সোমবার , ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অর্থনীতি

৪ শতাংশের নির্দেশ, মানছে না বেশির ভাগ ব্যাংক

Writer
বাংলা পত্রিকা ডেস্ক
27 Sep, 2026 12:19 PM 6 বার পঠিত 1 মিনিট পড়ার সময়

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ ও আমানতের সুদহারের গড় ব্যবধান (স্প্রেড) সর্বোচ্চ ৪ শতাংশে রাখার নির্দেশ দিলেও তা মানতে পারছে না বেশির ভাগ ব্যাংক। ব্যাংক খাতের ব্যবসা ও শিল্পের প্রবৃদ্ধি সচল রাখতে নির্দেশ দেওয়া হলেও জুলাই মাসে ক্রেডিট কার্ড ও ভোক্তাঋণ বাদ দিয়ে সামগ্রিক স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৫৯ শতাংশে, যা জুন মাসে ছিল ৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে ব্যাংক খাতে আমানতের গড় সুদহার ছিল ৬ দশমিক ২১ শতাংশ এবং ঋণের গড় সুদহার ছিল ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ। এর আগে জুনে প্রকাশিত এক সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, অনেক ব্যাংক আমানতের তুলনায় ঋণের সুদহার অতিরিক্ত নির্ধারণ করায় স্প্রেড বেড়ে যাচ্ছে। সে কারণেই ক্রেডিট কার্ড ও ভোক্তাঋণ ছাড়া অন্যান্য ঋণের ক্ষেত্রে স্প্রেড ৪ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবমতে, জুলাইয়ে সব ধরনের ঋণের গড় সুদহার ছিল ১১ দশমিক ৮১ শতাংশ এবং সামগ্রিক স্প্রেড দাঁড়ায় ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ। শুধু ক্রেডিট কার্ড বাদ দিলে এই স্প্রেড হয় ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

ব্যাংকগুলোর ধরন অনুযায়ী স্প্রেডের চিত্রে বড় ধরনের ব্যবধান দেখা গেছে :

  • রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক : ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের গড় স্প্রেড ছিল ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের স্প্রেড সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ১ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

  • বেসরকারি ব্যাংক : বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর গড় স্প্রেড ছিল ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এবি ব্যাংক (০.৩৩%), মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (৩.৫৮%) ও মেঘনা ব্যাংক (৪.০০%) ছাড়া বাকি সব ব্যাংকের স্প্রেডই নির্ধারিত ৪ শতাংশের ওপরে।

  • বিদেশি ও বিশেষায়িত ব্যাংক : বিদেশি ব্যাংকগুলোর গড় স্প্রেড ছিল সর্বোচ্চ ৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

তবে ব্যাংকাররা বলছেন, হিসাব পদ্ধতির পার্থক্যের কারণেই এই ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আলী খান জানান, সব ব্যাংকের জন্য অভিন্ন পদ্ধতি নির্ধারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং বিকল্প পদ্ধতিতে হিসাব করলে তাদের স্প্রেড ৪ শতাংশের নিচেই থাকে। অন্যদিকে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, বর্তমানে ‘গ্রস’ ভিত্তিতে হিসাব না করে ‘নিট’ ভিত্তিতে হিসাব করলে অধিকাংশ ব্যাংকের স্প্রেডই সীমারেখার ভেতরে চলে আসবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে স্প্রেড ছিল ৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ, যা মার্চ-এপ্রিলে বেড়ে ৫ দশমিক ৭২ শতাংশে পৌঁছায় এবং জুলাইয়ে কিছুটা কমে ৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে অনেক আমানতকারী বেশি সুদের চেয়ে সময়মতো টাকা ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তাকে প্রাধান্য দিয়ে ব্যাংক পরিবর্তন করছেন। ফলে কিছু ব্যাংকে আমানতের খরচ কমলেও তারা ঋণের সুদ কমাচ্ছে না, যা স্প্রেড বাড়িয়ে দিচ্ছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নির্দেশিত ৪ শতাংশের সীমা প্রতিটি ব্যাংককে মেনে চলতে হবে, অন্যথায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগ: অর্থনীতি