শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রহিমা ফুড করপোরেশনের শেয়ার নিয়ে কারসাজি ও আইন লঙ্ঘনের দায়ে দুই ব্যক্তিকে মোট ২০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তারা হলেন বিনিয়োগকারী মো. দেলোয়ার হোসেন ও রহিমা ফুডের ভ্যাট ইনচার্জ মো. সোলয়মান।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, পৃথক দুটি এনফোর্সমেন্ট আদেশের মাধ্যমে তাদের জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ ৩০ দিনের মধ্যে বিএসইসির অনুকূলে ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে জরিমানা পরিশোধ না করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বিশেষ তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ ব্যবস্থা নিয়েছে বিএসইসি। তদন্তে ২০২৫ সালের ১৫ জুন থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত রহিমা ফুডের শেয়ার লেনদেনে অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৬৮ টাকা ৯০ পয়সা থেকে বেড়ে ১৪১ টাকা ২০ পয়সায় ওঠে। অর্থাৎ শেয়ারটির দাম বেড়েছিল ১০৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
ডিএসইর তদন্তে দেখা যায়, বিনিয়োগকারী মো. দেলোয়ার হোসেন নিজের একাধিক বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার) হিসাব ব্যবহার করে ‘ওয়াশ ট্রেড’ বা কৃত্রিম লেনদেন করেন। এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ ও শেলটেক ব্রোকারেজে থাকা নিজের দুটি বিও হিসাবের মধ্যে তিনি শেয়ার কেনাবেচা করেন।
২০২৫ সালের ২৯ জুলাই এক হিসাব থেকে অন্য হিসাবে প্রতিটি ১৩৪ টাকা দরে রহিমা ফুডের ২ হাজার ৮৬টি শেয়ার লেনদেন করেন দেলোয়ার হোসেন। এতে শেয়ারের প্রকৃত মালিকানায় কোনো পরিবর্তন হয়নি। তবে এ লেনদেনের মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম চাহিদা তৈরির চেষ্টা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
বিএসইসি বলছে, এ ধরনের লেনদেন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর বিধানের লঙ্ঘন। শুনানিতে দেলোয়ার হোসেন লেনদেনটিকে প্রযুক্তিগত ভুল বলে দাবি করলেও কমিশন তাঁর বক্তব্য গ্রহণ করেনি।
অন্যদিকে রহিমা ফুডের ভ্যাট ইনচার্জ মো. সোলয়মান ও তার স্ত্রী নাজমা বেগম নিষিদ্ধ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার কেনাবেচা করেছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
বিএসইসির ‘সুবিধাভোগী ব্যবসা নিষিদ্ধকরণ বিধিমালা, ২০২২’ অনুযায়ী, অর্থবছর শেষ হওয়ার পর নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের আগপর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে বিধিনিষেধ থাকে।
তদন্তে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ১ মে থেকে ওই নিষিদ্ধ সময়ের মধ্যে সোলয়মান ও তার স্ত্রী রহিমা ফুডের ১২ হাজার ৪০৯টি শেয়ার কেনেন। একই সময়ে তারা ১০ হাজার ২৫৪টি শেয়ার বিক্রি করেন। এসব লেনদেন থেকে তাদের ২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা মুনাফা হয়।
শুনানিতে সোলয়মান এ–সংক্রান্ত আইনি বিধান সম্পর্কে জানতেন না বলে দাবি করলেও তা গ্রহণ করেনি বিএসইসি। পরে শেয়ার লেনদেনে আইন লঙ্ঘনের দায়ে তাকেও জরিমানা করা হয়।
