আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বেলফাস্টে আফগানিস্তানের ৩ উইকেটের জয়টি শুধু রশিদ খানদেরই সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট এনে দেয়নি, স্বস্তি ফিরিয়েছে বাংলাদেশ শিবিরেও। সব শঙ্কা আর গাণিতিক হিসাব-নিকাশের অবসান ঘটিয়ে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়ে গেছে বাংলাদেশের। আইসিসি ওয়ানডে র্যাংকিংয়ের সুবিধাজনক অবস্থানে থাকায় কোনো ধরনের বাছাইপর্বের কঠিন পরীক্ষা ছাড়াই মূল আসরে খেলবেন নাজমুল হোসেন শান্তরা।
বিপরীতে কপাল পুড়েছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ক্যারিবীয়দের আবারও ওয়ানডে বিশ্বকাপের মূল পর্বে ওঠার জন্য খেলতে হবে বাছাইপর্বের ম্যাচ।
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওয়ানডে র্যাংকিংয়ের শীর্ষ আটটি দল সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে। তবে যৌথ আয়োজক হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের সরাসরি খেলা আগেই নিশ্চিত। যেহেতু দক্ষিণ আফ্রিকা বর্তমানে র্যাংকিংয়ের শীর্ষ আটের মধ্যেই অবস্থান করছে, তাই নিয়মানুযায়ী র্যাংকিংয়ের নবম স্থানে থাকা দলটিও সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট পাচ্ছে।
আপাতত সেই নিয়মের সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি বেলফাস্টে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে আফগানিস্তান সবার আগে নিজেদের সরাসরি কোয়ালিফাই নিশ্চিত করে। আফগানদের এই জয়ের পরপরই ওয়ানডে র্যাংকিংয়ের হিসাব কষে দেখা যায়, বাংলাদেশের সরাসরি খেলাও নিশ্চিত হয়ে গেছে। ক্রিকেটের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোর প্রতিবেদন অনুযায়ী ভারত, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের সঙ্গে সরাসরি বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান।
র্যাংকিংয়ের বর্তমান সমীকরণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ৩০ সেপ্টেম্বরের কাট-অফ তারিখের আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে ম্যাচ রয়েছে মাত্র দুটি। ভারতের বিপক্ষে সেই দুই ম্যাচে জয় পেলেও রেটিং পয়েন্টে বাংলাদেশকে টপকে যাওয়ার কোনো গাণিতিক সুযোগ ক্যারিবীয়দের নেই। ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টানা তৃতীয়বারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব খেলার তিক্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হচ্ছে। এর আগে ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপেও তারা মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি, যা ছিল দলটির ইতিহাসে প্রথম।
২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়া। তবে আইসিসির পূর্ণ সদস্য না হওয়ায় নামিবিয়া সরাসরি খেলার সুযোগ পাচ্ছে না; তাদের বাছাইপর্ব পেরিয়েই আসতে হবে। ১৪ দলের এই আসরে ১০টি দল সরাসরি খেলবে। বাকি ৪টি জায়গার জন্য ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় বাছাইপর্বে লড়াই করবে অন্য দলগুলো।
বাছাইপর্বের জটিল সমীকরণ এড়াতে পারায় এখন দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি নেওয়ার দারুণ সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা।