সংঘাত বন্ধ করে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্রিকস জোটভুক্ত দেশগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই আহ্বান জানান। চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম সিসিটিভির বরাতে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
চলমান মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে শি জিনপিং বলেন, `এই যুদ্ধ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাধারণ স্বার্থ রক্ষা করে না। ওই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় চীন ব্রিকসের অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে একযোগে কাজ করতে বদ্ধপরিকর।'
ভাষণে চীনা প্রেসিডেন্ট ব্রিকস জোটকে 'গ্লোবাল সাউথ'-এর নেতৃত্বস্থানীয় প্ল্যাটফর্ম এবং উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর আত্মনির্ভরশীলতার মডেল হিসেবে অভিহিত করেন। জোটের সদস্য দেশগুলোকে উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও বেশি উৎসাহিত করার ওপর তিনি জোর দেন।
সিসিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী বছর ব্রিকসের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করবে চীন এবং দেশটিতে ১৯তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে বলে জানান শি জিনপিং।
ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত নিয়ে মূলত ব্রিকস জোট গঠিত। ২০০৯ সালে পশ্চিমা বিশ্বব্যবস্থার বিকল্প ও উদীয়মান অর্থনীতির শক্ত অবস্থান তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এই জোটে যাত্রা শুরু হয়েছিল।
বর্তমানে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি মানুষ ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোতে বাস করে এবং বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় এক-চতুর্থাংশই এই জোটের নিয়ন্ত্রণে। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সম্প্রসারণের পর সদস্য দেশগুলোর ভিন্ন ভিন্ন ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে নীতি নির্ধারণী ঐকমত্যে পৌঁছানো এখন জোটটির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধি দলের নিজস্ব নিরাপত্তার সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।