সোমবার , ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয়

দখল-চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা সরকারের জন্য ‘অশনিসংকেত’

Writer
নিজস্ব প্রতিবেদক
27 Sep, 2026 08:06 PM 4 বার পঠিত 1 মিনিট পড়ার সময়

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দখলবাজি, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতাকে সরকার ও ক্ষমতাসীনদের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে উল্লেখ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এসব ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের পাশাপাশি সারাদেশে দলীয় আত্মশুদ্ধি অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

রোববার (২ি৭ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে টিআইবি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কয়েকটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে। বিবৃতিতে বলা হয়, মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মধ্যরাতে পুলিশের উপস্থিতিতে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সহিংস লুটপাট, ভাঙচুর ও দখল, কিশোরগঞ্জের জলমহাল দখল নিয়ে স্থানীয় বিএনপির দ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত হওয়া এবং একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যম সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের এক সংসদ সদস্যের পৃষ্ঠপোষকতায় রাড্ডা এমসিএইচ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে লুটপাট, ভাঙচুর ও দখলের ঘটনা সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য একটি চরম বিব্রতকর দৃষ্টান্ত।

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান প্রশ্ন তোলেন, ‘জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের একজন সদস্যের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং পুলিশের উপস্থিতিতে শত শত মানুষের সামনে অর্ধশত বছর ধরে দরিদ্র, অসহায় মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে ক্ষমতাসীন দল কোন ধরনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে? রক্তক্ষয়ী জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে কর্তৃত্বপরায়ণ চোরতন্ত্রের পতনের পর ঐতিহাসিক জনরায়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত দলের নেতাকর্মীদের এ জাতীয় কর্মকাণ্ড দেশবাসীর কাছে কী বার্তা দিচ্ছে?’

তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ের কর্তৃত্ববাদী সরকারের স্বেচ্ছাচারী আচরণ জনগণের মানসপটে এখনো সতেজ। এ রকম একটি প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে ক্ষমতার অংশীদার ও নীতিনির্ধারকরা দলীয় নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশের চলমান দখলবাজি ও চাঁদাবাজির পরিণতি ভেবে দেখছেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকেই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে বিজয়ের দাবিদার হিসেবে দলটির নেতাকর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে সারাদেশে দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের ব্যাপক অভিযোগ ওঠে। রাজধানীসহ দেশের প্রধান প্রধান বাস টার্মিনাল, ফুটপাত, বাজার, জলমহাল, বালুমহাল, ক্যাবল ও ইন্টারনেট ব্যবসা এবং স্থানীয় পর্যায়ে চাঁদাবাজির হাতবদলকে কেন্দ্র করে নিজেদের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও অন্তর্ঘাত অনেক ক্ষেত্রে নির্লজ্জভাবে সহিংস রূপ ধারণ করছে।’

সরকারের একজন মন্ত্রীর পূর্ববর্তী এক মন্তব্যের সমালোচনা করে টিআইবি প্রধান বলেন, ‘সরকারের একজন মন্ত্রী যখন চাঁদাবাজিকে "সমঝোতার লেনদেন" বলে অভিহিত করেন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না, তখন চাঁদাবাজি ও দখলবাজি আরও স্বাভাবিকতা পায়। এটি সরকারের জন্য বড় ধরনের অশনিসংকেত।’

বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, সরকারি দল যদি তাদের দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে এখনই কার্যকর আত্মশুদ্ধিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তবে অদূর ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। ক্ষেত্রবিশেষে বহিষ্কারের মতো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে বিচারহীনতার সংস্কৃতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা পাচ্ছে, যার পূর্ণ দায়ভার শেষ পর্যন্ত সরকারকেই নিতে হবে।

অতএব, সংঘটিত প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানায় সংস্থাটি।

ট্যাগ: জাতীয়