শনিবার , ২৯ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ

‘তৌহিদী জনতার’ বাধা পেরিয়ে সিলেটে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত

Writer
নিজস্ব প্রতিবেদক
28 Aug, 2026 09:42 PM 3 বার পঠিত 1 মিনিট পড়ার সময়

ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের বিয়ানীবাজারে সব নাটকীয়তা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে সোনাই নদীর বুকে বসেছিল ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচের মেলা। ‘তৌহিদী জনতার’ ব্যানারে একটি পক্ষের বিরোধিতার মুখে গত এক সপ্তাহ ধরে এই আয়োজন নিয়ে শঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত উৎসবের আমেজেই সম্পন্ন হয়েছে ৩০তম এই প্রতিযোগিতা।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে বিয়ানীবাজারের ‘লাউতা-বাহাদুরপুর যুব সমাজ’-এর আয়োজনে সোনাই নদীতে এই নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়। গ্রামীণ এই ঐতিহ্য দেখতে নদীর দুই তীরে ভিড় করেছিলেন হাজার হাজার উৎসুক মানুষ। বৈঠার ছন্দ আর মাঝিদের সমবেত ‘হেঁইও রে হেঁইও’ শব্দে পুরো এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধর্মীয় ও নীতিগত কারণ দেখিয়ে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবিতে তৌহিদী জনতার ব্যানারে একটি পক্ষ সোচ্চার হলে আয়োজকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে কয়েক দফা দৌড়ঝাঁপ চলে। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশে জনপ্রতিনিধিরা উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সমঝোতায় পৌঁছান। কোনো নির্দিষ্ট শর্ত ছাড়াই ঐতিহ্য রক্ষার স্বার্থে প্রতিযোগিতাটি করার অনুমতি দেওয়া হয়।

লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আসলে একটি পক্ষ না বুঝে বিরোধিতা করতে চেয়েছিলেন। আমরা দুই পক্ষকে নিয়ে বসে বুঝিয়েছি যে এটি আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য, কোনো ধর্মীয় সংঘাতের বিষয় নয়। শেষ পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশেই আয়োজনটি সম্পন্ন হয়েছে।’

এবারের প্রতিযোগিতায় সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা থেকে আসা তিনটি সুসজ্জিত নৌকা অংশ নেয়। নৌকাগুলোর নাম ছিল ‘স্বাধীন বাংলা’, ‘বাঘ’ ও ‘পাগলা নাও’। গতির এই লড়াইয়ে নৌকাগুলোর মাঝিদের সেয়ানে সেয়ানে টক্কর দর্শকদের মধ্যে বাড়তি রোমাঞ্চ তৈরি করে। নদীর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ হাততালি ও চিৎকারে মাঝিদের উৎসাহ দেন।

যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নদী ও তীরের বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।

বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, ‘নৌকাবাইচ গ্রামীণ লোকজ সংস্কৃতির অংশ। এটি বাধা দিয়ে আটকানোর কিছু নেই। স্থানীয়ভাবে আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হয়েছে। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা রেখেছিলাম এবং সাধারণ মানুষ অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে এটি উপভোগ করেছেন।’

আবহমান বাংলার ঐতিহ্য রক্ষায় এমন আয়োজন প্রতিবছর অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও মেলায় আসা দর্শনার্থীরা। ওপার থেকে আসা এক বৃদ্ধ দর্শক বলেন, ‘এই বাইচ দেখার জন্য কয়দিন ধরে চিন্তায় ছিলাম হবে কি না। শেষ পর্যন্ত নৌকা ভাসল, মনটাও শান্তি পেল।’

ট্যাগ: সারাদেশ