আগস্ট ১৭, ২০২৬
Busimess

গ্যাসের তীব্র সংকটে গাজীপুরের শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক কারখানায় উৎপাদন ইউনিট বন্ধ রাখা হয়েছে, আবার কোথাও শিফট কমিয়ে সীমিত পরিসরে কাজ চলছে। এতে কর্মঘণ্টা কমে যাওয়ার পাশাপাশি ওভারটাইম বন্ধ হয়ে গেছে সাধারণ শ্রমিকদের। কাজ না থাকায় অনেক কারখানায় শ্রমিকদের অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে। এভাবে চলতে থাকলে উৎপাদন কমে গিয়ে বিদেশি ক্রয়াদেশ (অর্ডার) হারানো এবং কর্মী ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা করছেন মালিকেরা।

গত শনি ও রোববার (১৫ ও ১৬ আগস্ট) গাজীপুরের কয়েকটি শিল্প এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিশেষ করে ডাইং, ওয়াশিং ও বয়লার-নির্ভর কারখানাগুলো গ্যাসের অভাবে সবচেয়ে বেশি ভুগছে। কোনো কোনো কারখানা চাহিদার অর্ধেকেরও কম গ্যাস পাচ্ছে।

গাজীপুরে প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিল্পকারখানা রয়েছে, যার মধ্যে দুই হাজারের বেশি পোশাক কারখানা। এসব কারখানার চাকা সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাসের প্রয়োজন। তবে বর্তমানে অনেক কারখানায় গ্যাসের চাপ শূন্য থেকে ১ পিএসআই (প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে পাউন্ড) পর্যন্ত নেমে এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ডাইং বিভাগের শ্রমিকেরা গ্যাসের অপেক্ষায় বসে আছেন। সাদিকুল ইসলাম নামের এক শ্রমিক বলেন, ‘গ্যাসের চাপ না থাকায় গত তিন দিন ঠিকমতো কাজ করতে পারিনি। কারখানা থেকে শিফটভিত্তিক ছুটি দেওয়া হয়েছে। কাজ না থাকলে বেতন কমে যাবে, আবার চাকরি হারানোরও ভয় আছে।’ বাবলি খাতুন নামের আরেক শ্রমিক জানান, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে ওভারটাইম বন্ধ হয়ে গেছে। এতে তাঁদের মাসিক আয় অনেক কমে গেছে।

ওয়াশ পয়েন্ট লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিন বলেন, গ্যাসের অভাবে উৎপাদন সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। শ্রমিকদের বেতন দেওয়া এবং ক্রয়াদেশ সময়মতো সরবরাহ করা নিয়ে তাঁরা দুশ্চিন্তায় আছেন। সাদমা গ্রুপের পরিচালক সোহেল রানা জানান, স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য কমপক্ষে ৩ পিএসআই চাপ প্রয়োজন হলেও তাঁরা তা পাচ্ছেন না। স্পারো অ্যাপারেলসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফুল রেজাও লোডশেডিং ও গ্যাস সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কথা জানান।

তিতাস গ্যাসের গাজীপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (ডিস্ট্রিবিউশন) সাইফুজ্জামান সানি বলেন, ‘কেন্দ্রীয়ভাবে সরবরাহ কম থাকায় আমরা চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস দিতে পারছি না। বিশেষ করে লাইনের শেষ প্রান্তে থাকা কারখানাগুলো বেশি সমস্যায় পড়ছে। পরিস্থিতি উন্নতির জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।’

গাজীপুর শিল্প পুলিশের (জোন-২) পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, গ্যাসের চাপ কম থাকায় ইতিমধ্যে রিপন গার্মেন্টস নামের একটি কারখানা সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রেখে শ্রমিকদের ছুটি দিয়েছে। আরও কিছু কারখানায় উৎপাদন কমে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।