নারায়ণগঞ্জ শহরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক জামাল হত্যা মামলায় ১৫ বছর পর রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের সদস্য আজমেরী ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মনিরুল ইসলাম রঞ্জু ওরফে ‘গালপোড়া রঞ্জু’কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় আকাশ আহম্মেদ নামের আরেক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নাজমুন্নাহার সুমি এই রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা সবাই বর্তমানে পলাতক। একই মামলার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আরাফাত খান ও খোকন মিয়া নামে দুই আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মনিরুল ইসলাম রঞ্জু নারায়ণগঞ্জ শহরের আল্লামা ইকবাল রোড এলাকার কবির হোসেনের ছেলে। তিনি শহরের বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড, লাশ গুম, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত আজমেরী ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। আজমেরী ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত একেএম নাসিম ওসমানের ছেলে এবং শামীম ওসমানের ভাতিজা।
আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ২০১১ সালের ১৩ জুলাই ফতুল্লার পাগলা নয়ামাটি এলাকার বাসিন্দা অটোরিকশা চালক জামাল নিখোঁজ হন। এর পাঁচ দিন পর ১৮ জুলাই শহরের আমলাপাড়া এলাকার একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের ডাস্টবিন থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে র্যাব। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সখিনা বেগম বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আজ এই রায় প্রদান করেন। সাজাপ্রাপ্ত রঞ্জুকে ২০ হাজার টাকা এবং যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আকাশকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়েছে।
মামলার অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর খন্দকার আজিজুল হক বলেন, ‘আসামিরা সবাই দুর্ধর্ষ এবং পলাতক। তারা আজমেরী ওসমানের ছত্রচ্ছায়ায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত। পলাতক দুই সাজাপ্রাপ্ত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।’
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই আজমেরী ওসমান ও তার সহযোগীরা পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।