ্ক্ষিত এলাকাটি দিনে অন্তত দুবার পর্যবেক্ষণ করুন। দুপুরে পরিদর্শন করলে বাসায় প্রাকৃতিক আলো-বাতাস চলাচলের সঠিক অবস্থা বোঝা যায়। অন্যদিকে, সন্ধ্যায় গেলে এলাকার নিরাপত্তা, যাতায়াত ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র, কোলাহল ও রাতের পরিবেশ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।


সুযোগ-সুবিধা যাচাই

বাড়িওয়ালার কথার পাশাপাশি বহিরাগত বা প্রতিবেশী ভাড়াটিয়াদের মাধ্যমে এলাকার আসল পরিস্থিতি জানুন। বিশেষ করে গ্যাস ও পানির সমস্যা, এলাকাভিত্তিক যানজটের মাত্রা এবং সার্ভিস চার্জ বা অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচের বিষয়টি আগেভাগে পরখ করে নেওয়া ভালো। গুগল ম্যাপে শুধু দূরত্ব না দেখে, কর্মদিবসের ব্যস্ত সময়ে যাতায়াতে কত সময় লাগে তা পরীক্ষা করুন।

অভ্যন্তরীণ সূক্ষ্ম বিষয় দেখা

বাসা দেখার সময় মোবাইলে প্রতিটি কক্ষ, বাথরুম, বারান্দা ও রান্নাঘরের ছবি বা ভিডিও তুলে রাখা সুবিধাজনক। নিজের আসবাবপত্রগুলো (বেড, আলমারি ইত্যাদি) বসানোর পর চলাচলের পর্যাপ্ত জায়গা থাকবে কি না, তা অনুমানের ওপর নির্ভর না করে ইঞ্চি ফিতা দিয়ে মেপে নিশ্চিত হওয়া উচিত। এছাড়া রান্নাঘরের প্রাত্যহিক ব্যবহারে সুবিধার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

চুক্তিপত্র সম্পাদন

সবকিছু চূড়ান্ত হলে অবশ্যই একটি স্পষ্ট লিখিত চুক্তিপত্র তৈরি করুন। চুক্তিপত্রে মাসিক ভাড়া, সার্ভিস চার্জ, জামানত (অ্যাডভান্স) ফেরত দেওয়ার নিয়মাবলী, নোটিশ পিরিয়ড এবং রিপেয়ারিং বা সংস্কার কাজের দায়িত্ব কার তা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।