Busimess

নয়াদিল্লি: বর্তমান সময়টা ‘রিল’-এর। কয়েক সেকেন্ডের ভিডিওতে বিনোদন খুঁজে নেওয়া কিংবা দ্রুত জনপ্রিয় হওয়ার নেশায় বুঁদ হয়ে থাকা ‘জেন জি’ বা বর্তমান তরুণ প্রজন্মের জন্য এক বিশেষ সতর্কবার্তা ও পরামর্শ দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর স্পষ্ট কথা, দ্রুত সাফল্যের খোঁজে ‘শর্টকাট’ বেছে নেওয়ার প্রবণতা আসলে জীবনকে সংকীর্ণ করে দেয়। তিনি তরুণদের সোশ্যাল মিডিয়ার ভার্চুয়াল জগত থেকে বেরিয়ে এসে বাস্তব জীবনের লড়াই ও অভিজ্ঞতার পাঠ নেওয়ার আহ্বান জানান।

বুধবার নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের আত্মজীবনী ‘ট্রায়াম্ফ অব দ্য ইন্ডিয়ান রিপাবলিক: মাই লাইফ, মাই স্ট্রাগলস’ (Triumph of the Indian Republic: My Life, My Struggles)-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদি যখন তরুণদের ‘রিল’ আসক্তি নিয়ে কথা শুরু করেন, তখন পুরো অডিটোরিয়াম হাততালিতে ফেটে পড়ে। বর্তমান প্রজন্মের জীবনযাত্রার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "আমরা এখন শর্টকাটের যুগে বাস করছি। কিন্তু মনে রাখতে হবে, শর্টকাট আপনার জীবনকেও ছোট (শর্ট) করে দেবে।" মোদির মতে, জীবনের প্রকৃত শিক্ষা সোশ্যাল মিডিয়ার ছোট ভিডিওতে নেই, বরং রয়েছে অন্যের দীর্ঘ পথচলা এবং তাঁদের কঠোর পরিশ্রমের মধ্যে। শর্টকাট মানুষকে সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে পিছিয়ে দেয় বলে তিনি সতর্ক করেন।

তরুণ প্রজন্মকে বই পড়ার, বিশেষ করে সফল ব্যক্তিদের আত্মজীবনী পড়ার পরামর্শ দিয়ে মোদি বলেন, "আত্মজীবনী কেবল একজন ব্যক্তির জীবনকাহিনী নয়, এটি একটি সময়ের জীবন্ত দলিল। যাঁরা ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে নিজের জীবন দিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রকে দেখেছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ইতিহাসকে জানার এক অনন্য সুযোগ তৈরি হয় আত্মজীবনী পড়লে।"

তিনি আরও যোগ করেন, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের জীবনসংগ্রাম তরুণদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে। একজন সাধারণ প্রেক্ষাপট থেকে উঠে এসে দেশের সর্বোচ্চ পদে আসীন হওয়ার পেছনে যে ধৈর্য ও নিষ্ঠা প্রয়োজন, তা কোনো ‘শর্টকাট’ দিয়ে সম্ভব নয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল কনটেন্টের ভিড়ে গভীর চিন্তাভাবনা বা দীর্ঘস্থায়ী জ্ঞান অর্জনের পথ রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। আত্মজীবনী পাঠের মাধ্যমে তরুণরা বুঝতে পারবে কীভাবে প্রতিকূলতা জয় করতে হয়। তিনি মনে করেন, অন্যের ব্যর্থতা এবং সাফল্য থেকে শিক্ষা নিলে নিজের জীবনের পথ চলা সহজ হয় এবং ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে।

নয়াদিল্লির এই অনুষ্ঠানে রামনাথ কোবিন্দের জীবন ও তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই আত্মজীবনীটি কেবল পাঠ্য হিসেবে নয়, বরং আগামীর ভারতের কারিগরদের জন্য একটি দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, মোদির এই বার্তা মূলত প্রযুক্তিনির্ভর অস্থির প্রজন্মের প্রতি এক অভিভাবকসুলভ পরামর্শ। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আসক্ত তরুণ সমাজকে মূলধারার জ্ঞানচর্চায় ফিরিয়ে আনাই ছিল তাঁর বক্তব্যের মূল লক্ষ্য।