প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন, দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার এক গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। এই অশুভ তৎপরতায় প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীও লিপ্ত থাকতে পারে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট (কেআইবি) মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘দেশে কোনো সমস্যা নেই-এমন দাবি আমরা করছি না। তবে জনগণের সমস্যাকে পুঁজি করে কোনো বিশেষ গোষ্ঠী যদি দেশে অরাজকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালায়, তবে সরকার তা কঠোর হস্তে দমন করবে। দেশের আইনে স্পষ্টভাবে বলা আছে কীভাবে অরাজকতা নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। প্রত্যেকেরই নিজ নিজ সীমার মধ্যে থাকা উচিত।’
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের চলমান ‘লংমার্চ’ এবং সরকারের পদত্যাগের দাবির প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘স্বৈরাচারের মধ্যে যেমন কিছু গুপ্তচর ছিল, তেমনি এখন এই গুপ্তদের মধ্যে কোনো স্বৈরাচার লুকিয়ে আছে কি না - তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এই অপশক্তিগুলোই মূলত পতিত স্বৈরাচারকে পুনর্বাসনের পথ খুঁজছে।’
উল্লেখ্য, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে আজই ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ শুরু করেছে ১১ দলীয় ঐক্যজোট। ওই জোটের নেতারা বর্তমান সরকারকে ‘ব্যর্থ’ আখ্যা দিয়ে পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। জামায়াতের নাম সরাসরি উচ্চারণ না করলেও তারেক রহমান তাদের কর্মকাণ্ডকে ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ বলে অভিহিত করেন।
বিগত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে বিজয়ের কৃতিত্ব সাধারণ মানুষকে দিয়ে তিনি বলেন, ‘২০২৪-এর আন্দোলনের প্রকৃত মাস্টারমাইন্ড এ দেশের জনগণ। বিএনপি কখনোই লুকিয়ে রাজনীতি করেনি। অতীতেও সংকটের সময় বিএনপি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে, ভবিষ্যতেও দেবে।’
সরকার পরিচালনার চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি। বর্তমানে জ্বালানি সংকট দেশের বড় সমস্যা। তবে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই ও নিরাপদ জ্বালানি খাত নিশ্চিতে আমরা দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।’
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ‘শহীদ জিয়ার বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং বেগম জিয়ার নারী শিক্ষার প্রসার এ দেশের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কোনো আদালত বা আইন দিয়ে এই সত্য মুছে ফেলা সম্ভব নয়।’
তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিএনপি একটি মুক্ত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর, যেখানে মানুষ ভয়হীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সালাহউদ্দিন আহমেদ। সভা সঞ্চালনা করেন দলের প্রচার সম্পাদক ও প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
সভার শুরুতে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত ও দলের প্রয়াত নেতাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গৃহীত পাঁচ দিনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি আজকের এই সভার মাধ্যমে সমাপ্ত হলো।