Busimess

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আসন্ন সিরিজ নিয়ে জল্পনাকল্পনার শেষ নেই। তবে প্রস্তুতির শুরুটা হয়েছে চরম হতাশায়। প্রস্তুতি ম্যাচে অখ্যাত ক্যাম্পবেল টমসনের তোপে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস ও ৩৮ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। ২৫ রান দিয়ে ৮ উইকেট শিকার করে শান্তদের ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দিয়েছেন টমসন।

অথচ ২৩ বছর আগে চিত্রটা ছিল ভিন্ন। ২০০৩ সালের সেই সফরে টেস্ট সিরিজের আগে তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচের সব কটিতেই জিতেছিল বাংলাদেশ। যদিও মূল লড়াইয়ে সেই আত্মবিশ্বাস কোনো কাজে আসেনি; টেস্ট ও ওয়ানডে—উভয় সিরিজেই হোয়াইটওয়াশ হতে হয়েছিল। সেবার ডারউইনে প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১৩২ রান এবং কেয়ার্নসে দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ও ৯৮ রানে হেরেছিল খালেদ মাহমুদ সুজনের দল।

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সফরের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। এবারের স্কোয়াডে সেই আমলের কেউ না থাকলেও দলের সঙ্গে আছেন দুই সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল ও হাবিবুল বাশার। তবে খেলোয়াড় হিসেবে নয়, তাঁদের ভূমিকা এখন ভিন্ন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ব্যাটিং কোচ হিসেবে নিয়োগ পাওয়া আশরাফুল সামলাচ্ছেন ব্যাটারদের, আর হাবিবুল বাশার কাজ করছেন প্রধান নির্বাচক হিসেবে।

২০০৩ সালের সেই সফরে স্টিভ ওয়াহর গ্লাভস নিয়ে একটি মজার স্মৃতি আছে আশরাফুলের। প্রথম টেস্টে হারের পর অজি অধিনায়ক আশরাফুলকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, দ্বিতীয় টেস্টে হাফ সেঞ্চুরি করলে তাঁকে নিজের ব্যাটিং গ্লাভস উপহার দেবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, সেই টেস্টের দুই ইনিংসেই শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন আশরাফুল। অথচ প্রথম টেস্টে তিনি ২৩ ও ৭ রান করেছিলেন।

অন্যদিকে, সেই সফরে উজ্জ্বল ছিলেন ‘মিস্টার ফিফটি’খ্যাত হাবিবুল বাশার। প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৪ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। দ্বিতীয় টেস্টেও এক ইনিংসে ৪৬ ও অন্য ইনিংসে ২৫ রান করেন। এমনকি প্রস্তুতি ম্যাচেও সেঞ্চুরির খুব কাছ থেকে (৯৯ রান) ফিরেছিলেন তিনি।

২৩ বছর পর পরিস্থিতি বদলেছে। খেলোয়াড়ি জীবনের ব্যর্থতা ভুলে এবার নেপথ্য কারিগর হিসেবে আশরাফুল ও হাবিবুল বাশারের লক্ষ্য নাজমুল হোসেন শান্তর দলকে সাফল্য এনে দেওয়া। জিম্বাবুয়ে সিরিজে আশরাফুলের অধীনে ব্যাটাররা ভালো ছন্দে ছিল। এবার অস্ট্রেলিয়ার কঠিন কন্ডিশনে দুই অভিজ্ঞ সাবেক অধিনায়কের পরামর্শে দল কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।