শুক্রবার , ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ

স্কুলের রুটিতে মিলল সুই ও ব্লেড, অল্পের জন্য রক্ষা পেল দুই শিশু

Writer
বাংলা পত্রিকা ডেস্ক
11 Sep, 2026 11:28 AM 4 বার পঠিত 1 মিনিট পড়ার সময়

ছবি: সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের দেওয়া বনরুটির ভেতর মিলছে ধারালো সুই ও ব্লেড। উপজেলার রাজঘাট ইউনিয়নের দুটি ভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর রুটিতে এসব বিপজ্জনক বস্তু পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাজঘাট ইউনিয়নের কেজুরিছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী প্রীতি শুক্লবৈদ্য স্কুল থেকে দেওয়া বনরুটি বাড়িতে নিয়ে যায়। প্যাকেট খোলার পর রুটির মাঝখানে একটি পুরোনো ও একটি নতুন সুই দেখতে পায় সে।

প্রীতির বাবা কার্তিক শুক্লবৈদ্য বলেন, ‘কয়েক দিন আগে অন্য একটি স্কুলে রুটিতে ব্লেড পাওয়ার কথা শুনেছিলাম। তাই ছেলেমেয়েদের বলেছিলাম রুটি যেন ভেঙে পরীক্ষা করে খায়। বৃহস্পতিবার প্যাকেট খুলে রুটির ভেতর দুটি লম্বা সুই দেখতে পাই। শিশু না বুঝে রুটিটি খেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।’

আতঙ্ক প্রকাশ করে প্রীতির মা শোভারানী বলেন, ‘রুটির ভেতর এমন ধারালো বস্তু থাকাটা চরম উদ্বেগের। চোখে না পড়লে আজ হয়তো আমার মেয়েকে হারাতে হতো।’

এর মাত্র কয়েক দিন আগে গত সোমবার একই ইউনিয়নের টিপড়াছড়া চা-বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ইমনের বনরুটির ভেতরে একটি ধারালো ব্লেড পাওয়া যায়।

স্থানীয় চা–শ্রমিক রবি বোনার্জী জানান, প্রীতির রুটির প্যাকেট খোলার সময় তিনি সেখানেই উপস্থিত ছিলেন এবং নিজের চোখেই সুই দুটি দেখেছেন। পরে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য বৈশিষ্ট গোয়ালাকে জানানো হয়। বৈশিষ্ট গোয়ালা বলেন, ‘শিশুদের খাবারে এমন প্রাণঘাতী বস্তু পাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা স্কুলে গিয়ে শিক্ষকদের বিষয়টি দেখিয়েছি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানাতে বলেছি।’

কেজুরিছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুরেন্দ্র তাঁতী জানান, অভিভাবক ও ইউপি সদস্য স্কুলে এসে রুটির ভেতরে সুই থাকার বিষয়টি তাদের দেখিয়েছেন। পরে প্রধান শিক্ষক ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তা জানানো হয়। ছুটিতে থাকা প্রধান শিক্ষক রমা রানী দেব মুঠোফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে, টিপড়াছড়া বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুদন ব্যানার্জী বলেন, রুটিতে ব্লেড পাওয়ার অভিযোগটি তদন্তের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

খাবার সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইসলাম ট্রেডার্স। প্রতিষ্ঠানটির শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি আহমেদ বাবু এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, কেজুরিছড়া স্কুলে সুই পাওয়ার অভিযোগটি তাঁদের কেউ জানায়নি। আর টিপড়াছড়া স্কুলের ঘটনায় তদন্ত করে তাঁরা কোনো সত্যতা পাননি। রুটিন অনুযায়ী সব খাবার না দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো পদ বাদ গেলে তা শিক্ষা কার্যালয়কে জানানো হয়।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রুটিতে সুই ও ব্লেড পাওয়ার দুটি বিষয়ই প্রধান শিক্ষকেরা আমাকে জানিয়েছেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও ইউএনওকে বিষয়টি অবহিত করেছি। লিখিতভাবেও প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। বিষয়টির তদন্ত চলছে।’

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি আমি জেনেছি এবং তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শ্রীমঙ্গল উপজেলা ও পৌরসভার ১৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২২ হাজার শিক্ষার্থী স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতাভুক্ত। সপ্তাহে পাঁচ দিন বনরুটি, সেদ্ধ ডিম, দুধ, বিস্কুট ও কলা দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে শুরু থেকেই খাবার সরবরাহে অনিয়ম, ভাঙা ডিম, কাঁচা কলা এবং নির্ধারিত খাবার না দেওয়ার মতো নানা অভিযোগ করে আসছেন স্থানীয়রা।

ট্যাগ: সারাদেশ