বুধবার , ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
খেলাধুলা

‘সোনার ডিম পাড়া হাঁস’ হারাল আর্জেন্টিনা, আর্থিক সাম্রাজ্যে নামবে বড় ধস

Writer
বাংলা পত্রিকা ডেস্ক
01 Sep, 2026 04:31 PM 6 বার পঠিত 1 মিনিট পড়ার সময়

ছবি: সংগৃহীত

২১ বছরের এক অতিমানবীয় মহাকাব্যের ইতি ঘটল। আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলে দিলেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। আকাশি-সাদা জার্সিতে ২০৭টি ম্যাচ, ১২৫টি গোল, দুটি কোপা আমেরিকা আর সেই আরাধ্য বিশ্বকাপ শিরোপা সবই এখন ইতিহাসের অংশ। কিন্তু মেসির এই বিদায়ে আর্জেন্টিনা কি কেবল একজন ফুটবলারকে হারাল? উত্তরটা ‘না’। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মেসির প্রস্থানে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) এবং দেশটির ফুটবল অর্থনীতি যে বড় ধাক্কা খেল, তা কাটিয়ে ওঠা প্রায় অসম্ভব।


আন্তর্জাতিক ফুটবলে আর্জেন্টিনা দল এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ‘আকর্ষণ’, যার মূলে ছিলেন মেসি। ফুটবল বিপণন সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, মেসি দলে থাকলে আর্জেন্টিনা একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার জন্য আয়োজক দেশগুলোর কাছ থেকে ৫ থেকে ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৬০ থেকে ৮০ কোটি টাকা) ফি পেত। মেসির অবসরের পর এই আকাশচুম্বী ফি এখন অর্ধেকে নেমে আসবে। এএফএ-র জন্য এটি এক বিশাল বার্ষিক রাজস্ব ক্ষতি।


অ্যাডিডাস, কোকা-কোলা বা বিন্যান্সের মতো বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলো আর্জেন্টিনার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি করেছে মূলত মেসির ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’র কথা মাথায় রেখে। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে রানার্সআপ হওয়ার পরও মেসিকে কেন্দ্র করে যে বাণিজ্যিক জোয়ার ছিল, তার প্রস্থান সেই পালে বড় ধাক্কা দেবে। চুক্তির মেয়াদ শেষে নতুন স্পন্সররা এখন আর আগের মতো বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবে না। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ‘ব্র্যান্ড আর্জেন্টিনা’র বাণিজ্যিক মূল্য মেসির বিয়োগে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমে যেতে পারে।


গত দুই দশকে বিশ্বজুড়ে আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সির যে চাহিদা ছিল, তা ফুটবল ইতিহাসে বিরল। কাতার বিশ্বকাপের সময় মেসির জার্সির জোগান দিতে হিমশিম খেয়েছিল অ্যাডিডাস। প্রতি বছর জার্সি ও অন্যান্য মার্চেন্ডাইজ বিক্রি থেকে এএফএ যে বিপুল পরিমাণ রয়্যালটি পেত, মেসির বিদায়ে তাতে বড় ধরনের ধস নামবে। এখন থেকে ১০ নম্বর জার্সিটি অন্য কেউ পরলেও, ‘লিওনেল মেসি’ লেখা জার্সির সেই বিশ্বব্যাপী উন্মাদনা আর থাকবে না।


মেসি ছিলেন আর্জেন্টিনার অনানুষ্ঠানিক গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর। অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত আর্জেন্টিনার জন্য মেসি ছিলেন পর্যটন ও বৈশ্বিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার প্রধান হাতিয়ার। দক্ষিণ এশিয়া থেকে পূর্ব এশিয়া বিপুল সংখ্যক মানুষ আর্জেন্টিনার সমর্থক হয়েছিল কেবল মেসির জাদুতে। এই বিশাল ‘ফ্যানবেস’ হারিয়ে যাওয়ার অর্থ হলো দীর্ঘমেয়াদে দেশটির ফুটবলের সফট পাওয়ার এবং পরোক্ষ অর্থনৈতিক সুবিধা হারানো।


২০০৫ সালে অভিষেকের পর দীর্ঘ ২১ বছরে মেসি আর্জেন্টিনাকে দুহাত ভরে দিয়েছেন। ২০২২-এ লুসাইলের ট্রফি কিংবা ২০২৬-এর রানার্সআপ মেডেল মেসি আর্জেন্টিনাকে বিশ্ব ফুটবলের কেন্দ্রে রেখেছিলেন। তবে মাঠের সাফল্যের বাইরে তিনি ছিলেন এএফএ-র জন্য এক ‘সোনার ডিম পাড়া হাঁস’।


ফুটবল জাদুকর তার জাদুর ছড়ি তুলে রাখলেন ঠিকই, কিন্তু আর্জেন্টিনা ফুটবল যে আর্থিক এবং বাণিজ্যিক শূন্যতার গহ্বরে পড়ল, তা পূরণ করার মতো কোনো জাদুকর আপাতত দৃশ্যপটে নেই। মাঠের মেসিকে হয়তো মনে রাখবে ইতিহাস, কিন্তু মেসিহীন এএফএ-কে এখন লড়তে হবে এক কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে।

ট্যাগ: খেলাধুলা