দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের অনুসন্ধান চলার মধ্যেই ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে মো. মোহাম্মদ আবু জাফরকে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ। এ জন্য তার নিয়োগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে।
ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের প্রস্তাব অনুযায়ী, আবু জাফরকে তিন বছরের জন্য এমডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে এবং তার মাসিক বেতন ১২ লাখ টাকা নির্ধারণের বিষয়েও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসাইন খান জানান, আবু জাফর সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়েছেন। তবে তার নিয়োগের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক।
আবু জাফর এর আগে প্রিমিয়ার ব্যাংকের এমডি থাকাকালে বিএফআইইউর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সাবেক চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবালের ফ্রিজ করা হিসাব থেকে ১ কোটি ১১ লাখ টাকা ও ৩০ হাজার ডলার উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগে চাকরিচ্যুত হন। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিং-সংক্রান্ত অনুসন্ধান করছে দুদক।
দুদকের মুখপাত্র আকতারুল ইসলাম বলেন, ‘অনুসন্ধান চলমান থাকা এবং চূড়ান্তভাবে দণ্ডিত হওয়া—দুটি আলাদা বিষয়। এমডি নিয়োগের বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের এখতিয়ার।’
এর আগে ২০১৩ সালে ন্যাশনাল ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন আবু জাফরের বিরুদ্ধে এফএমসি ডকইয়ার্ডকে ৪৬০ কোটি ও গ্র্যান্ড ট্রেডকে ২০০ কোটি টাকা নিয়মবহির্ভূত ঋণ অনুমোদনের অভিযোগ ওঠে। তবে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ পুনঃতদন্তে তাকে প্রধানত দায়ী নয় বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বর্তমানে তারল্য সংকটে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংকের এমডি পদটি গত জুলাইয়ে আদিল চৌধুরী পদত্যাগ করার পর শূন্য রয়েছে। এমডি নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের মধ্যে মতবিরোধও ছিল।
এ বিষয়ে ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেলিতা মেহজাবিনের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। ব্যাংকের পিআরও জানিয়েছে, নিয়োগ প্রস্তাবটি বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যালোচনাধীন।