সোমবার , ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বিধবাকে মারধর, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

Writer
প্রতিনিধি, মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী)
20 Sep, 2026 04:31 PM 30 বার পঠিত 1 মিনিট পড়ার সময়

ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে জমিজমা ও পারিবারিক পূর্ববিরোধের জেরে অঞ্জলি রানী দে (৬০) নামে এক বিধবা নারীকে মারধর ও তার মাথায় কাঠের বাটাম দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সুবিদখালী বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে মির্জাগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীর ছেলে উৎস কুমার দে (২৫)। অভিযুক্তরা হলেন মিঠু দে (৫৫), তার স্ত্রী মনিকা রানী দে এবং তাদের দুই ছেলে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে অঞ্জলি রানী বাড়ির পাশের শীতলা মন্দিরে পূজা দিয়ে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে আসামিরা তার পথরোধ করে চুলে ধরে মাটিতে ফেলে দেয় এবং লাঠি ও কাঠের বাটাম দিয়ে পিটিয়ে আহত করে।

অভিযোগকারী দাবি করেন, মারধরের সময় অঞ্জলি রানীর সঙ্গে থাকা প্রায় এক ভরি ওজনের একটি সোনার চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ছাড়া তাকে দীর্ঘদিন ধরে ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

ভুক্তভোগীর ছেলে উৎস কুমার বলেন, ‘মায়ের চিৎকার শুনে ছুটে গেলে আমাকে চেপে ধরা হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় মাকে উদ্ধার করে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। বর্তমানে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মনিকা রানী দে। তিনি পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, ‘অঞ্জলি রানীর সঙ্গে কেবল কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। একপর্যায়ে অঞ্জলি রানী ও তার ছেলে আমাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করেন। পরে আমিও হাসপাতালে চিকিৎসা নিই। ঘটনার সময় আমার স্বামী ও ছেলেরা উপস্থিত ছিলেন না। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

প্রধান অভিযুক্ত মিঠু দের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী অঞ্জলি রানী ও অভিযুক্ত মিঠু দে সম্পর্কে দেবর-ভাবি। জমিজমা নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান বাংলা পত্রিকাকে জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে এবং সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগ: সারাদেশ