ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে তিতাস নদীর শান্ত জল আজ যেন উত্তাল হয়ে উঠেছিল বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দে। মাঝিদের সমবেত ‘হেইয়া হো’র ধ্বনি আর নদীর দুই পাড়ে সমবেত লাখো দর্শকের গগনবিদারী চিৎকারে তৈরি হয়েছিল এক অন্যরকম উৎসবমুখর পরিবেশ। গ্রামবাংলার চিরায়ত ঐতিহ্যকে রাঙিয়ে তুলতে তিতাস নদীতে আজ শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বর্ণাঢ্য নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা।
উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের কুচনী-বুড্ডা ও শাহবাজপুর ইউনিয়নের ক্ষমতাপুর এলাকার মাদকবিরোধী তরুণ শক্তি সংগঠনের উদ্যোগে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বুড্ডা নদীর বাঁকে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়। তীর ছাড়াও নদীতে ভাড়া করা শত শত নৌকায় চড়ে দর্শনার্থীরা এই প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। বিশেষ করে নারীদের বিপুল উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
আয়োজক কমিটির সভাপতি ও নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনসুর আহমেদ জানান, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার ডাক দিতেই যুবসমাজকে নিয়ে এই আয়োজন। এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় শেখ বয়েজ ক্লাব, শাপলা বয়েজ ক্লাব, এক্তারপুরের মজিবুর রহমান, বুল্লার বাসু মিয়া ও শাহআলম মিয়ার নৌকাসহ বেশ কিছু দল।
প্রতিযোগিতায় ক্ষিপ্র গতিতে বৈঠা চালিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে ক্ষমতাপুরের ‘শাপলা বয়েজ ক্লাব’। দ্বিতীয় হয়েছে বুড্ডার ‘শেখ বয়েজ ক্লাব’ এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে বুল্লার বাসু মিয়ার নৌকা।
বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় আকর্ষণীয় সব পুরস্কার। প্রথম স্থান অধিকারী দল পুরস্কার হিসেবে পেয়েছে ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি বড় আকারের ষাঁড় গরু। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের দেওয়া হয়েছে যথাক্রমে ফ্রিজ ও টেলিভিশন। এ ছাড়া অংশগ্রহণকারী প্রতিটি নৌকার মালিককে সান্ত্বনা পুরস্কার প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। তিনি বলেন, “নৌকাবাইচ আমাদের শেকড়ের সংস্কৃতি। যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে এ ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিকল্প নেই।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আজম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লস্কর তপু এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আশরাফুল করিম রিপনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
প্রতিযোগিতা শেষে সন্ধ্যায় এক আনন্দঘন পরিবেশে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। তিতাসের পাড়ে বসা মেলার আমেজ আর নৌকাবাইচের এই আনন্দ উৎসব অনেক দিন মনে রাখবে সরাইলবাসী।