বুধবার , ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয়

তারেক রহমানকে ট্রাম্পের চিঠি: ‘বোয়িং বাংলাদেশকে হতাশ করবে না’

Writer
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
01 Sep, 2026 07:40 PM 3 বার পঠিত 1 মিনিট পড়ার সময়

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, বোয়িং উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশকে হতাশ করবে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পাঠানো এক বিশেষ বার্তায় তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শিগগিরই সরাসরি সাক্ষাতের প্রত্যাশাও জানিয়েছেন ট্রাম্প।

আজ মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বার্তার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। বার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প উল্লেখ করেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেলেও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও দেশের জনগণের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এ সময় বাংলাদেশের জনগণের প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানান তিনি।

বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, বোয়িং বাংলাদেশকে হতাশ করবে না। এই চুক্তির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত মনোযোগের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি তিনি মনে রাখবেন।

এর আগে গত রবিবার রাতে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত এবং ভারতে দেশটির রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে জানান, নতুন চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের আরও উড়োজাহাজ কিনতে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ। তিনি এই চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে একটি ‘অভূতপূর্ব চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেন। বিশেষ দূতের এই তথ্য প্রকাশের এক দিন পরই মার্কিন প্রেসিডেন্টের চিঠি আসার বিষয়টি সামনে এল।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বোয়িং বিমান কেনা নিয়ে বিশেষ দূত সার্জিও গরের টুইট সম্পর্কে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির আজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভারসাম্য বজায় রাখছে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক রয়েছে, আবার বেইজিংয়ের সঙ্গেও সম্পর্ক সুদৃঢ়। আমরা আমাদের বৈদেশিক সম্পর্কে একটি চমৎকার ভারসাম্য বজায় রাখছি।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যেসব দেশের সঙ্গে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রয়েছে, তার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। আমরা তাদের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি করতে চাই।’

দেশের বিমান বহর সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, সরকার বাংলাদেশকে এশিয়ায় একটি ‘এভিয়েশন হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হতে হলে আমাদের আরও বেশি রুটে সেবা দিতে হবে। আর সেজন্য একটি বড় এয়ারক্রাফট ফ্লিট প্রয়োজন।’

উদাহরণ হিসেবে তিনি ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের কথা উল্লেখ করেন, যাদের বহরে ১৫০টিরও বেশি উড়োজাহাজ রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের আগামী ১০-১৫ বছরে অন্তত ৭০-৮০টি বা তারও বেশি উড়োজাহাজের চাহিদা রয়েছে।

বোয়িং নাকি এয়ারবাস-কোনটি বেছে নেওয়া হচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমরা বোয়িং বিমান কিনব।’

এই সিদ্ধান্ত কোনো বিদেশি চাপের মুখে নেওয়া হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘না, কোনো চাপের কারণে নয়। এটি সম্পূর্ণ আমাদের এভিয়েশন খাতের চাহিদা অনুযায়ী করা হচ্ছে। বর্তমানে আমাদের প্রয়োজনীয় সক্ষমতা নেই, যা না বাড়ালে আমরা নতুন রুট চালু করতে পারব না এবং ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়ব।’

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব ও যাত্রীসংখ্যা বাড়াতে হলে এয়ারক্রাফট কেনা ছাড়া বিকল্প নেই। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের রুটগুলোতে শক্তিশালী অবস্থান তৈরির লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ট্যাগ: জাতীয়