শুক্রবার , ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ

চা শ্রমিকদের ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, ইউএনওর কাছে নালিশ

Writer
বাংলা পত্রিকা ডেস্ক
24 Sep, 2026 04:18 PM 5 বার পঠিত 1 মিনিট পড়ার সময়

ছবি: সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মাজদিহি চা-বাগানের ৩০ জন শ্রমিকের অভিযোগ, জনপ্রতি ৭ হাজার ৮০০ টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও গত ২০ আগস্ট ব্যাংক এশিয়ার প্রতিনিধিদের মাধ্যমে তাদের অর্ধেক বা তারও কম টাকা দেওয়া হয়েছে।

এই অনিয়মের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বাকি টাকা পরিশোধের দাবিতে বুধবার ভুক্তভোগী শ্রমিকেরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকার চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে যে ভাতা বরাদ্দ করেছে, তা ব্যাংক এশিয়ার শ্রীমঙ্গল শাখার মাধ্যমে বিতরণ করা হয়। গত ২০ আগস্ট ব্যাংকের প্রতিনিধিরা মাজদিহি চা-বাগানে গিয়ে এই ভাতা বিতরণ করেন। কিন্তু শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদের প্রাপ্য টাকার পুরো অঙ্ক না দিয়ে কাউকে ৩ হাজার, আবার কাউকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়েছে।

শ্রমিকদের অভিযোগ, ভাতা বিতরণের সময় ব্যাংক প্রতিনিধিরা কৌশলে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিতে টিপসই ও স্বাক্ষর নিয়ে নেন, তবে সেখানে ভাতার অঙ্ক উল্লেখ করেননি। টাকা কম পাওয়ার কারণ জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা শ্রমিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে ব্যাংক এশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্মী রাজু রায়, রাম কুমারী নুনিয়া ও সবিতা বাউরীর নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

মাজদিহি চা-বাগানের শ্রমিক সন্তুকি রায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকার আমাদের জন্য যে টাকা বরাদ্দ করেছে, তা নিয়ে ব্যাংক প্রতিনিধিরা অনিয়ম করছেন। আমরা অসহায় মানুষ, আমাদের ভাতার টাকা এভাবে আত্মসাৎ করা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার ও বকেয়া টাকা বুঝে পেতে চাই।’

বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সাবেক সভাপতি সাধন কর্মকার বলেন, ‘প্রায় দুই হাজার ভাতাভোগীর টাকা কেন এভাবে কম দেওয়া হলো, তার জবাবদিহি চাই। সরকারি সুবিধা থেকে শ্রমিকদের বঞ্চিত করার এ ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

এ বিষয়ে ব্যাংক এশিয়ার জেলা কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক তুহিন আহমদ ইয়ামির বলেন, তিনি বিষয়টি মৌখিকভাবে শুনেছেন। অভিযোগকারীদের সংখ্যার সঙ্গে তাদের তথ্যের গরমিল রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কার্যালয়ে আলোচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সোয়েব হোসেন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি তারা শুনেছেন। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তপূর্বক ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘শ্রমিকদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। সত্যতা যাচাইয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার মাজদিহি চা-বাগানে সরেজমিনে যাব। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সূত্র : বাংলা সংযোগ 

ট্যাগ: সারাদেশ