ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর আনা সব অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে দাবি করেছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের ঠিক আগে সংবাদ সম্মেলন করে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চলছে। তবে নির্বাচনে জয়-পরাজয় যা–ই হোক না কেন, তিনি সেই ফলাফল হাসিমুখে মেনে নেবেন।
গতকাল বুধবার রাতে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফয়সল আমীন এসব কথা বলেন। মূলত জামায়াতের প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেনের সাম্প্রতিক বিভিন্ন অভিযোগের জবাব দিতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির এই প্রার্থী অভিযোগ করেন, ১১ দলীয় ঐক্যজোট ও জামায়াতের নেতা-কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ তুলে নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন। কখনো মিথ্যাচার, আবার কখনো হামলা-হুমকির ধুয়া তুলে নির্বাচনী পরিবেশ ঘোলাটে করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের কয়েকটি ইতিমধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মির্জা ফয়সল আমীন আশা প্রকাশ করে বলেন, এসব অপপ্রচারে ভোটাররা বিভ্রান্ত হবেন না। এলাকার সব শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
ভোটারদের টাকা দিয়ে প্রভাবিত করার যে অভিযোগ প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে তোলা হয়েছে, তা–ও দৃঢ়তার সঙ্গে নাকচ করে দেন বিএনপির এই প্রার্থী। তাঁর ভাষ্য, ‘বিএনপি এ ধরনের কোনো হীন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নয়। বরং একই ধরনের অভিযোগ তাদের (প্রতিপক্ষ) বিরুদ্ধেই রয়েছে।’
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, ‘গণতন্ত্রের মূল কথাই হলো জনগণের মতামতকে সম্মান জানানো। তাই নির্বাচনের ফলাফল মেনে না নেওয়ার অর্থ হলো গণতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাস না করা। জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে যে রায় দেবেন, ফলাফল যা-ই হোক আমি তা মেনে নেব।’
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এই উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের এমন পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে নির্বাচনী মাঠে বেশ উত্তাপ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। সব জল্পনা-কল্পনা শেষে এখন কেবল ভোটগ্রহণের অপেক্ষা। তবে সাধারণ ভোটার ও সচেতন মহলের মতে, এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখা, যাতে সবাই নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোটটি দিতে পারেন।
