সৌদি আরবের কয়েকটি বিমানবন্দরে হামলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে দেশের প্রধান আকাশপথের প্রবেশদ্বার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ঢাকা থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামগামী ফ্লাইট স্থগিত ও বাতিল করায় চার দিনে বিমানবন্দরে বিপাকে পড়েছেন ১৩ হাজারেরও বেশি যাত্রী। তবে কর্তৃপক্ষের নানা পদক্ষেপ এবং যাত্রীরা বাড়ি ফিরে যাওয়ায় বিমানবন্দরের উপচে পড়া ভিড় সাময়িকভাবে কমে এসেছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানায়, গত শনিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত চার দিনে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ৮৩টি ফ্লাইট স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা থেকে সৌদিতে সরাসরি চলাচলকারী ৩২টি এবং ট্রানজিট ৫০টি ফ্লাইট রয়েছে। জাতীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ ও দাম্মামের সব ফ্লাইট স্থগিত ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ২১ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের সৌদিগামী ফ্লাইট বাতিল করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে আন্তর্জাতিক রুটে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৩০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। এর মধ্যে কেবল সৌদির বিভিন্ন রুটেই যাতায়াত করেন ৪ থেকে ৫ হাজার যাত্রী। যাত্রীদের সঙ্গে দ্বিগুণ স্বজন আসার কারণে টার্মিনালে সবসময় ভিড় লেগে থাকে। তবে রিয়াদ ও দাম্মামে ফ্লাইট বন্ধ থাকায় গত দুই দিনে সেই ভিড় অনেকটাই কমে এসেছে।
ভোগান্তি কমাতে ও পরিস্থিতি সামাল দিতে শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীম সামাদ এয়ারলাইন্সগুলোকে বিশেষ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এয়ারলাইন্সগুলোকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে—ফ্লাইট বাতিল, বিলম্ব বা সময়সূচির পরিবর্তন সম্পর্কে যাত্রীদের মোবাইল ফোনে এসএমএস, ফোনকল, ইমেইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে হবে। নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের বিমানবন্দরে আসতে নিষেধ করা হয়েছে।
পাশাপাশি বিমানবন্দরে আগেই উপস্থিত হওয়া যাত্রীদের বসার ব্যবস্থা, পানীয় জল ও হালকা খাবার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে প্রবীণ, শিশু ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের প্রতি বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে। ভিসা ও অভিবাসন-সংক্রান্ত সহায়তার জন্য সৌদি দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থায় যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি সব এয়ারলাইন্সকে একজন করে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি নিয়োগ করতে বলা হয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এক বার্তায় জানিয়েছে, স্থগিত থাকা ফ্লাইটগুলোর সময়সূচি পরিস্থিতি অনুযায়ী জানানো হবে। তবে জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দর ব্যবহার করে যাতায়াত করতে পারবেন।
