মাগুরার চাঞ্চল্যকর আট বছরের শিশু আছিয়া আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। আজ সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স ও আসামির আপিলের শুনানি শেষে এ রায় ঘোষণা করেন।
এই রায়ের ফলে বিচারিক আদালতের দেওয়া ফাঁসির আদেশই চূড়ান্তভাবে বহাল থাকল। আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক। দণ্ডিত আসামির পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার ওই শিশুটি গত বছরের মার্চের শুরুতে মাগুরা শহরে তার বড় বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। সেখানে ৬ মার্চ দুপুরে তাকে পাশবিক নির্যাতনের পর অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রথমে মাগুরা ও পরে ফরিদপুর এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজে নেওয়া হলেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। সেখানে ১৩ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
এই নৃশংস ঘটনা সে সময় দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ও ক্ষোভের জন্ম দেয়। দ্রুততম সময়ে বিচারের দাবিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও সমাবেশ করে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।
আছিয়া হত্যার বিচারপ্রক্রিয়া ছিল নজিরবিহীন দ্রুত। ঘটনার মাত্র এক মাসের মাথায় গত বছরের ১৩ এপ্রিল মামলার অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়ে মাত্র দুই মাস ১১ দিনের মাথায় ১৭ মে রায় ঘোষণা করেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান। ওই রায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ, তার ভাই রাতুল শেখ ও মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।
নিম্ন আদালতের সেই মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য নথি ডেথ রেফারেন্স আকারে হাইকোর্টে আসে এবং দণ্ডিত আসামি জেল আপিল করেন। গত ১১ আগস্ট থেকে হাইকোর্টে এ মামলার শুনানি শুরু হয়। আজ রায়ে আদালত হিটু শেখের সাজা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত দেন।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছে, এই রায় সমাজে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। অন্যদিকে, রায়ের অপেক্ষায় থাকা আছিয়ার মা আয়েশা খাতুন এর আগে জানিয়েছিলেন, তিনি প্রধান আসামির সর্বোচ্চ সাজার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। উচ্চ আদালতের এই রায়ে দীর্ঘ এক বছর পর তাঁর প্রতীক্ষার অবসান ঘটল।