রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি করেছে আটা ও ময়দা। মাসের ব্যবধানে খোলা এবং প্যাকেটজাত—উভয় ধরনের আটা-ময়দার দামই কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আটা-ময়দার এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে বেকারি শিল্পেও। অন্যদিকে টানা দেড় মাস ধরে চড়া দামে আটকে রয়েছে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের বাজার। উৎপাদন ঘাটতি ও সরবরাহের সংকটের অজুহাতে কমছে না মাছের দামও। তবে পুরো বাজারে একমাত্র সবজির দরই কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে প্রতি কেজি খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, যা এক মাস আগে ছিল ৪৫ টাকা। খোলা ময়দার কেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং প্যাকেটজাত ময়দার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায়। সরকারি সংস্থা টিসিবির তথ্যেও আটা-ময়দার দরবৃদ্ধির সত্যতা মিলেছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, পাইকারি ও ডিলার পর্যায়ে বস্তাপ্রতি দাম ৩০০ টাকার মতো বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারে এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে। কাঁচামালের দরবৃদ্ধির কারণে সম্প্রতি বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে তা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
আমিষের বাজারেও অস্বস্তি কাটেনি। বর্তমানে রাজধানীতে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি ডজন ফার্মের বাদামি ডিমের দাম ঠেকেছে ১৫০ টাকায়। খামারি ও বিক্রেতাদের মতে, টানা অতিবৃষ্টি, বন্যা ও গরমের কারণে অনেক খামারে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় দেড় মাস ধরে ডিম ও মুরগির বাজার চড়া। পাশাপাশি পাঙাশ, তেলাপিয়া ও রুইসহ সাধারণ মানুষের পাতে থাকা চাষের মাছের দামও বেশ চড়া।