সান্ত্বনার জয়টাও পাওয়া হলো না বাংলাদেশের। শারজাহতে আফগানিস্তান ১২০ রান তুলতেই ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠার সমীকরণ থেকে ছিটকে গিয়েছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটের বড় হারে টুর্নামেন্ট থেকে শূন্য হাতেই বিদায় নিতে হলো নাজমুল হোসেন শান্তর দলকে।
শারজাহ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। ফাইনালে ওঠার অসম্ভব সমীকরণ মেলাতে রান তাড়ায় না গিয়ে আগে ব্যাটিং করাটাই হয়তো স্বস্তিকর মনে হয়েছিল। তবে ব্যাটারদের চরম ব্যর্থতায় সিদ্ধান্তটি শেষ পর্যন্ত কোনো কাজেই আসেনি। পারভেজ হোসেন ইমনের ৭০ রানের ওপর ভর করে ৪২তম ওভারে ১৬০ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।
১৬১ রানের মাঝারি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩৯ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে বসেছিল আফগানিস্তান। তৃতীয় ওভারের পঞ্চম বলে বিপজ্জনক রহমানউল্লাহ গুরবাজকে (৬) বোল্ড করেন তাসকিন আহমেদ। নিজের পরের ওভারে সেদিকউল্লাহ অটলকেও (৪) সাজঘরে ফেরত পাঠান এই পেসার।
শুরুর ধাক্কা সামলে বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেন ইব্রাহিম জাদরান ও রহমত শাহ। তৃতীয় উইকেটে দুজনে যোগ করেন গুরুত্বপূর্ণ ৫৬ রান। ইব্রাহিম আউট হলেও দলপতি রহমত শাহ অন্যপ্রান্তে অবিচল ছিলেন। মুস্তাফিজুর রহমানের বলে নাজমুল হোসেন শান্তর দুর্দান্ত ক্যাচে ইব্রাহিম ফিরলে উইকেটে আসেন হাশমতউল্লাহ শহীদি। এরপর ১১৯ রানের সমীকরণ পেরিয়ে আফগানদের ফাইনাল নিশ্চিত করার পাশাপাশি সহজেই জয়ও তুলে নেন এই দুজন।
অধিনায়ক রহমত শাহ ৬৬ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৪তম হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে শেষ পর্যন্ত ৬৭ রানে অপরাজিত থাকেন। সঙ্গ দেওয়া হাশমতউল্লাহ শহীদি করেন অপরাজিত ৩৬ রান। ৮৭ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখে অনায়াস জয়ে ফাইনালে জিম্বাবুয়ের সঙ্গী হয় আফগানিস্তান। বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন আহমেদ ২টি ও মুস্তাফিজুর রহমান ১টি উইকেট নেন।
এর আগে ব্যাটিংয়ে পুরো ম্যাচেই ছিল হাহাকার। চোটে পড়া নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাসের জায়গায় সুযোগ পাওয়া পারভেজ হোসেন ইমন আর সাইফ হাসান ছাড়া আর কেউ লড়াই চালাতে পারেননি। ইমনের ৯৬ বলে ৭০ (৫ চার, ২ ছক্কা) ও সাইফ হাসানের ৮২ বলে ৪১ রানের সুবাদেই দেড় শ পার করে দল। এই দুজন পঞ্চম উইকেটে গড়েন ৯৩ রানের জুটি। এর বাইরে নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ১৫ রান। দলের চার ব্যাটার খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফেরেন।
আফগানদের হয়ে স্পিন জাদুতে ১৮ রানে ৪ উইকেট নেন লেগস্পিন তারকা রশিদ খান। এ ছাড়া ইয়ামিন আহমদজাই ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই শিকার করেন ২টি করে উইকেট।
