মেধার জোরে বিদেশের নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেলেও দারিদ্র্য যেন পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়েছিল নাটোরের ফাতেমা খানমের সামনে। চিকিৎসক হওয়ার আজন্ম লালিত সেই স্বপ্ন যখন অনিশ্চয়তার মুখে, ঠিক তখনই তাঁর পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারি আর্থিক সহায়তায় কাটল দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা; ফাতেমার স্বপ্ন এখন ডানা মেলছে চীনের পথে।
ফাতেমার মেডিকেল শিক্ষার পথ সুগম করতে এগিয়ে এসেছেন নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল। তাঁরই বিশেষ উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ফাতেমার জন্য ৫ লাখ টাকার অনুদান বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ফাতেমার হাতে এই অনুদানের চেক তুলে দেন তারেক রহমান।
নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার তমালতলা কাকফো গ্রামের মো. লাভলু খানের মেয়ে ফাতেমা। অভাবের সংসারে থেকেও পড়াশোনায় বরাবরই নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। জিগরী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এবং টাঙ্গাইলের মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান আদর্শ কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৬৭ অর্জন করেন। তাঁর এই অদম্য স্পৃহা শেষ পর্যন্ত তাঁকে চীনের একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ করে দেয়। কিন্তু বিদেশে যাওয়ার প্রাথমিক খরচ জোগানো তাঁর পরিবারের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
সহায়তা পাওয়ার পর আপ্লুত ফাতেমা বলেন, ‘মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পাওয়ার পরও অর্থের অভাবে যখন সবকিছু অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল, তখন এই সহযোগিতা আমার কাছে আশার আলো হয়ে এসেছে। আমি প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ।’ পড়াশোনা চালিয়ে যেতে ভবিষ্যতে আরও সাহায্যের প্রয়োজন হলে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এ বিষয়ে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, ‘ফাতেমার মতো মেধাবীরাই আগামীর সম্পদ। শুধু অর্থের অভাবে তাদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন থেমে যেতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী সব সময় মেধাবীদের মূল্যায়নে সচেষ্ট। এই সহায়তায় ফাতেমার চিকিৎসক হওয়ার পথ সহজ হলো।’ তিনি আশা করেন, ফাতেমা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে একদিন দেশের মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করবেন।
স্বপ্ন পূরণের পথে এই বাধা দূর হওয়ায় ফাতেমার পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে এখন আনন্দের জোয়ার বইছে। এখন কেবল বিমানে ওঠার অপেক্ষা; চিকিৎসক হয়ে ফেরার অদম্য ইচ্ছা নিয়ে চীনের পথে যাত্রা করতে প্রস্তুত ফাতেমা।