আগস্ট ১৩, ২০২৬
Busimess

ডারউইনের মারারা ওভালের বাইশ গজে দীর্ঘ ২৩ বছর পর আবার টেস্ট ক্রিকেটে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। ২০০৩ সালের স্মৃতি মলিন হয়ে গেলেও দীর্ঘ এই অপেক্ষার পর আজ বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাওয়া প্রথম টেস্টকে ঘিরে উন্মুখ হয়ে আছে লাল-সবুজের দল। অতীতের ব্যর্থতা পেছনে ফেলে ডারউইনে এক নতুন শুরুর স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। ম্যাচের আগের দিন ট্রফি উন্মোচন ও সংবাদ সম্মেলনে এসে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর কণ্ঠেও ঝরল ইতিবাচক ক্রিকেটের সুর।

২০০৩ সালে তৎকালীন অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজনের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে দুটি টেস্টেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর আবার যখন একই প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হচ্ছে দল, তখন অবধারিতভাবেই সামনে আসছে সেই অতীত প্রসঙ্গ। তবে বাংলাদেশ অধিনায়ক স্পষ্ট করলেন, বদলে গেছে দল ও শক্তি। শান্ত বলেন, ‘বিসিবির প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনের সঙ্গে এটা নিয়েই কথা হচ্ছিল। ২৩ বছর আগের দল আর এখনকার দল মোটেও এক নয়। আমাদের এই তরুণ দলটির ওপর আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে।’ পাকিস্তানের মাটিতে ২-০ ব্যবধানে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয় এবং আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সাফল্যের আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে এবার অস্ট্রেলিয়ার কঠিন কন্ডিশন জয় করতে চায় বাংলাদেশ।

ডারউইনে প্রথমবারের মতো 'ড্রপ-ইন পিচ'-এ টেস্ট খেলতে নামবে বাংলাদেশ। এমন উইকেটে খেলার পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে এটিকে নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন শান্ত। পিচে ঘাসের ছোঁয়া থাকলেও এটি ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগের জন্যই সহায়ক হবে বলে আশা করছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের আগের দিনই তাদের শক্তিশালী চূড়ান্ত একাদশ ঘোষণা করে দিলেও, বাংলাদেশ শিবির চোটের কারণে একাদশ সাজানো নিয়ে কিছুটা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাস পুরোপুরি ফিট হয়ে ফেরায় বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপের গভীরতা বেড়েছে বলে জানান অধিনায়ক। অন্যদিকে, ইনজুরি কাটিয়ে শরিফুল ইসলাম ফিটনেস টেস্টে উতরে গেলেও দ্বিতীয় টেস্টেই তাঁর খেলার সম্ভাবনা বেশি। চোট থেকে ফেরা পেসার এবাদত হোসেনের ফর্ম নিয়ে আলোচনা থাকলেও তাঁর ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন শান্ত। ম্যাচের দিন সকালে উইকেট দেখেই চূড়ান্ত একাদশ ঠিক করা হবে বলে জানান তিনি।

সিরিজ শুরুর ঠিক আগে প্রস্তুতি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে সেই হতাশাজনক পারফরম্যান্সকে স্রেফ একটি ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে দেখছেন শান্ত। তাঁর মতে, প্রস্তুতি ম্যাচ আর মূল টেস্টের আবহ সম্পূর্ণ ভিন্ন। বেশ কিছুদিন আগে পৌঁছানোয় দল কন্ডিশনের সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়ে নিতে পেরেছে। লক্ষ্য এখন একটাই—সেশন বাই সেশন ধরে খেলে টানা পাঁচ দিন ইতিবাচক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলা।