রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ খুঁজতে গিয়ে নিহত মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর সঙ্গে অদিত কর নামের এক যুবকের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এনেছে পুলিশ। পছন্দের মানুষ অদিতের সঙ্গেই বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল আগামীর। কিন্তু মা-বাবা আর একমাত্র ভাইয়ের সঙ্গে তাঁকেও প্রাণ হারাতে হলো দুর্বৃত্তদের হাতে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানাতে এই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।
পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ বলেন, ‘আগামী চক্রবর্তীর সঙ্গে অদিত করের বিয়ের কথা চূড়ান্ত ছিল। চার খুনের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমরা অদিতকে ডেকেছিলাম এবং তাঁর সঙ্গে কথা বলেছি। অদিত জানিয়েছেন, গত ২১ ও ২২ আগস্ট (শুক্রবার ও শনিবার) আগামীর ফোন বন্ধ পেয়ে তিনি কয়েকবার ওই বাড়ির সামনে গিয়েছিলেন। সেখানে বসে থাকা কয়েকজন প্রতিবেশী নারীর সঙ্গে তিনি কথাও বলেন।’
পুলিশ কমিশনার আরও জানান, ‘অদিতের দাবি অনুযায়ী, প্রতিবেশীরা তাঁকে সঠিক তথ্য দেননি বরং বিভ্রান্ত করেছেন। আগামীরা সপরিবারে কোথাও বেড়াতে গিয়ে থাকতে পারেন বলে তাঁকে জানানো হয়েছিল। আমরা এখন খতিয়ে দেখছি প্রতিবেশীরা কেন এমন তথ্য দিয়েছিলেন।’
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অদিত কর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন। অন্যদিকে আগামী চক্রবর্তী সম্প্রতি কারমাইকেল কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। দুজনের মধ্যে দীর্ঘদিনের জানাশোনা ও প্রেমের সম্পর্ক ছিল।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর গত রোববার অদিত কর তাঁর ফেসবুক আইডিতে আগামীর সঙ্গে তোলা একটি ছবি পোস্ট করেন। আবেগঘন সেই ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমার শেষ সম্বলটাও শেষ হয়ে গেল। এটা (১৯ আগস্ট) বুধবারের ছবি। খুব করে বলল সেদিন, “আমরা তো কখনো কাপল পিক তুলি নাই, চলো আজকে তুলি।” চিন্তা করো না আগামী, আমি তোমার সঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকব।’ তবে ওই পোস্টের কিছু সময় পর থেকেই অদিতের ফেসবুক আইডিটি ডিঅ্যাক্টিভেট বা নিষ্ক্রিয় পাওয়া যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার নিজ বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নগরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ খুনিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।