বৃহস্পতিবার , ২৭ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক

নিষ্পত্তির পথে চীন-ভারত দ্বৈরথ : বেইজিংয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

Writer
26 Aug, 2026 12:40 PM 12 বার পঠিত 1 মিনিট পড়ার সময়

ছবি: সংগৃহীত

চীন ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বরফ গলাতে বেইজিংয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত চীন-ভারত সীমান্ত বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধিদের ২৫তম এই বৈঠকে দুই দেশই সীমান্ত এলাকায় শান্তি বজায় রাখা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

বৈঠকে চীনের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। অন্যদিকে ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত কুমার দোভাল। বেইজিংয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে সীমান্ত ইস্যুসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে দীর্ঘ ও খোলামেলা আলোচনা হয়।

বৈঠকে ওয়াং ই বলেন, চীন ও ভারত কেবল প্রতিবেশীই নয়, তারা বিশ্বের প্রধান দুটি উদীয়মান অর্থনীতির দেশ। দুই দেশের সম্পর্কের স্থিতিশীলতা শুধু এই অঞ্চলের জন্যই নয়, বরং গ্লোবাল সাউথ বা দক্ষিণ বিশ্বের দেশগুলোর জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও উল্লেখ করেন, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক সময়ের সাক্ষাৎ ও ঐকমত্যের ভিত্তিতেই দুই দেশ এগিয়ে যেতে চায়। ওয়াং ই সীমান্ত ইস্যুকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে রেখে সমাধানের আহ্বান জানান।

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত কুমার দোভাল বলেন, ভারত ও চীন দুটি প্রাচীন সভ্যতা এবং বিশাল অর্থনৈতিক শক্তির অধিকারী। তাই দুই দেশের একে অপরকে প্রতিযোগী হিসেবে না দেখে অংশীদার হিসেবে দেখা উচিত। তিনি বলেন, 'একটি স্থিতিশীল এবং দূরদর্শী সম্পর্ক দুই দেশের জনগণের পাশাপাশি এশিয়া ও পুরো বিশ্বের জন্য মঙ্গলজনক।' দোভাল আরও জানান, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কার্যকর করতে এবং অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর সমাধান খুঁজতে ভারত চীনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী।

বৈঠকে দুই পক্ষই ২০০৫ সালে গৃহীত সীমান্ত সংক্রান্ত রাজনৈতিক নির্দেশিকা অনুসরণ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় শান্তি বজায় রাখা এবং বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ আরও বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়।

আলোচনা শেষে জানানো হয়, চীন-ভারত সীমান্ত বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধিদের পরবর্তী ২৬তম বৈঠক ২০২৭ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত হবে।

২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় দুই দেশের সেনাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর থেকে চীন-ভারত সম্পর্কের যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছিল, এই বৈঠকের মাধ্যমে তা নিরসনে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: সিএমজি (চায়না মিডিয়া গ্রুপ)

ট্যাগ: আন্তর্জাতিক